আজ সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২০ ইং

আমার পরিবার, আমার ভালবাসা

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-০২-১৪ ১২:৩৪:২৫

লেখক

সুব্রত দাস :: আজ ১৪ই ফেব্রুয়ারি। বিশ্ব ভালবাসা দিবস। আজ এই দিনে পৃথিবীর প্রতিটা মানুষের জন্য রইল আমার ভালবাসা। শুধু ভালবাসা দিবসে যে ভালবাসতে হবে তাতো নয়। যে কোন সময়, যে কোন দিন, এমনকি প্রতিটা মুহুরত ভালাবাসা যায়। আমাদের সমাজে দেখা যায় যে ভালবাসা দিবসে ভালবাসা উৎলে পড়ে।

আর আমরা অনেকেই মনে করি ভালবাসা দিবসে শুধু প্রেমিক আর প্রেমিকাদের মধ্যে সীমাবধ্য। কিন্তু আমি মনে করি এই ভালবাসা দিবসে শুধু মাত্র আমাদের পরিবারের প্রতিটা মানুষকে উৎসর্গ করা উচিত। প্রথমে তোমার পরিবারকে ভালবাস তারপর অন্যকে। ভালবাসা অপার্থিব। স্বর্গীয়। শান্তিময়। সুখ ও সমৃদ্ধির সোপান। আর ভালবাসার সূতিকাগার হল আমাদের পরিবার। যাদের ভালবাসায় আমাদের সৃষ্টি সেই পিতা-মাতা কত আদর যত্নে আমাদের প্রতিপালন করেন। অতুলনীয় তাদের ভালবাসা। আমাদের ভালবাসার প্রথম আধার হল আমাদের পরিবারের প্রতিটা মানুষ। ভালবাসার এ ঋণ আজীবন অপরিশোধ্য। কোন দিন এই ঋণ শোধ করা যাবে না।

বিশেষ করে আমি আমার কথাই বলব। কারণ আমি আমার পরিবারের ঋণ কোনদিন শোধ করতে পারবো না। আমার পরিবারের প্রতিটা মানুষের কাছে আমি ঋণী। মা, বাবা, কাকু,কাকি, ভাই, বোনসহ সকলের প্রতি ঋণী। কারণ এ পৃথিবীতে জন্ম নেওয়ার পর থেকে তাদের ভালবাসায় আমার জীবন ধন্য।

আমি ধন্য আমার মা-বাবার প্রতি। আমার জন্ম স্বার্থক এমন মা-বাবা আমি পেয়েছি। আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যমান সম্পদ আমি হারিয়ে পেলেছি। জানি এই সম্পদ আর ফিরে পাবো না। তিনি হলেন আমার মা। মাগো আমার জনম ধন্য তোমার মত একজন মা পেয়ে। তোমার এই ঋণ কোনদিন শোধ করতে পারলাম না।

বিশেষ করে আমার মেজকাকুর উপর আমরা সবাই ঋণী। কারণ এই পরিবারের জন্য তিনি সারা জীবন অনেক কষ্ট করেছেন। উনার জীবনের সবটুকু অর্জন এই পরিবারের প্রতিটা মানুষকে বিলিয়ে দিয়েছেন। আর সেটা করেছেন নিস্বার্থ ভালবাসার জন্য। পরিবারের প্রতি নিস্বার্থ ভালবাসা না থাকলে সেটা সম্ভব হত না।

আর সেজকাকু, বাবুকাকু তাদের অবদান ভুলার নয়। তাদের প্রেম, ভালবাসা, স্নেহ, মমতা, মায়ার প্রতি আমরা চিরঋণী। সত্যি যে, তাদের তুলনা কিছু দিয়ে করা যাবে না। তাদের তুলনা শুধু তারাই। তারা যদি এই পরিবারের হাল না ধরতেন হয়তো আজ আমরা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে হতো।

আর এর পিছনে আরোও তিনজনের অবদান আছে। তারা হলেন আমার মেজকাকী, সেজকাকী, কাকীমনি। তারা নিজের ছেলে মেয়েদেরকে যতটুক ভালবাসা দিয়েছেন তার চেয়ে অনেক বেশি ভালবাসা দিয়েছেন আমাকে এবং আমার ভাইদের। আমার পরিবারের প্রতিটা মানুষ তাদের কাছে চিরঋণী হয়ে থাকবো। আমার শরীরের চামড়া দিয়ে যদি তাদের পায়ের জুতা তৈরি করে দিই তারপরও ঋণ শোধ করা যাবে না। তাদের ভালবাসার কোন কিছু দিয়ে তুলনা করা যাবে না।

আমার মায়ের পেটের কোন বোন নেই। বোনের স্নেহ, ভালবাসা, মায়া, মমতা কি সেটা বুঝতে পারি নি। তারপরও বোনের অভাব কোনদিন বুঝতে পারি নি। কারণ কাকাতো বোনরা সেই অভাব কোনদিন বুঝতে দেয় নি। তাদের স্নেহ, ভালবাসা, মায়া, মমতায় সেই অভাব ভুলেই গেছি।

আর ভাইদের ভালবাসার কোন তুলনা করা যাবে না। বড় থেকে ছোট ভাই আমার কাছে যেন বটগাছের ছায়ার মত।

আমি আমার পরিবারকে খুব ভালবাসি। যদিও এখন সময়ের ব্যবধানে আমাদের পরিবার পৃথক বা আলাদা। কারণ আজ ৭০ বছর ধরে একিই পরিবারে বসবাস করে আসছি। আর এখন যত সময় যাচ্ছে পরিবারটা তত বড় হচ্ছে। আর আলাদা হওয়াটাই স্বাভাবিক। তারপরও আমাদের ভালবাসার কোন কমতি নেই।

পরিবার হল মানুষের পবিত্র আশ্রয়স্থল। মানবসভ্যতা টিকিয়ে রাখতে হলে এই আশ্রয়ের পবিত্রতা নিশ্চিত করতে হবে।


লেখক- সাংবাদিক

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন