আজ রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯ ইং

দান-সদকার উত্তম সময় রমজান

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০১৮-০৫-২৯ ০১:০০:২৮

যুবায়ের আহমাদ :: অন্যান্য ইবাতদের মতো রমজানের দান-সদকার সওয়াবও অনেক বেশি। গরিব-দুঃখীদের জন্য সাহায্যের হাত সম্প্রসারিত করে সওয়াব অর্জনের সর্বোত্তম সময় রমজান। তাই তো নবীজী (সা.), সাহাবায়ে কেরাম এবং পূর্ববর্তী বুজুর্গরা বেশি বেশি দান করতেন।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন : ‘মহানবী (সা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল। আর রমজানে তার বদান্যতা আরও বেড়ে যেত।’ (সহিহ মুসলিম)। দান সদকা ক্ষমারও বড় কারণ। দান সদকা করলে আল্লাহতায়ালার দরবার থেকে ক্ষমা পাওয়া যায়।

বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় রমজানে তাদের দুঃখ খানিকটা বেড়ে যায়। এ ধরনের মানুষের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া প্রতিটি মুসলমানের ইমানি কর্তব্য। সদকা মানুষকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করে। মহানবী (সা.) বলেন, পানি যেমন আগুনকে নিভিয়ে দেয় নিশ্চয় তেমনি সদকাও কবরের আজাবকে নিভিয়ে (বন্ধ করে) দেয়। (জামে তিরমিজি)। তাই তো রসুলে করিম (সা.) বলেন, তোমরা খেজুরের সামান্য অংশ সদকা করে হলেও নিজেদের জাহান্নাম থেকে রক্ষা কর। (সহিহ  বোখারি ও মুসলিম)। কেউ যদি অভাবীদের জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্যের হাত সম্প্রসারিত করে, তা যত কম অথবা ছোটই হোক না কেন আল্লাহতায়ালার কাছে তা খুবই প্রিয়। অভাবী মানুষকে খাবার প্রদান করা একটি উত্তম সদকা।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বর্ণনা করেন, এক লোক নবীজী (সা.)-কে প্রশ্ন করল, ‘ইসলামের কোন কাজটি উত্তম?’ নবীজী (সা.) বললেন, ‘কাউকে খাবার খাওয়ানো...।’ (সহিহ বোখারি)। পক্ষান্তরে সামর্থ্যবান হওয়া সত্ত্বেও যারা অভাবীদের জন্য খাবার পানীয় নিয়ে এগিয়ে আসবে না তাদের জন্য আল্লাহর দয়া সংকুচিত হয়ে আসবে। নবীজী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে না তার প্রতিও দয়া করা হয় না। (জামে তিরমিজি)। অভাবী প্রতিবেশীকে ক্ষুধার্থ রেখে যে ব্যক্তি উদরপূর্তি করে খায় রসুলে করিম (সা.) তাকে কঠিন ভাষায় সতর্ক করেছেন। এমনকি ‘সে মুসলমান নয়’-এমন কঠিন ভাষাও তিনি প্রয়োগ করেছেন। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সেই ব্যক্তি মুমিন নয় যে তার প্রতিবেশীকে ক্ষুধার্থ রেখেও পেট ভরে খায়।’ (সুনান আল কুবরা)।

অনেকে গরিব ও অসহায়দের জন্য দান-সদকা করলেও পিতা-মাতা বা পরিবারের সদস্যদের জন্য খরচ করতে উদাসীনতা প্রদর্শন করেন। তাদের ধারণা হলো পিতা-মাতা, স্ত্রী-সন্তানের জন্য খরচ করলে তো আর সওয়াব পাওয়া যাবে না। এ ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। মুমিনের পারিবারিক খরচও সদকা হিসেবে গণ্য হবে। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সওয়াবের আশায় কোনো মুসলিম যখন তার পরিবার-পরিজনের জন্য ব্যয় করে তা সদকা হিসেবে গণ্য হয়। (সহিহ মুসলিম)। অপর হাদিসে রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘একটি দিনার তুমি জিহাদের জন্য খরচ করেছ, একটি দিনার দাস মুক্তির জন্য ব্যয় করেছ, একটি দিনার একজন নিঃস্বকে দান করেছ এবং একটি দিনার নিজের পরিবার-পরিজনের জন্য ব্যয় করেছ। এগুলোর মধ্যে সওয়াবের দিক থেকে সর্বাধিক বড় হলো যা তুমি তোমার পরিবার-পরিজনের জন্য ব্যয় করেছ। (সহিহ মুসলিম)।

লেখক : খতিব, বাইতুশ শফিক মসজিদ, বোর্ড বাজার (আ. গণি রোড), গাজীপুর।

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন

সর্বশেষ খবর

  •   ‘ত্রাণের কোন সংকট হবে না যথেষ্ট খাদ্য মজুদ রয়েছে’
  •   শাবিতে প্রেজেন্টেশন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন স্থাপত্য বিভাগ
  •   বালাগঞ্জে শিক্ষক মো. সিকন্দর আলী স্মরণে নাগরিক শোকসভা
  •   সরকারি সফরে ভিয়েতনাম যাচ্ছেন জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক বড়লেখার নাজিম
  •   কোম্পানীগঞ্জে নিখোঁজের ৮ দিনপর নদীতে ভেসে উঠল লাশ
  •   বিএনপি নেতা উজ্জলের পিতার মৃত্যুতে কাউন্সিলর ফরহাদ শামীমের শোক
  •   নবীগঞ্জ পৌরসভায় ৭ দিন ধরে ঝুলছে তালা, বাড়ছে নাগরিক দুর্ভোগ
  •   জেলা যুবলীগে বড় ফ্যাক্টর জগদীশ-আজাদ
  •   কূটনীতিক হয়ে দেশের সেবা করতে চায় এমদাদ
  •   সিলেটে এবার ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের অভিযানে মেয়র আরিফ
  •   তাহিরপুরে শিশুর গলাকাটার চেষ্টার অভিযোগ, যুবককে গনধোলাই
  •   ওসমানীনগরের মজলিশপুরে ত্রাণ বিতরণ
  •   মৌলভীবাজারে বাড়ি ফেরার পথে কলেজ ছাত্রীর উপর হামলা
  •   মেধার মূল্যায়ন করলে শিক্ষার্থীরা উৎসাহিত হবে: ইকবাল আহমদ চৌধুরী
  •   রাজনগরে বন্যার্তদের পাশে পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দীন