আজ সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১ ইং

শ্রেণিকক্ষে সামাজিক দূরত্ব ৩ ফুটেই করোনা ঠেকানো সম্ভব

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২১-০৩-১৫ ১৪:২০:১৫

সিলেটভিউ ডেস্ক :: ৬ ফুট নয়, ক্লাস রুমে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখলেই করোনা সংক্রমিত হবার ভীতি থাকবে না। দীর্ঘ গবেষণার পর গত সপ্তাহে ‘দ্য জার্নাল ক্লিনিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজ’এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে এমন পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আর এভাবেই সকল স্কুল পুনরায় নিরাপদে চালু করা সম্ভব বলেও অভিমত পোষণ করা হয়েছে ঐ গবেষণা-প্রতিবেদনে।

উল্লেখ্য, করোনা মহামারির পরই সামাজিক দূরত্ব ৬ ফুট নির্ধারণ করা হয় সিডিসির স্বাস্থ্যবিধিতে। এই প্রথম তা অর্ধেকে নামিয়ে আনার প্রসঙ্গ উঠলো শিশু-কিশোরদের জন্যে পুনরায় স্কুল খোলার স্বার্থে। কারণ, ভার্চুয়ালে ক্লাস করতে করতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এক ধরনের বিষন্নতায় আক্রান্ত হচ্ছে। তবে সকলকে মাস্ক পরতে হবে, শ্রেণীকক্ষ সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে। ঘন ঘন হাত ধোয়ার অভ্যাস চালু রাখতে হবে।

কয়েক সপ্তাহ যাবত ফার্স্টলেডি জিল বাইডেন এবং তার স্বামীর প্রশাসন পুনরায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস চালুর অভিপ্রায়ে নানা ধরনের যুক্তির অবতারণা করলেও অধিকাংশ অভিভাবক ও শিক্ষকই তা নিরাপদ বলে মনে করছেন না। সকলেই টিকা গ্রহণের পর সংক্রমণের হার একেবারেই হ্রাস না পাওয়া পর্যন্ত অনলাইনে ক্লাস অব্যাহত রাখার পক্ষে তারা মত দিচ্ছেন। এমনি অবস্থায় গবেষণার ভিত্তিতে উপরোক্ত নিবন্ধ অনেকের মধ্যেই স্বস্তির ভাব এনে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

এই গবেষণা রিপোর্টের আলোকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রমন-রোগ বিশেষজ্ঞ এবং প্রেসিডেন্টের করোনা সম্পর্কিত প্রধান উপদেষ্টা ড. এ্যান্থনী ফাউচি রবিবার বলেছেন, ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব হবে। তবে স্বাস্থ্যবিধির অপর বিষয়গুলো মেনে চলতে হবে শিক্ষার্থীসহ শিক্ষাঙ্গণের সকলকে। যদিও এখন পর্যন্ত সিডিসি সামাজিক দূরত্ব অর্ধেকে কমিয়ে নেয়ার ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোন সিদ্ধান্ত জানায়নি। তবে উপরোক্ত গবেষণা-রিপোর্টকে সিডিসি গভীরভাবে পর্যবেক্ষন করছে বলে উল্লেখ করেন ড. ফাউসি।

‘বিশ্লেষণ এবং পর্যবেক্ষণের পর স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে সময়ক্ষেপণ করবেন না-মন্তব্য ড. ফাউসির। উপরোক্ত জরিপের পাশাপাশি সিডিসিও আলাদাভাবে এ নিয়ে গবেষণা শুরু করেছে বলে সিডিসি পরিচালক ড. রচেলে ওয়ালেনস্কি জানিয়েছেন। কারণ বিষয়টি জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত-তাই সবকিছু যাচাইয়ের পরই সর্বসাধারণের জন্যে নির্দেশনা দেয়া হবে। ব্রাউন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব পাবলিক হেল্থ’র ডীন ড. আশীষ ঝা এই টুইটে বলেছেন, সিডিসির নির্দেশনার পরই শিক্ষার্থীরা অনলাইনের পরিবর্তে শ্রেণী কক্ষে ফিরতে সক্ষম হবে এবং সেটি হচ্ছে সময়ের দাবি। আমিও প্রত্যাশা করছি নিরাপদে দৃততম সময়ে স্কুল খোলা হউক। মাস্ক, ভেন্টিলেশন, টেস্টিং, শিক্ষক/কর্মচারি সকলের ভ্যাক্সিনেশন অবশ্যই সম্পন্ন হতে হবে।

১০ মার্চ প্রকাশ হয়েছে গবেষণা নিবন্ধটি। ইতিমধ্যেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চালু ক্লাসসমূহের শিক্ষার্থীদের ওপর পরিচালিত জরিপে করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হবার হার একেবারেই নগন্য বলে জানা গেছে। আরো জানা গেছে, ১০ বছরের কম বয়েসী শিশুদের করোনায় সংক্রমিত হবার হার একেবারেই হাতে গোনা এবং হলেও ১৪/১৪ বছর বয়েসীদের মত হাসপাতালে যাবার পরিস্থিতিও খুবই কম।

এদিকে, ১৪ মার্চ ছিল নিউইয়র্ক সিটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর প্রথম বার্ষিকী। গত এক বছরে এই সিটিতে ৩০ হাজারের অধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। ভয়ংকর সে সব স্মৃতি রোমন্থন এবং মৃত্যুবরণকারিদের স্মরণ উপলক্ষে বিভিন্ন কবরস্থানে নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী প্রার্থনা সমাবেশও হয়েছে। প্রথম ভিকটিম ছিলেন ব্রুকলীনের ৮২ বছর বয়েসী এক নারী। পরদিন ১৫ মার্চ পুরো সিটি লকডাউনে গিয়েছিল।

টিকা প্রদানে বিশ্বরেকর্ড:
১৩ মার্চ শনিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ২৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষকে করোনার টিকা প্রদান করা হয়েছে। একক কোনদিনে বিশ্বে আর কোথাও এতবেশী মানুষকে টিকা প্রদান করা হয়নি। তাই যুক্তরাষ্ট্র টিকা প্রদানের ক্ষেত্রেও রেকর্ড সৃষ্টি করলো বলে হোয়াইট হাউজের চীফ অব স্টাফ রনাল্ড ক্লেইন এক টুইটে দাবি করেছেন।

১৪ ডিসেম্বর শুরু হওয়া টিকা প্রদানের চলমান কার্যক্রমে এ যাবত ১০৭ মিলিয়ন ডোজ প্রদান করা হয়েছে। ১৪ মার্চ পর্যন্ত সারা আমেরিকায় করোনায় মারা গেছে ৫ লাখ ৩৪ হাজার। আক্রান্ত হয় ২ কোটি ৯৫ লাখ।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ ডেস্ক/মিআচৌ-৭

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন