আজ মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০১৯ ইং

এলো পহেলা বৈশাখ, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০১৯-০৪-১৪ ০১:৩০:৫৭

আল-আমিন :: "নাচেরে বাউল নাচে হেলেদুলে,খুশিরই রং লেগেছে রমনা বটমূলে। সানাই বাজে, মাদল বাজে, বাজে ঢোল আর ঢাক বাজে। এলোরে এলো আবার পহেলা বৈশাখ।" বাংলাদেশ এক রূপময় দেশ। ফুল-ফলে শোভিত দৃষ্টিনন্দন এর প্রকৃতি। এখানে দোয়েল কোকিল মুখরিত করে রাখে সারাবেলা। আছে টলটলে জলের পদ্মপুকুর আর অবিরাম ঝর্ণাধারা। প্রকৃতি সেজেছে নতুন সাজে। দুয়ারে বইছে বৈশাখী হাওয়া। বৈশাখী ঝড় বৃষ্টিতে আকাশ এখন স্বচ্চ। গ্রীষ্মের আগমনে পাখি গাইছে গান। গাছে গাছে সবুজ পাতা আর ফুলের মেলা। আজ পহেলা বৈশাখ। এ বৈশাখের হাওয়া লেগেছে গ্রামে, নগরে, কলেজে, বিশ্ববিদ্যালয়ের তনুমনে। ফুলে ফুলে আনন্দ উৎসব বাজ্ঞালির সব জায়গায়। কিশোরী তরুনীর চুলের খোপায়।

"বাজেরে বাজে ঢোল আর ঢাক, এলো রে পহেলা বৈশাখ। আজ কৃষ্ণচুড়ার ডালে, লেগেছে ডালে ডালে, সেই রঙ হৃদয়ে ছড়াক। বাতাসে ছড়াল সুগন্ধ, এ মনে এনে দিল ছন্দ, সেই ছন্দে ছন্দে সুখে আনন্দে, সব ব্যথা ধুয়ে মুছে যাক। জেগেছে আজ সারা দেশটা, প্রাণেরই মেলাতে সে রেশটা, আজ বলছে মন তো মনে আনন্দ, এই আশা ভালবাসা থাক।"প্রকৃতিতে বৈশাখ আছে বলেই কবির কবিতা লেখা হয়, প্রেমিকের প্রিয়তমার নাম হয় কবিতা। ভালোবাসার নাম হয় কবিতা। পহেলা বৈশাখের এই আগমনে প্রকৃতির সাথে তরুণ হৃদয়েও লাগে দোলা, জেগে ওঠে প্রেম। উৎসবের এই দিনে ভালোবাসার মানুষের খোঁপায় গেথে দিবে নিজ হাতে ভালোবাসার ফুল। খুব কাছ থেকে দেখবে লাল পাইরের সাদা শাড়ী পড়া লাল চুড়ি আর নীল টিপে প্রিয়তমাকে। প্রিয়তমা অনুভব করবে প্রিয়তমের ভালোবাসা।

প্রতি বছর আসে বৈশাখ। নতুন বছর। নতুন সূর্যের আভায় বিচ্ছুরিত আলোকণা দুলে ওঠে হৃদয়ে। গাছে নতুন পাতা যোগ করার মতোই আমাদের মনকে নতুন করে তুলে। নির্লিপ্ত আকাশ চুইয়ে গ্রীষ্মের দাবদাহ যখন জীবন মরুময় করে, চৈতালি রোদে যখন কাঁদামাটি ঠনঠনে, মাঠে-ঘাঠে কৃষক-কৃষাণীর যখন নাভিশ্বাস, তখনই বৈশাখ আনে ঝড়। সাথে নির্মল পানির আগমন ঘটে । আনে প্রশান্তির শীতল বাতাস। ঘরময় তৈরি হয় এক নীরব আবহ। প্রকৃতি হয় প্রেমের আহ্লাদী। পিছনের সব বিভেদ ভুলে, নতুন কিছুর প্রত্যয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা বাংলা নববর্ষের প্রথম মাস বৈশাখ। পহেলা বৈশাখ আগামীর প্রানের দোলা, পিছনের যাতনা, দুঃখ-ব্যথা, জরা, চিত্র সব ভুলে এক আনন্দ এক কাতারে সাঁতার কাটে, হাত নেড়ে সুখের আহ্বান জানায়। এ যেন মন ভাজ্ঞা মানুষকে সামনে ঠেলে দেয়ার ভালোবাসার গহীন সুর। প্রকৃতির চয়নে অসাধারণ সুর বজায় রেখে সৌন্দর্যরূপ ঋতু গ্রীষ্মের আহবান। কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ গেয়েছেন- "এসো হে বৈশাখ, এসো এসো, তাপসনিশ্বাসবায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে, বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক। যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে যাওয়া গীতি, অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক।

মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা,
অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।"

"দোলেরে দোলে, অঙ্গ দোলে বাংলা ঢুলির ঢোলের তালে,নাগরদোলা আর বাঁশের বাঁশি, কিশোর-কিশোরীর চোখের হাসি, ভালোবাসিরে ভালোবাসি, বৈশাখী মেলা ভালোবাসি।" নগরে গ্রামে বৈশাখী মেলা হয়, পুতুল নাচ হয়, সাপের খেলা দেখানো হয়, হাডুডু, দাড়িয়াবান্ধা, বৌচি গোল্লাছুট, কানামাছি খেলার আয়োজন থাকে।

এই দিন বাজ্ঞালির মনে উৎসব জাগে। প্রাণে প্রাণে দোলা দেয় প্রেম। এই প্রেম এক নীরব নিবিড় দোলা। প্রেমিকার মন বুঝার কবিদের খেলা। উৎসবের সাথে তরুন তরুনীদের মহামিলন। ভালোবাসা,গন্ধরাজ ফুল, দখিনা হাওয়া, রৌদ্র ছায়া বৃষ্টির খেলা। ভোরের মিষ্টি পাখির গান ভালোবাসার নিবিড় সম্পর্ক, স্বচ্চ সাজানো ভালোবাসায় প্রেমময় হয়ে ওঠে। কবিতায় মগ্ন হয় প্রকৃতি। পহেলা বৈশাখ আছে বলেই নিসর্গে নির্মেঘ রোদ্দুর জেগে ওঠে, পরম বাতাসের পরশে সকাল সন্ধ্যায় দেহে লাগে মিষ্টি দোলা। আনন্দে জেগে ওঠে প্রেমময় প্রাণ গুলো।

বৈশাখকে নিয়ে কবি কাজী নজরুল ইসলাম ব্যতিক্রম লিখেছেন- "আমি ধূর্জটি, আমি এলোকেশে ঝড় অকালবৈশাখীর। আমি বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী সূত-বিশ্ব বিধাত্রির।"
"ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কালবৈশাখীর ঝড়, তোরা সব জয়ধ্বনি কর, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।"
"নাচে ঐ কালবৈশাখী,কাটাবি কাল বসে কি?
দে রে দেখি, ভীম কারার ঐ ভিত্তি নাড়ি।"

তিনি পুরনোকে পিছনে ফেলে নতুনের ডাক দিয়ে বলেছেন- "এল এলরে বৈশাখি ঝড়, ঐ বৈশাখি ঝড় এল এল মহীয়ান সুন্দর।"

"ঝড় এসেছে ঝড় এসেছে কারা যেন ডাকে
বেরিয়ে এলো তরুণ পাতা পল্লবহীন শাখে।
কচি পাতার লাগল নাচন ভীষণ ঘূর্ণিপাকে।
মন মেতেছে আজ নূতনের ঝড়ের মহোৎসবে।"

পহেলা বৈশাখ গীত বিরাজ করে বাঙালির হৃদয়ে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অসংখ্য কবিতা ও গানে উঠে এসেছে বৈশাখের কথা। পহেলা বৈশাখ কেবল রূপের গুনে মুগ্ধ করেই ক্ষান্ত হয়না ভালোবাসার রং রাজ্ঞিয়ে দিয়ে প্রাণে প্রাণে রঙ ছড়িয়ে হারিয়ে যায়। কোকিল দোয়েল আর মৌমাছির প্রাণে প্রেমের ঢেউ শোভিত হয়ে ফুটে উঠে ফুল। কোকিলের কুহু কুহু সুর প্রেমিকার ভালোবাসা স্পর্শতায় আহ্বান করে প্রিয়তমাকে কাছে আসার। তরুন-তরুনী আর কিশোর-কিশোরীর মনে শিহরণ তোলে। রূপ লাবণ্যে জেগে উঠে প্রকৃতি। গাছের পাতা আর ফুলে আলোর নাচন ফুটে কোকিলের কুহুতানে। সবখানে জানিয়ে দেয় আজি নতুন বছর জাগ্রত দ্বারে। বাঙালি উৎসবকে জড়িয়ে রাখেন হৃদয়ের খুব কাছে। এই উৎসবে দেশের প্রতি ভালোবাসা জেগে ওঠে। "আমি তাকডুম তাকডুম বাজাই,

বাংলাদেশের ঢোল, সব ভুলে যাই। তাও ভুলি না বাংলা মায়ের কোল। মা তোমার মাটির সুরে সুরেতে। আমার জীবন জুড়াইলা মাগো বাউল ভাটিয়ালিতে। বাজে ঢোল নরম গরম তালেতে, বিসর্জনের ব্যাথা ভোলায়, আগমনের সুরেতে।

সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা।

লেখক : কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন

সর্বশেষ খবর

  •   কানাডার মন্ট্রিয়ালে বাঙালীদের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট সম্পন্ন
  •   অন্ধ হাফিজ সিরাজুল ইসলাম রঘুপুরী কিডনীর জটিলতায় শয্যাশায়ী
  •   বালাগঞ্জের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সিকন্দর আলীর চেহলাম সম্পন্ন
  •   মদন মোহন কলেজ ছাত্রলীগের শোক
  •   বড়লেখায় ডেঙ্গু আক্রান্তদের দেখতে হাসপাতালে সোয়েব
  •   অবশেষে হচ্ছে সিলেট চেম্বারের নির্বাচন
  •   সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ‘স্পিড গান’
  •   সুনামগঞ্জে ২০ হাজার মানুষের ভরসা এক হাত সড়ক!
  •   স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রশীদের উপর হামলার ১ বছর, এখনো মিলেনি কোন ‘ক্লু’
  •   কাশ্মীরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে যুবকদের তুলে নেয়া হচ্ছে
  •   দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ১২ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ২
  •   কাশ্মীর নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে মোদির ফোনালাপ
  •   বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ইসলামী ফাউন্ডেশনের কর্মসূচি
  •   ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ড. মোমেন
  •   তুরস্কে তিন মেয়রকে বরখাস্ত, কী বলছে এরদোগানের দল?