আজ বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০ ইং

ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান: এক মানববন্ধুর জীবনগাঁথা

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-০৯-২৮ ১৯:২৬:২২




|| শুয়াইব আহমদ ||
ছোটবেলায় স্কুল থেকে শুরু করে ঘরে বাইরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামে কবিতার দু’টো লাইনের চর্চা খুব বেশি দেখতাম। লাইন দুটো কাপড়ে লিখে সুন্দর করে ফ্রেমে বাঁধানো অবস্থায় অনেকের ঘরের দেয়ালে শোভা পেতো। জাতীয় কবির লেখা কবিতার লাইন দু’টো হচ্ছে-

এমন জীবন তুমি করিও গঠন
মরণে হাঁসিবে তুমি কাঁদিবে ভুবন

জাত-ধর্মে-বর্ণে নয় কর্মেই মানুষের পরিচয়। কবি আবুল হাসেমের সেই বিখ্যাত উক্তি ‘নহে আশরাফ যার আছে শুধু বংশের পরিচয়, সেই আশরাফ জীবন যাহার পূণ্য কর্মময়’।মানুষের যশ, গৌরব, সম্মান, প্রতিপত্তি সবই নির্ভর করে কর্মের ওপর, জন্মের ওপর নয়।

ছোটবেলায় বাবা-মা, শিক্ষক পরিবার থেকে পাওয়া সেই সুন্দর জীবন গঠনের শিক্ষার লেশমাত্র আজ আমাদের অনেকের বাস্তব জীবনে একেবারে যে বিদ্যমান নয়- এমনটি নয়। কিছু কিছু মানুষ আছেন যাদের দেখলে কবি নজরুল এর সুন্দর জীবন গঠনের কবিতার সাথে মিলে যায়। যাদের সমৃদ্ধময় জীবনগল্পে আত্মঅহমিকার লেশমাত্র নাই। বিনয়ী, মৃদুভাষী, সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা, আদর্শিক দৃঢ়তা আর বিচক্ষণতার মধ্য দিয়েই তারা সকল মহলে পরিচিত লাভ করেন। হয়ে উঠেন একজন পরোপকারী আদর্শিক মানুষ।

আজ তেমনি একজন মানুষের গল্প আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই। যার সাথে পরিচয়ের সূত্রপাত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর প্রতি মানুষের কৃতজ্ঞতাবোধ দেখে। যখন তাঁর বিষয়ে একটু খোঁজখবর নিলাম, যাকেই জিজ্ঞেস করি সবাই প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ভাবলাম লোকটাকে একবার কাছে থেকে দেখে আসি। অবশেষে সেই মহান ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ হয়েছিল। দীর্ঘক্ষণ পাশে বসে কথার ছলে তাঁর জীবনের সুখদুঃখের গপ্প শোনার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। ভালো মানুষ আমাদের জীবন চলার পথে অনুপ্রেরণার উৎস। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এর লেখা ‘কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে, দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে’। আসলেই মানুষের জীবনে সফলতা পেতে হলে অনেক চড়াই-উৎরাই পার করে এগিয়ে যেতে হয়।

বলছিলাম বাংলাদেশ দূতাবাস কাতারে নিযুক্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শ্রম কাউন্সেলর পরোপকারী কর্তব্যনিষ্ঠ ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমানের কথা। যিনি সকলের কাছে মুস্তাফিজ ভাই বলে পরিচিত। দূতাবাসে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা ইতিপূর্বে শুধুমাত্র নিজের কর্মদক্ষতা, কর্মতৎপরতা ও প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণে নিরলস কাজ করে সবার কাছে অসম্ভব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়া মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ভয়কে পিছনে ফেলে তিনি ছুটে যাচ্ছেন অসহায় প্রবাসীদের দ্বারে দ্বারে। শুধু কাতারে নয় বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে তিনি কর্মস্থলে যথেষ্ট সম্মান ও সাধারণ মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছেন। আজও সেসব কর্মস্থলের সহকর্মীরা তাঁর মানবিক কাজকর্মের স্মৃতিচারণ করেন।

মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় ছেলে ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান। গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম মিরসরাইয়ের মিঠানালা গ্রামে। স্থানীয় বামণসুন্দর এফ.এ উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। মিরসরাই ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অর্জন করেন একই রকম ফলাফল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স পরীক্ষায় দুটোতেই হন প্রথম শ্রেণিতে প্রথম । সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হন ২০তম বিসিএস পরীক্ষায়।

পরবর্তীতে মানবহিতৈষী ড.  মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। সেখানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের পর দেশটির সরকারের আরেকটি বিশ্ববিখ্যাত পোস্ট ডক্টরাল কোর্স  Japan Societz for the Promotion of Science এর আওতায় জাপানের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় কিয়োটায় ২ বছর ভিজিটিং প্রফেসার হিসেবে গবেষণা কার্যক্রম সম্পাদনা করেন।

পরিবারের বড় ছেলে হিসেবে ছাত্রজীবনে কঠোর পরিশ্রমী ছিলেন মুস্তাফিজুর। টিউশনি করে নিজের লেখাপড়ার পাশাপাশি পরিবারের ভরণপোষণেও সহযোগিতা করতে হতো। দারিদ্র্যের সাথে সংগ্রাম করে লেখাপড়ার পাশাপাশি কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন নিজ পরিবারের দায়িত্ব।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগে চাকরি হলেও নানা সমস্যার কারণে সেখানে যোগদান করতে পরেননি তিনি। পরবর্তীতে তিনি ২০০১ সালে মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অতিরিক্ত সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৮ সালে ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান খাগড়াছড়ি মাটিরাঙা উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার জনসংখ্যা ও আয়তনের দিক থেকে দ্বিতীয় বৃহত্তম। এ উপজেলায় উপজাতি ও অ-উপজাতি মিলে প্রায় দেড় লক্ষাধিক জনগোষ্ঠির বসবাস। ড.মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান সেখানে যোগদানের পর পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শিক্ষার মূলস্তম্ভ প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেন এবং শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কাজে নিরলস আত্মনিয়োগ করেন তিনি ।

মূলত কর্মস্থল দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় হওয়ার কারণে সেখানকার স্কুলগুলোতে কর্মরত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতসহ নানাবিধ সমস্যার কথা উনাকে প্রতিনিয়ত শুনতে হতো। কর্তব্যনিষ্ঠ ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার দিয়ে সাধ্যানুযায়ী সমাধানের মাধ্যমে তাদের উৎসাহ উদ্দীপনা জোগাতেন। তাঁর অফিস ও বাসার দরজা সবসময়ই সবার জন্য ছিলো উন্মুক্ত । এমনকি সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কেউ সমস্যা নিয়ে হাজির হলে তিনি ফিরিয়ে দিতেন না। প্রাথমিক শিক্ষকদের মাসিক সমন্বয় সভায় তিনি সবসময় উপস্থিত থাকতেন।

তৎকালীন মাটিরাঙা উপজেলায় ৭৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিলো। সরকার নির্ধারিত প্রতিমাসে স্কুল পরিদর্শনের নির্দিষ্ট সংখ্যা থাকলেও তিনি এর চেয়ে বেশি স্কুল পরিদর্শন করতেন।  সেই সময়ে যারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভালো ফলাফল করতো তাদের জন্য উপজেলা পর্যায়ে কোন সংবর্ধনার আয়োজন ছিলো না। তিনিই সেটা সর্বপ্রথম প্রচলন করেন। মূলত তাঁর লক্ষ্য ছিলো শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়নের।

সবকিছু মিলিয়ে সকলের সহযোগিতায় তিনি মাটিরাঙা উপজেলার শিক্ষার মানকে ভালো পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। যার দরুন পাহাড়ের ২৫টি উপজেলার মধ্যে মাটিরাঙা উপজেলার ফলাফল সবচাইতে ভালো হতো। সেই সময় দেশের শতভাগ ভর্তি ও ঝরে পড়া রোধ এই ক্যাটাগরিতে মাটিরাঙা উপজেলার একটি স্কুল সারাদেশের শ্রেষ্ঠ স্কুল নির্বাচিত হয়। অল্প সময়ে কর্মদক্ষতা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে তিনি কর্মস্থলে সর্বসাধারণের কাছে অতি জনপ্রিয় একজন ব্যক্তি হিসেবে সুপরিচিতি হয়ে উঠেন।

ছোটবেলাতেই পারিবারিক শিক্ষা ও শিক্ষকদের স্নেহ, কর্তব্যপরায়ণতা এবং পাঠ্য বইয়ের নৈতিক শিক্ষা তাঁর হৃদয় গহনে স্থান করে নিয়েছিলো। ২০১০ সালে তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ বহির্ভূত ক্যাটাগরিতে চট্টগ্রাম বিভাগের শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে ভূষিত হন।

মাটিরাঙায় ৩ বছর ৭ মাস সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন শেষে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি  রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হিসেবে যোগদান করেন। সেখানে পাহাড়িদের দ্বন্দ্ব, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের অন্তর্দ্বন্ধসহ নানাসমস্যার মধ্যে টিকে থাকাটা অনেকের জন্য কষ্টসাধ্য ছিল। নিজেকে সেখানে মানিয়ে নিয়ে দীর্ঘদিন সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান ।

শিক্ষানুরাগী ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান রাজস্ব কর্মকর্তা হওয়ার কারণে শিক্ষার উন্নয়নে তখন কাজ করার সুযোগ ছিলো না। ১০-১২ বছরের বাচ্চাদের যখন দারিদ্র্যতার কারণে লেখাপড়া না করে পাহাড়ে পাহাড়ে কাঠ কাটতে দেখতেন সেই দৃশ্য তাকে পীড়া দিতো। তখন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে পাহাড়ি শিশুদের সুশিক্ষা ও পাহাড়ে শিক্ষার আলো জ্বালাতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সহযোগিতায় অভিভাবক সমাবেশে এর মাধ্যমে লেখাপড়ার গুরুত্ব সবার সামনে তুলে ধরতেন এবং সেক্ষেত্রে তিনি অনেকটা সফলতাও লাভ করেন।

তৎকালীন রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সার্বিক তত্বাবধানে আজকের রাঙামাটি পাবলিক কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো। যে প্রতিষ্ঠানের জমি নির্ধারণ থেকে একটি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করতে ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমানের নিরলস পরিশ্রমের কথা অনস্বীকার্য।

সেসময়ে সেখানে কোন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলও ছিলো না। জেলা প্রশাসকের আন্তরিক প্রচেষ্টায় সেখানে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। স্কুলটি প্রতিষ্ঠায় ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান যথেষ্ট অবদান রাখেন।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হিসেবে তিনি ২ বছর দায়িত্ব পালন শেষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করে অত্যন্ত সততা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ‘স্পট ট্রেড লাইসেন্স’ কার্যক্রম প্রচলন করেন। সরাসরি প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থেকে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে জায়গাতেই ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করতেন। সেসময় দেশের অনেক জাতীয় পত্রিকায় বিষয়টি ঢালাওভাবে প্রচারিত হয়। কর আদায় বৃদ্ধির জন্য রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এবং কর প্রদানকারীদের উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে শ্রেষ্ঠ কর প্রদানকারী ও শ্রেষ্ঠ কর আদায়কারী হিসাবে বিভিন্ন জনকে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে সিটি মেয়র কর্তৃক সংবর্ধনা প্রদানের আয়োজন করেন। যে উদ্যোগ ছিলো ১৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রথম। তাঁর আন্তরিকতা, উদার মানসিকতা, কর্মদক্ষতা, কর্মতৎপরতা সবকিছু মিলিয়ে তিনি সিটি কর্পোরেশনের সকলের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। সকলেই তাকে আপন করে নিয়েছিলো।

মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতায় যেমনটি বলেছেন - ‘কারও মনে তুমি দিয়ো না আঘাত, সে আঘাত লাগে কাবার ঘরে’। আমার মনে হয় তা তিনি অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতেন। সদ্ব্যবহার, ভালো আচরণ যেন তাঁর শরীরের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে আছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে প্রায় ২ বছর সেখানে দায়িত্ব পালন শেষে তিনি ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাসে কাউন্সেলর শ্রম হিসেবে যোগদান করেন।

মানুষের কল্যাণের জন্য করা প্রতিটি কাজই সম্মানজনক। পবিত্র আল কোরআনে মহান আল্লাহ পাক বলেছেন - ‘ওয়ামা খালাকতুল জিন্না ওয়াল ইন্সা ইল্লা লিয়া’বুদুন।’ অর্থাৎ আমি মানব ও জিন জাতিকে শুধু আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি, এর বাইরে আর কোন উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করিনি। মানব জীবনের প্রতিটি কাজই ইবাদত যদি তা সে সঠিকভাবে পালন করে। আমরা যখন মানুষ ও মানবতার সেবায় কোনো কাজ করি তখন ইসলাম বলে- সেসময়ও আমরা মহান সৃষ্টিকর্তার সর্বোত্তম ইবাদত করছি।

মানবসেবার মহান ব্রত নিয়ে কাতারেও ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান তাঁর কর্মজীবন এগিয়ে নিতে থাকেন।
প্রবাসেও নিজ কর্মস্থলে শ্রমজীবী প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা আমলে নিয়ে দ্রুত সমাধানসহ নানা ধরণের মানবিক কাজের মধ্য দিয়ে খুব দ্রুত প্রবাসীদের আস্থাভাজন ও জনপ্রিয় হয়ে উঠেন বাংলাদেশ সরকারের এই কর্মচারী।

সম্প্রতিকালের বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসেও তিনি সংক্রমণের ধরাবাঁধাকে পেছনে ফেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শ্রমজীবী প্রবাসীদের পাশে রয়েছেন। এই মহাবিপর্যয়ের সময় ছুটে চলেছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেক প্রবাসী তাঁর কার্যক্রমে সন্তুষ্টির পাশাপাশি জানিয়েছেন কৃতজ্ঞতা।

কাতারস্থ বাংলাদেশ কমিউনিটি বিশিষ্ট ব্যাক্ত ও কাতারস্থ ঢাকা সমিতির সিনিয়র সহ সভাপতি প্রকৌশলী আলীম উদ্দিন বলেন, প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সংকটে কাতারের বিভিন্ন কোম্পানিতে কর্মরত বাংলাদেশিরা বেতন ভাতা নিয়ে উদ্ভট পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে কাউন্সেলর ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান স্ব শরীরে উপস্থিত হয়ে সমস্যা সমাধান করতেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন শ্রমিক ক্যাম্পে গিয়ে অসহায় প্রবাসীদের জন্য খাদ্যসামগ্রী পৌঁছাতেন। তিনি কাতারে সাড়ে চার লাখ প্রবাসী বাংলাদেশীর হৃদয় জয় করেছেন। কাতার প্রবাসী বাংলাদেশীদের কল্যাণে তাঁর কর্মগুলো আমার চল্লিশ বৎসরের কাতারে অবস্থানকালীন সময়ের বিরল ঘটনা।

নানা অপরাধে জড়িয়ে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি কাতারের জেলখানায় বন্দী আছেন। ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান দূতাবাসে যোগদানের পর সেখানকার জেলখানা নিয়মিত পরিদর্শন করতে শুরু করেন। জেলখানায় বন্দী বাংলাদেশী কয়েদীদের নানাবিধ সেবাসহ তাদের হাতে উপহার হিসেবে তুলে দেন বাংলা ভাষায় লিখিত মহামূল্যবান বই।

বই পড়লে আনন্দ, বুদ্ধি ও সক্ষমতা অর্জিত হয়। বই পড়তে হয় একাকী এবং তাতে অবসর ভরে ওঠে নির্মল আনন্দে। কারাগারের নির্জন কুটিরে একাকিত্বের সঙ্গী বাংলা ভাষায় লিখিত বিভিন্ন ধরনের গল্প, উপন্যাস, কবিতা, রাজনীতি, ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধুর উপর লিখিত বই পড়ার সুবিধা পেয়ে জেলখানায় বন্দী বাংলাদেশীরা হয়েছেন আনন্দিত। সেখানে সর্বপ্রথম ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান জেলখানায় বই বিতরণের এমন যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করায় ভূয়সী প্রশংসা করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাননীয় সচিব।

সদা পরোপকারী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের এই আমলার কাতারে অনিচ্ছাকৃত হত্যার দায়ে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত একজন আসামীর প্রাণরক্ষা করার উদ্যোগ সর্বমহলে হয়েছে প্রশংসনীয়। শিল্পী আক্তার নামের একজন অল্পবয়স্কা বাংলাদেশী নারী গৃহকর্মী কাতারি এক বৃদ্ধাকে হত্যার দায়ে দন্ডিত হলে দেশটির আদালত তাকে ফাঁসির আদেশ দেয়।

বিষয়টি ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমানের নজরে আসলে তিনি বিষয়টি আমলে নিয়ে শিল্পী আক্তারের সাথে সাক্ষাৎকালে সে জানায় হত্যাকান্ডটি ছিল অনিচ্ছাকৃত। তাই তিনি জেলখানার অন্ধকার চারদেয়ালে বন্দী মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত অল্পবয়স্কা শিল্পী বেগমের প্রাণ রক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। পাবলিক প্রসিকিউশনের সাথে যোগাযোড় করে জানতে পারেন সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় তাকে বাঁচানোর একমাত্র উপায় হলো বাদীপক্ষ যদি ক্ষমা করে দেয়। তিনি কোন উপায়ন্তর না দেখে সরাসরি বাদীপক্ষের পরিবারকে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানান। গৃহকর্মী শিল্পি আক্তার ও নিহত বৃদ্ধার বয়স বিবেচনায় তাকে ক্ষমা করার অনুরোধ করেন ওই পরিবারকে। তাঁর অনুরােধে সাড়া দিয়ে বাদীপক্ষ দুই লক্ষ কাতারি রিয়াল দাবি করে এবং দাবিকৃত অর্থ পেলে ক্ষমা করে দেয়ার আশ্বাস প্রদান করেন ।

কাতারে যেসমস্ত কর্মী দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন তাদের আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আর্থিক ক্ষতিপুরণ প্রাপ্তির সুযোগ রয়েছে, যা ক্ষেত্র বিশেষে বাংলাদেশের টাকায় ৪৬ লক্ষ থেকে ৯২ লক্ষ টাকা । দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণকারীদের আর্থিক ক্ষতিপুরণ মামলা পরিচালনার জন্য ল’ ফার্ম নিযুক্ত রয়েছে। কিন্তু অনেক মামলা অসম্পূর্ণ থাকায় মৃত ব্যক্তির পরিবার ও দেশ সেই সুযোগের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। দেশ ও জাতির কল্যাণে ক্ষতিপুরণ মামলা নিষ্পত্তিতে বিলম্বের কারণসমূহ উদঘাটনের জন্য ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান নিয়মিত ল’ ফার্ম পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে দেখা যায় পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রাপ্তিতে বিলম্ব, কোম্পানীগুলো কর্তৃক আদালতের আদেশ প্রতিপালনের দীর্ঘসূত্রিতা এবং ল’ ফার্ম কর্তৃক প্রত্যাশিত উদ্যোগের অভাবের কারনে মামলাগুলো দীর্ঘ হচ্ছে। মামলা নিষ্পত্তিতে অনাহুত বিলম্ব নিরসনে তিনি নিয়মিত ল’ ফার্ম পরিদর্শনের মাধ্যমে তাদেরকে উদ্বুদ্ধকরণ, দূতাবাস ল’  ফার্ম এবং মৃত কোম্পানীর মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সভার প্রচলন এবং দ্রুত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রাপ্তির উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

কাতার হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যেসমস্ত বাংলাদেশি কর্মী মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার হয় তাদের সাধারণত বিমানবন্দর থেকে সরাসরি দেশটির কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এতে করে শুধুমাত্র মাদক বহনকারী কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হয় না বরং দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুন্ন হয়। এই প্রেক্ষাপটে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ হতে মাদক পরিবহনের পদ্ধতিসমূহ চিহ্নিত করে তা বন্ধ করার উপায় উদ্ভাবনের জন্য কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এই সর্বপ্রথম ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান তাঁর অন্যান্য সহকর্মীদের সাথে নিয়ে মাদকের অপরাধে জেলখানায় বন্দী সকল বন্দীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সুপারিশ সহকারে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেন।

দেশটিতে ক্রমবর্ধমান হারে বাংলাদেশী কর্মীদের বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার কারনে কাতার সরকার গত বছর সাময়িকভাবে বাংলাদেশ হতে সকল ধরণের কর্মী (নারী গৃহকর্মী ব্যতিত) অভিবাসন স্থগিত করেছিল । এ প্রেক্ষাপটে কর্মীদের সচেতন করতে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ বিবেচনায় তাদের করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে একটি লিফলেট তৈরী করে জনসচেতনতার জন্য বিতরণ করা হয়।

এছাড়াও তিনি দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতি গ্রহণ করেন। কাতারের যে সমস্ত এলাকায় মানি এক্সচেঞ্জ শাখা ছিলনা সে সমস্ত এলাকায় শাখা স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলােকে অনুরোধ ও উৎসাহিত করেন। যার ফলে সেখানে শাখা স্থাপিত হয়েছে এবং কর্মীদের রেমিটেন্স প্রেরণে ভোগান্তি লাঘব হয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ সোমাল ও রাজ লাফান নামক দুটি স্থান কাতারের সর্ব উত্তরে অবস্থিত। যেখানে প্রায় আট থেকে দশ হাজার বাংলাদেশী কর্মীর বসবাস। কর্মীর সংখ্যা বিবেচনায় মানি এক্সচেঞ্জের শাখা স্থাপন লাভজনক হবেনা বিধায় কোন প্রতিষ্ঠান সেখানে তাদের শাখা স্থাপনে আগ্রহী হয়নি । একাধিকবার অনুরোধ ও সুসম্পর্ক স্থাপনের ফলে গাল্ফ এক্সচেঞ্জ উক্ত এলাকায় দুটি শাখা স্থাপন করে। কর্মীরা যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানে কাজ করে সেমস্ত প্রতিষ্ঠান সমূহকে তাদের কর্মীদের রেমিটেন্স প্রেরণে সহায়তা করার জন্য নিকটবর্তী রেমিটেন্স প্রেরণকারী এক্সচেঞ্জে অথবা ব্যাংকে যাতায়াতের জন্য গাড়ি প্রদানের অনুরোধ করা হলে তারা ইতিবাচক সাড়া দেয়। বর্তমানে এসব কর্মীরা জানান, তারা যাতায়াতের জন্য গাড়ি পাচ্ছেন এবং রেমিটেন্স প্রেরণে তাদের কোন সমস্যা নেই ।

২০১৯ সালে প্রথমবারের মত কাতার হতে বাংলাদেশে প্রেরিত রেমিটেন্স ১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। অর্থবছর হিসেবে ২০১৬-১৭ সালে রেমিটেন্সের পরিমাণ ছিল ৫৬৭.০২ মিলিয়ন ইউএস ডলার যা বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৯ সালে দাঁড়ায় ১১০৬.০৩.২ মিলিয়ন ইউ.এস ডলার ।

ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান সম্পর্কে বাংলাদেশ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তি ও কাতার কমার্শিয়াল ব্যাংকের সিনিয়র ম্যানেজার মোঃ শাহদাত হোসেন বলেন, মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে কাউন্সেলর ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান তাঁর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রবাসীদের পাসে দাঁড়িয়েছেন। করোনাকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন স্ব স্ব দূতাবাসের প্রতি, আমি দেখেছি কাউন্সেলর ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান কাতারে প্রবাসীদের জন্য তাই করার চেষ্টা করেছেন। তিনি হচ্ছেন প্রবাসীদের জন্য সেবক এবং তাঁর সেবাপ্রদান কাতার দূতাবাসের ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

কাতার প্রবাসী সিলেটের কানাইঘাট এর খায়রুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনুভূতি প্রকাশ করে লিখেছেন -
আলহামদুলিল্লাহ, আমার কাতার আইডির সমস্যা সমাধানে সিআইডি বৈঠকে আজ (১৬ জুলাই) আমাকে উপস্থিত রেখে কাতার প্রবাসীদের কর্ণধার ও প্রবাস জীবনের আমার প্রিয় অভিভাবক বাংলাদেশ দূতাবাসের মাননীয় শ্রম কাউন্সেলর ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান শত প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে সমস্যার সমাধান করে দিলেন। তিলে তিলে নিঃশেষ হয়ে যাওয়া-অন্ধকারচ্ছন্ন জীবন থেকে আলোর পথে এলাম। আমি আজ থেকে আপনার কাছে চিরঋণী! আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা স্যার।

আরেক কাতার প্রবাসী চট্টগ্রামের রাহিন আহমদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে উনার অনুভূতি প্রকাশ করে লিখেছেন- ব্যাক্তিগত একটা কাজে বাংলাদেশ দূতাবাসে যাওয়া। অফিসিয়াল কাজ শেষ করে যখন শ্রম কাউন্সেলর ড. মুস্তাফিজুর রহমান স্যারের রুমে আসলাম তখন দেখি বেশ কয়েকজন বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে হাজির। শত ব্যস্ততার মধ্যেও প্রত্যেকের সমস্যাগুলো তিনি আন্তরিকতার সাথে সমাধানের চেষ্টা করতেছেন। যথারীতি আমার ব্যাপারেও সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিলেন। আলাপকালে জানতে পারলাম প্রবাসীদের নিয়ে তাঁর পরিকল্পনার কথা। বিদেশের মাঠিতে প্রবাসীদের সুখের জন্য নিরলস কাজ করে যাওয়া একজন বীর। এমন জনবান্ধব একজন কমকর্তা পেয়ে প্রবাসীরা বিভিন্ন ভোগান্তির হাত থেকে রেহায় পেয়েছে। স্যারের আচরণে সত্যিই আমি মুগ্ধ। এত ব্যস্ততার মাঝেও যিনি নামাজ আদায় করেন, মহান আল্লাহর কাছে আমি তার নেক হায়াত কামনা করছি। ভাল থাকবেন স্যার।

আমরা জানি এ পৃথিবী আমাদের চিরদিনের আবাস নয়। মহান আল্লাহ পাক পবিত্র আল কোরআনে ইরশাদ করেন ‘তিনি বড়ই মহান ও শ্রেষ্ঠ-যার কব্জায় আছে সকল রাজত্ব। যিনি সবার উপর শক্তিমান। যিনি তোমাদের মধ্যে কে তার কাজের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ হয় - তা যাচাই করার জন্যই জীবন ও মৃত্যুকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি মহা পরাক্রমশালী ও ক্ষমাশীল।’’

সৃষ্টির সেরারূপে মানুষকে সৃষ্টি করে আল্লাহতায়ালা প্রত্যেকের ওপর কোনো না কোনো দায়-দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। কর্মময় জীবনে মানুষ নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করবে, এটাই স্বাভাবিক। সাধারণত আগ্রহ ও আন্তরিকতা নিয়ে দায়িত্ব সম্পাদন করাই কর্তব্যপরায়ণতা আর সে ক্ষেত্রে ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান একজন কর্তব্যপরায়ণ, অনন্য মানুষ।

কাতারে প্রায় ৪ লক্ষেরও অধিক বাংলাদেশিদের বসবাস। দেশটিতে মহামারী করোনার প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশীদের সংক্রমণ থেকে নিরাপদ রাখতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে কাতারস্হ বাংলাদেশ দূতাবাস। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস এর প্রাদুর্ভাবে যখন অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন তখন তাদের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ সহায়তাসহ কাতারের বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা প্রদান করে বাংলাদেশ দূতাবাস কাতার। করোনা দূর্যোগে প্রবাসী বাংলাদেশীদের জনসচেতনতা তৈরি ও প্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা প্রদান এবং বিভিন্ন কোম্পানিতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের নানাবিধ সমস্যার সমাধানে সম্মুখযোদ্ধা হিসাবে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সকল প্রবাসীদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান।

করোনা সংক্রমণের ভয় উপেক্ষা করে অসহায় প্রবাসীদের আস্থাভাজন সরকারের এই কর্মকর্তা সহায়সম্বলহীন শ্রমজীবী প্রবাসীদের পাশে ছিলেন সবসময়। অসুস্থ কর্মীদের খোঁজখবর রাখতে ছুটে চলেছেন দূর্গম মরুভূমির শেষ প্রান্তে। খাদ্য সহায়তা ছাড়াও করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবায় সহযোগিতা, কর্মহীনদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ এমনকি কাতারে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা গেলে তার দাফনকাজে যাতে কোন সমস্যা না হয় সেদিকেও নিয়মিত খোঁজখবর রাখতেন।

বাংলাদেশ সাথে কাতারের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও বাংলাদেশী কর্মীর কাতারে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য তিনি লেখনীর মাধ্যমে কাতারের ভালো দিকগুলো আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তুলে ধরার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। যা একটি ব্যতিক্রমি ও উদ্ভাবনীয় উদ্যোগ।

বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় কাতার সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ ও সফলতা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরায় কাতারের প্রশাসনিক উন্নয়ন শ্রম ও সামাজিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাঁকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়।

ছোটবেলা থেকেই দারিদ্র্যতার সাথে সংগ্রাম করে বেড়ে উঠা ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান তাঁর মা-বাবা ও চাচার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন- তাঁরা তাকে বলতেন খেয়ে না খেয়ে আমাদের দিন চলে যাবে, কিন্তু তোমার উপর অর্পিত দায়িত্ব সবসময় সঠিকভাবে পালন করে যেও। তাদের ত্যাগ, উৎসাহ এবং দোয়ার বদৌলতেই আমি আজকের আসনে আসীন।

জগতে সাধু ও মহৎ ব্যক্তিবর্গ স্মরণীয় ও বরণীয় হয়েছেন বংশ পরিচয়ের মধ্য দিয়ে নয় বরং পূণ্যকর্ম সম্পাদনের মধ্য দিয়ে। মানুষের প্রকৃত মূল্য তার বংশ পরিচয়ের মধ্য দিয়ে নয়, মহৎ কর্মই তার একমাত্র আসল পরিচয়।

কবি বলেছেন -
আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে,
আসে নাই কেহ অবনী পরে।
সকলের তরে সকলে আমরা,
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।

সবশেষে মানববন্ধু, সদা পরোপকারী, কর্তব্যপরায়ণ ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘজীবন কামনা করি। তাঁর অনাগত দিনগুলো হোক আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধময়।

লেখক: কাতার প্রবাসী সাংবাদিক

@

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন

সাম্প্রতিক প্রবাস জীবন খবর

  •   তথ্যমন্ত্রীর সুস্থতা কামনায় ইউএইতে সাংবাদিকদের দোয়া মাহফিল
  •   হত্যা ও ধর্ষণের প্রতিবাদে স্পেন যুবদলের সভা অনুষ্ঠিত
  •   শেখ রাসেল স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন ফ্রান্স কমিটির অনুমোদন
  •   ছুটিতে থাকা প্রবাসীদের মালয়েশিয়ায় ফিরিয়ে আনার দাবি
  •   খন্দকার বাজার প্রবাসী কল্যাণ ট্রাস্ট ইউকে’র সভা ৩০ আগস্ট
  •   কানাডায় ‘বয়েজ অব বিয়ানীবাজার ক্লাব’র আত্মপ্রকাশ
  •   সিলেটীদের উদ্যোগে ব্রিটেনে ‘নাইট ক্লাব’ পরিণত হলো মসজিদে
  •   জাতীয় শোকদিবসে বার্সেলোনায় কাতালোনিয়া আ’লীগের মতবিনিময় সভা
  •   বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ইন স্পেনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলামীন মিয়া
  •   স্পেনে জাতীয় শোক দিবস পালিত