আজ শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০ ইং

আজারবাইজানকে চাপে ফেলতে ইরানের সাহায্য চায় আর্মেনিয়া

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-১০-২১ ২১:৩০:৫৫

সিলেটভিউ ডেস্ক :: আজারবাইজানকে চাপে ফেলতে ইরানের সাহায্য চায় আর্মেনিয়া।যদিও আজারবাইজান ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের কূটনীতির উপস্থিতির প্রশংসা করছে।  

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাপ্তাহিত সংবাদমাধ্যম নিউজ উইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উভয় দেশ বিশ্বাস করে ফ্রান্স, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের সংঘাত নিরসনে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করছে না।  

বিরোধীয় নাগোরনো-কারাবাখ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে বিরোধ চলছে।এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে শুক্রবার সংঘাত বন্ধের জন্য ত্রিপক্ষীয় আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। মধ্যস্থতাকারী তিন দেশ হল- ইরান, রাশিয়া ও তুরস্ক।  সংঘাত নিরসনে এ তিন দেশ সহযোগিতা করবে বলে ওই প্রস্তাবে বলা হয়।

প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সংঘাত নিরসনে অর্গানাইজেশন ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড কোঅপারেশন ইউরোপস (মিনস্ক গ্রুপ) গঠন করেছিল ফ্রান্স, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র।   

নিউজউইকের কাছে দেয়া সাক্ষাতকারে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত আর্মেনিয়ান রাষ্ট্রদূত ভারুজহান নেরসায়ান ইরানের প্রস্তাবটির প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
 
তিনি বলেন, ‘আমরা নাগোরনো-কারাবাখ বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য ইরানের ভারসাম্য পদ্ধতি এবং প্রচেষ্টাকে গুরুত্ব দেই, যা ১৯৯১ সাল থেকে সংঘাত চলে আসছে’।  

আর্মেনিয়ান রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার প্রতিবেশী দেশ ইরান, এবং এটি আর্টসাখ প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে সীমান্ত শেয়ার করেছে।’

নাগোরনো-কারাবাখ আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃত।সেখানে বসবাসরত জাতিগত আর্মেনীয়রা আলাদা দেশের দাবিতে স্বঘোষিত আর্টসাখ প্রজাতন্ত্র হিসেবে নিজেদের জানান দেয়।যদিও এখন পর্যন্ত কোনো দেশ এটিকে স্বীকৃতি দেয়নি। এমনকী আর্মেনিয়াও দেয়নি।  ওই অঞ্চলটি পুনরায় দখলের জন্য মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে আজারবাইজান।   

তুরস্ক আরেকটি শক্তিশালী প্রতিবেশী দেশ যাদের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবেই আর্মেনিয়ার সঙ্গে দুর্বল সম্পর্ক।আর্মেনিয়া বাকু ও আঙ্কারার চাপ থেকে মুক্ত হতে তেহরানের ভূমিকা দেখছে।

নিউজউইককে সাক্ষাতকারে আর্মেনিয়ান রাষ্ট্রদূত ভারুজহান নেরসায়ান বলেন, ‘এই অঞ্চলের আগ্রাসন আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হতে পারে, আমি মনে করি ইরানে সেই সক্ষমতা রয়েছে; আজারবাইজানকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং তুরস্ককে নাগোরনো-কারাবাখে আগুন না জ্বালানোর জন্য আহ্বান জানাতে পারে।’

২৭ সেপ্টেম্বর থেকে বিরোধীয় নাগোরনো-কারাবাখ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান নতুন করে যুদ্ধে জড়ায়।পরবর্তীতে ১০ অক্টোবর রাশিয়ার মধ্যস্থতায় আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে ম্যারথন আলোচনা হয়।

১১ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধবিরতির কয়েক মিনিটের মধ্যেই আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান পরস্পরকে সাময়িক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘেনের জন্য অভিযুক্ত করে।

দ্বিতীয়বারের মতো শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত থেকে যুদ্ধবিরতির পরপরই গানজাতে আর্মেনিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে চারজন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছে। এ ছাড়া হামলায় আহত হয়েছেন ৫০ জন। এরপরই দুই দেশের মধ্যে তুমুল লড়াই শুরু হয়।

কারাবাখ অঞ্চলটি আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃত। তবে ওই অঞ্চলটি জাতিগত আর্মেনীয়রা ১৯৯০’র দশক থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে।ওই দশকেই আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের সঙ্গে যুদ্ধে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়।



সিলেটভিউ২৪ডটকম / ২১ অক্টোবর, ২০২০ / যুগান্তর / জিএসি

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন