আজ শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২০ ইং

তারেক রহমানের কাছে ছাত্রদল কর্মীর খোলা চিঠি

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০১৯-১২-২৪ ২১:২৪:১৪

সিলেট :: এমপি সাহেবের পেছনে, মেয়র সাহেবের পেছনে কামলা দিতে হয়, বিএনপি, যুবদল এবং সেচ্ছাসেবক দলের পেছনেও কামলা দিতে হয়। কামলা দিতে দিতে জীবন-যৌবন শেষ করে দিন শেষে পরিচয় অভাগা কর্মী। আর ছাত্রদলের কর্মীদের কামলা খাটিয়ে নেতারা আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ।

হাইকান্ড থেকে যখন আন্দোলনের নির্দেশনা আসে তখন নেতা সাহেবরা ছাত্রদল-কে পুলিশের বন্ধুকের নলের সামনে দাঁড় করিয়ে নিজেরা ড্রয়িং রুমে বউয়ের পাশে বসে টিভিতে খবর দেখে গুনতে থাকেন কয়টা কর্মী আহত ও নিহত হলো। অপেক্ষা করতে থাকেন কখন গিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ঝকঝকে চেহারাখানা দেখিয়ে ছাত্রদল কর্মীদের আহত ও নিহতের প্রতিবাদে নিন্দার ঝড় তুলবেন।

প্রতিটা নেতাকর্মী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ করে। অথচ ব্যার্থতার সব দায়ভার ছাত্রদলের উপরে চাপিয়ে দেওয়া হয়।

তখন কেউ এমপি এবং মেয়র সাহেবদের দিকে প্রশ্ন তুলে না। যে জনপ্রতিনিধি হিসেবে, আন্দোলনে তাদের সাথে সাধারণ জনগন নেই কেন।

বিএনপি, যুবদল, সেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের জিজ্ঞেস করেনা আন্দোলন সংগ্রামে তাদের সংগঠনের কর্মী কোথায়।

বিএনপি, যুবদল, সেচ্ছাসেবক দলের নেতারা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে বছরে এক দুইটা বিশাল শোডাউন করে নিজেদের বীরত্ব হাইকমান্ডকে দেখিয়ে দেন। হাইকমান্ড ও হাতে তালি দিয়ে বাহবা দেয়, কিন্তু কেউ ভাবেনা কাঁঠাল টা যে, ছাত্রদলের মাথায় ভেঙ্গে খাওয়া হয়েছে।

খুব দুঃখ লাগে, যখন দেখি আমাদের প্রধান প্রতিদ্বন্ধি রাজনৈতিক দলের যুব সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ সারা বাংলাদেশে তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ থেকেও বেশী সংগঠিত ও শক্তিশালী।

বিবাহিত অবিবাহিত ছাত্রদলের সমস্যা নয় বরং বিএনপি, যুবদল, সেচ্ছাসেবক দলের বড় ভাইগুলাই ছাত্রদলের জন্যে ক্যান্সার।

প্রিয় অবিভাবক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান, গঠনতন্ত্র অনুসারে আপনি আমাদের সাংগঠনিক নেতা, আপনি পারেন ছাত্রদলকে এই পদলোভী নেতাদের/বড় ভাইদের হাত থেকে রক্ষা করতে। আপনি যদি কঠোর হয়ে নির্দেশনা দেন বিএনপিকে বিএনপি কর্মী, যুবদলকে যুবদল কর্মী, ও সেচ্ছাসেবক দলকে তাদের নিজ সংগঠনের কর্মী নিয়ে আন্দোলনে মাঠে থাকতে হবে। ছাত্রদল স্বাধীনভাবে শুধুমাত্র ছাত্রদলের নেতাকর্মী নিয়ে আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথ দখলে নামবে, তবেই কেবল সফলতা পাওয়া সম্ভব।

তাহলে হয়তো ছাত্রদলে গ্রুপিং থাকবেনা, কমিটির জন্যে লবিং ও তদবির থাকবেনা, ছাত্রদল ফিরে পাবে হারানো জৌলুস ও যোগ্য নেতৃত্ব। বিএনপি, যুবদল, সেচ্ছাসেবক দলেও হয়তো ভবিষ্যতে কর্মীহীন অযোগ্যরা নেতৃত্বে আসার সুযোগ পাবে না।


লেখক: এম. এ হাসান সাগর, সাবেক সদস্য, সিলেট মহানগর ছাত্রদল।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/২৪ ডিসেম্বর ২০১৯/জুনেদ

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন