আজ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০ ইং

করোনা কাটিয়ে কোথায় যাবে পৃথিবী!

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-০৭-১৩ ০৬:১৫:২০


সাকলিন হক ::  শুরুটা ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। তারপর দেশ থেকে দেশে, শহর থেকে গ্রামে। একে একে পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে বাদ পড়েনি কোন স্থানই। গোটা বিশ্বে নতুন বছরের শুরু থেকেই আলোচনার শীর্ষে কেবলই কোভিড-১৯ আর এতে সংক্রমণ এবং ক্ষয়ক্ষতির হিসেব।



হিসেবের খাতায় যোগ হয়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতির করুণ দশা, আবার কখনো বা প্রিয়জন হারানোর বেদনার সমষ্টি। যোগবিয়োগের সমষ্টি থেকে বাদ পড়েনি সংক্রমিত হওয়ার ভয়াবহ অভিজ্ঞতাও। একই সাথে মরণব্যাধি কোভিড-১৯ এ সংক্রমিত হওয়ার আতংক নিয়ে নিত্যদিনের বাজার-সদাই আর চলাফেরা। অন্যদিকে জীবিকা হারিয়ে কিংবা জীবিকার খোঁজে বন্ধ হয়ে পড়েছে খেটে খাওয়া বেশির ভাগ মানুষের উনুনও। তাদের চলমান জীবনের চাকা অনেকটা থেমে গেছে বললেই চলে।  



এই যখন অবস্থা, তখন হাঁপ ধরা পরিস্থিতি সামাল দিয়ে টিকে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত গোটা বিশ্ববাসী। নতুন পরিকল্পনা আর পুনঃস্থাপনার জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছেন বিশ্ব নেতারা। এ যেন পৃথিবীকে আগের মত নতুন করে সাজাতে রীতিমত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে প্রাণঘাতি অতি ক্ষুদ্র এক অণুজীব। প্রমাণ স্বরূপ প্লেগ, কলেরা আর স্প্যানিশ ফ্লু ইতিহাসকে সাক্ষী করেছে বারাবার। প্রলয়নকারী এসব মহামারি  ১৭২০, ১৮২০ এবং ১৯২০ সনে তাণ্ডব চালায় গোটা বিশ্বব্যাপী। এতে প্রাণ হারায় বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষ।



চলমান ২০২০ সালেও পূর্বের এসব ঘটনার পুনরাব্রিতিতে নেই বিন্দুমাত্র ব্যাতিক্রম। ইউরোপ-আমেরিকা মানে পশ্চিমা বাসিন্দারা  'থার্ড ওয়ার্ল্ড' খ্যাত উন্নয়নশীল দেশগুলোর দিকে তাকিয়ে নিজেদের উন্নত অবস্থান থেকে কটাক্ষমূলক তৃপ্তির যে নিঃশ্বাস ফেলতেন, এর সবই এখন মিলেমিশে একাকার। নভেল করোনায় ধ্বসে পড়া দম্ভ আর পাল্টে যাওয়া মনোভাব নিয়ে একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বদলাতে চাচ্ছেন তারা। পাশাপাশি গোটা পৃথিবী।



বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনেক দেশে লকডাউন শিথিলের কারনে মুক্তির স্বাদ গ্রহণ করতে  বাসিন্দারা হুমড়ি খেয়ে ছুটছেন নিজেদের পছন্দ আর চিরচেনা জায়গাগুলোতে। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও ঘটছে বিড়ম্বনা। চিরচেনা জায়গাগুলো একই স্থানে থাকলেও মনে হচ্ছে অচেনা। কেননা স্থানগুলো উপভোগ করতে যেসব পন্থা অবলম্বন করতে হচ্ছে এর সাথে পরিচিতি নেই মানুষের। মাস্ক, গ্লাভস, পিপিই হয়েছে নিত্যসঙ্গী। পাশাপাশি সংঘবদ্ধভাবে প্রবেশেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ধরাবাঁধা নিয়মের মেয়াদ হতে পারে নয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত। সেই সাথে ভবিষ্যতে নতুন ধরণের কোন ভয়াবহ রোগ পঙ্গু করতে পারে মানবতাকে, এমনটাও ধারণা তাদের।



ভবিষ্যৎ পৃথিবীকে গড়ে তোলার পরিকল্পনায় যারা লিপ্ত, তাদের একই সঙ্গে অনেক বিষয়   শিখিয়ে দিয়েছে কোভিড। ঐক্যবদ্ধভাবে জীবনযাপন, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা, চলাফেরা আর একসঙ্গে বসবাস করে নতুন নতুন ভাবনার উদ্ভাবন রয়েছে এর মূলমন্ত্র হিসেবে। সেই সাথে করোনা বুঝিয়েছে, মানুষ আইসোলেশন আর কোয়ারেন্টিনে বিলাসবহুল অবস্থায় থাকলেও একাকী বসবাস করতে পারে না। যেকোন বয়সের ক্ষেত্রে তা মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। কখনোবা তা আবার ভয়াবহ আকার ধারন করে। এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক মেলামেশার জায়গা যেমন বিনোদন পার্ক, শপিং মল, রেস্তোরা ইত্যাদি স্থান নিরাপত্তা আর সতর্কতার সাথে খুলে দেওয়ায় গুরুত্ব দেওয়া উচিত। মানবসভ্যতা রক্ষায় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বিষয়টি। কেননা ভয় ও আশঙ্কার সমাজের পরিবর্তে উজ্জীবিত সমাজ পুনরুদ্ধার করাটাই  এই মুহূর্তে মুখ্য বিষয়।   



নতুন করে পৃথিবী রূপান্তরে আমাদের সামনে এখন অনেক কাজ। সুযোগ এসেছে পাল্টে যাওয়া পৃথিবীতে নতুন পরিসরে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একসঙ্গে থাকার। সেই সাথে আবারও কিছু নতুন পরিকল্পনার, কিছু আবিষ্কার আর উদ্ভাবনের। সর্বোপরি কোভিডের কেড়ে নেওয়ার পর্ব থেকে নতুন কিছু স্বপ্নের হাতছানিই এখন বিশ্ববাসীর একমাত্র সম্বল। 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/১৩ জুলাই ২০২০/সাকলিন  

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন