আজ শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০ ইং

গণধর্ষণের শিকার তরুণীর মৃত্যু, ক্ষোভে ফুঁসছে ভারত

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-০৯-২৯ ১৮:৫৪:২৪

সিলেটভিউ ডেস্ক :: গণধর্ষণের শিকার হয়ে দুই সপ্তাহ আগে দিল্লির একটি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৯ বছরের তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে পুরো ভারত।

বিবিসি জানিয়েছে, গত ১৪ সেপ্টেম্ববর উত্তর প্রদেশে ওই তরুণী ধর্ষণের শিকার হন। দিল্লিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে পুলিশ চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।

এদিকে উত্তর প্রদেশ রাজ্যের ওই নারীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ন্যায়বিচারের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়। হাসপাতালের বাইরেও বিক্ষোভ করেছে বহু মানুষ। অনেকেই এই ঘটনার সঙ্গে ২০১২ সালে দিল্লিতে মেডিকেল শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনার তুলনা করছেন।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যে তরুণীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে তিনি দলিল সম্প্রদায়ের। আর অভিযুক্তরা হলেন, উচ্চবর্ণের।

জেএনএমসি হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ধর্ষণে বাধা দেওয়ায় নির্মম অত্যাচার চালানো হয়েছে ওই তরুণীর ওপর। প্রচণ্ড মারধরের পাশাপাশি শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে দুষ্কৃতরা।

তার মুখমণ্ডলসহ একাধিক জায়গা ও জিভে কামড়ের গভীর ক্ষত রয়েছে। শিরদাঁড়া ও ঘাড় মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। দুই পা ও একটি হাত অচল ছিল। আইসিইউতে রেখে সব রকম চেষ্টা চালানো হয়েছিল। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দিল্লির হাসাপাতালে পাঠানো হয়।

নির্যাতিতার ভাই বলেছেন, গত ১৪ সেপ্টেম্বর হাথরস এলাকায় বাড়ির কাছেই একটি জমিতে মা ও আমার সঙ্গে জমিতে ঘাস কাটতে যান দিদি। বিকালের দিকে আমি বাড়িতে চলে আসি। মায়ের থেকে কিছুটা দূরে ছিলেন দিদি। সেই সময় পেছন থেকে দিদিকে আক্রমণ করে কয়েক জন দুষ্কৃতকারী। গলায় ওড়না পেঁচিয়ে টানতে টানতে একটি বাজরা খেতের মধ্যে নিয়ে গিয়ে নৃশংস অত্যাচার চালায় ও গণধর্ষণ করে। পরে মা খুঁজতে খুঁজতে দিদিকে উদ্ধার করেন অচেতন অবস্থায়।

পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে নির্যাতিতার ভাই বলেন, পুলিশ প্রথমে আমাদের কোনো কথাই শুনতে চায়নি। দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ঘটনার চার-পাঁচ দিন পর তদন্ত শুরু করেছে।

হাথরসের পুলিশ কর্মকর্তা প্রকাশ কুমার বলেন, ঘটনার পরপরই প্রথমে গ্রেফতার করা হয় এক জনকে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে বাকি তিনজনের নাম জানার পর দ্রুত তাদেরও ধরা হয়েছে।

দলিত নারীর ওপর নৃশংস এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে উত্তর প্রদেশের বিরোধী দলগুলো। রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও দলিত রাজনীতিবিদ মায়াবতী মঙ্গলবার এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, ‘সরকারের উচিত আক্রান্তের পরিবারকে সম্ভাব্য সব ধরণের সহায়তা দেওয়া এবং দ্রুত বিচার আদালতে বিচারকাজ চালিয়ে অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে শাস্তি নিশ্চিত করা।’

উত্তর প্রদেশের আরেক সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব বলেছেন, নারীর বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের প্রতি রাজ্য সরকার সংবেদনশীল নয়। আক্রান্ত নারীকে হাসপাতালে দেখতে যান দলিত রাজনীতিবিদ ও অ্যাকটিভিস্ট চন্দ্রশেখর আজাদ। আর ওই নারীর মৃত্যুর পর ভারত জুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে তার দল ভিম আর্মি।

ভারতের সবচেয়ে নিপীড়িত নাগরিক দলিত সম্প্রদায়ের মানুষেরা। হিন্দু ধর্মের বর্ণপ্রথা অনুযায়ী সবচেয়ে নিচু বর্ণের আওতায় পড়া এসব মানুষদের সুরক্ষায় ভারতে আইন রয়েছে। তারপরও বৈষম্যের শিকার হওয়ার তাদের নিত্য বাস্তবতা। যদিও ভারত জুড়ে দলিত সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা প্রায় ২০ কোটি।

টুইটারে শীর্ষ আলোচনার ট্রেন্ডে উঠে এসেছে ভারতে দলিত নারীর মৃত্যুর ঘটনা। অনেকেই তাকে ভুলে যাওয়া নির্ভয়া আখ্যা দিচ্ছেন। ২০১২ সালে দিল্লির বাসে এক মেডিবেল শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর রাস্তায় ফেলে দেওয়া হলে হতবাক হয়ে পড়ে গোটা দুনিয়া। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া নারীকে নির্ভয়া নাম দেয় ভারতের সংবাদমাধ্যম।



সিলেটভিউ২৪ডটকম/২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০/ যুগান্তর / জিএসি

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন