আজ মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০ ইং

আবরার হত্যার নেপথ্যে কারা?

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০১৯-১০-১৪ ২৩:২৭:৫৭

গত সাত অক্টোবর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে কতিপয় ছাত্র নামধারী কিছু সন্ত্রাসী রাতভর অমানুষিক নির্যাতন করে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে!! কিন্তু কেনো তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো? কি ছিলো তার মস্তবড় অপরাধ? যার জন্য তাকে এত নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হলো? কারাই বা এই হত্যার নেপথ্যে?

আবরার কে যারা হত্যা করেছে তাদের প্রথম পরিচয় হচ্ছে তারা বুয়েটের ছাত্র। তারপরে তারা অন্য কোনো সংগটনের নেতা বা কর্মী। যারা এই হত্যার সাথে সম্পৃক্ত তাদের পারিবারিক অবস্থার দিকে তাকালেই দেখা যায় এক ভয়াবহ চিত্র।যাদের বেশিরভাগের পরিবারের অবস্থা অত্যান্ত নাজুক। কারো বাবা ভ্যান চালক, দিনমজুর,কেউ বা বিধবা মায়ের সন্তান। যাদেরকে পড়ালেখা করতে হয়েছে অন্যের সাহায্য নিয়ে।

 বুয়েটে চান্স পাওয়ার পর যাদের বাবা মায়ের স্বপ্ন ছিলো লেখাপড়া করে সন্তান মানুষের মতো মানুষ হয়ে তাদের পরিবারের হাল ধরবে। কিন্তু তারা তাদের বাবা মায়ের আকাশ ছোঁয়া স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে আজ খুনের আসামি। কিন্তু কেন তারা হঠাৎ করে হয়ে উঠলো এতোটা পাষাণ্ড। যাদের স্বপ্ন ছিলো দারিদ্র কে জয় করে মেধার বিশ্বজয় করা।

আবরারকে হত্যাকারি কারো পরিবারই মুজিব আদর্শের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নয়। তাদের অনেকের পরিবার আবার স্বাধীনতা বিরোধী জামাতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। কিন্তু তার পরে ও তারা শুধু মাত্র বড়ভাই নামধারী কিছু ক্ষমতা লোভীর কারনে তাদের পারিবারিক এমন কি ঐ ছাত্রদের বুয়েটে আসার পূর্বে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে কোনো সম্পৃক্ততা না থাকার পরে ও তারা বুয়েটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে ছাত্রলীগের এতো গুরুত্বপূর্ণ পদ- পদবী পেয়ে যায়। আর এই পদ পদবী তাদের কে করে তুলে নরপশু।

বুয়েট, যেখানে পড়ার লালিত স্বপ্ন থাকে প্রায় সকল মেধাবী ছাত্রের। কিন্তু সেই বুয়েটের ছাত্ররা ছাত্রহলে মদ,গাঁজা খেয়ে মাতাল হয়ে নিরীহ ছাত্রদের উপর এমন নির্যাতন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কোনো ছাত্র করতে পারেনা।

শিক্ষা,শান্তি, প্রগতির পতাকাবাহী সংগটন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ শিক্ষার মশাল জ্বেলে, শান্তির বার্তা নিয়ে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রগতির আন্দোলন করে এদেশের সকল আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এদেশের ছাত্ররাজনীতির প্রাণের সংঘটনে পরিণত হয়েছে। কিন্তু ছাত্রলীগ নামধারী কিছু কুলাঙ্গার যারা ছাত্রদল, শিবির থেকে এসে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।

রাজনীতিতে ভিন্নমত থাকবেই, তাই বলে হত্যা বা নির্যাতনের রাজনীতিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কখনো বিশ্বাস করেনা। অপরাধী, অপরাধীই। সে যেই দলের হোক তাকে শাস্তি পেতেই হবে। আবরার হত্যাকারিরা গ্রেফতার হয়েছে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে আমি বিশ্বাস করি অপরাধীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি হবে।

তাই আসুন ছাত্ররাজনীতি নয় ছাত্ররাজনীতির নামে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধের জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে  আওয়াজ তুলি। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

লেখক, এম এ হানিফ
সিলেট মহানগর ছাত্রলীগ নেতা।

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন