আজ শনিবার, ১০ এপ্রিল ২০২১ ইং

বাংলা ব্যান্ডের গুরুর জন্মদিন আজ

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২১-০২-২৮ ১৪:০৩:২৮

সিলেটভিউ ডেস্ক  :: আজম খান। পুরো নাম মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম খান। বলা হয়ে থাকে, তার মাধ্যমেই বাংলা সংগীত জগতে ব্যান্ড গানের যাত্রা শুরু হয়েছিল। এ জন্য তাকে বাংলা ব্যান্ড সংগীতের গুরু বলা হয়। জীবদ্দশায় বেশ কিছু হিট গান উপহার দিয়ে গেছেন এই শিল্পী। তার ব্যতিক্রমী ঢঙের গায়কীতে মুগ্ধ হতেন এ দেশের ব্যান্ড সংগীতপ্রিয় মানুষ। দেশের গানেও কণ্ঠ দিয়েছিলেন তিনি।

ব্যান্ড সংগীতের গুরু সেই আজম খানের আজ জন্মদিন। ১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তার জন্ম হয়েছিল ঢাকার আজিমপুরে। তবে ৬ বছর বয়স থেকে তিনি পরিবারের সঙ্গে কমলাপুর থাকতেন। বেঁচে থাকলে আজ তার বয়স হতো ৭১। দীর্ঘদিন ক্যানসারে ভোগার পর ২০১১ সালের ৫ জুন রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

সংগীতশিল্পী আজম খান

আজম খানের কর্মজীবন শুরু মূলত ষাটের দশকের শুরুতে। ১৯৭১ সালে তার ব্যান্ড ‘উচ্চারণ’ দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। বন্ধু নিলু ও মনসুরকে গিটারে, সাদেক ড্রামে এবং নিজেকে প্রধান ভোকাল করে শুরু করেন সংগীত জীবন। ওই সময় বিটিভিতে তার গাওয়া ‘এতো সুন্দর দুনিয়ায় কিছুই রবে না রে ‘ এবং ‘চার কালেমা সাক্ষী দেবে’ গান দুটি প্রচার হয়। দুটিই বেশ প্রশংসা পায়। ১৯৭৫ সালে দেশত্ববোধক ব্যান্ড গান ‘রেল লাইনের ওই বস্তিতে’ দিয়ে হৈ চৈ ফেলে দেন আজম খান।

অন্যান্য চরিত্রে আজম খান

১৯৯১-২০০০ সালে তিনি গোপীবাগ ফ্রেন্ডস ক্লাবের পক্ষ হয়ে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট খেলতেন। এছাড়া তিনি ‘গডফাদার’ নামে একটি বাংলা সিনেমায় ভিলেনের ভূমিকায় অভিনয় করেন। সেই ছবির নায়ক ছিলেন অ্যাকশন হিরো রুবেল। পাশাপাশি বেশ কিছু বিজ্ঞাপনচিত্রেও তিনি মডেল হিসেবে কাজ করেন।

মুক্তিযোদ্ধা আজম খান

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময়ে আজম খান পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তখন তিনি ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণের বিরুদ্ধে গণসংগীত প্রচার করেন। ১৯৭১ সালে আজম খানের বাবা আফতাব উদ্দিন খান সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন। বাবার অণুপ্রেরণায় তিনি যুদ্ধে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। ২১ বছর বয়সে যুদ্ধে যান আজম খান।

ওই সময়ে আজম খানের গাওয়া গানগুলো প্রশিক্ষণ শিবিরে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা যোগাতো। তিনি যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন ভারতের মেলাঘরের শিবিরে। এরপর তিনি কুমিল্লায় পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে সমুখ সমরে অংশ নেওয়া শুরু করেন। কিছুদিন পর তিনি আবার আগরতলায় ফিরে আসেন।

এরপর তাকে পাঠানো হয় ঢাকায় গেরিলা যুদ্ধে। আজম খান ছিলেন দুই নম্বর সেক্টরের একটা সেকশনের ইনচার্জ। আজম খান মূলত যাত্রাবাড়ি-গুলশান এলাকার গেরিলা অপারেশনগুলো পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন।

সংগীতে বিশেষ অবদান রাখায় ২০১৯ সালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘একুশে পদক’ দেওয়া হয় আজম খানকে। কিন্তু নিজের সেই পুরস্কার হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখতে পারেননি। ওই বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রয়াত এই শিল্পীর পক্ষে পদক গ্রহণ করেন তার মেঝো ভাই প্রখ্যাত সুরকার আলম খান।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ঢাকাটাইমস /মিআচৌ -১৬

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন