আজ বুধবার, ২৭ মে ২০২০ ইং

আবরার হত্যার রাতে পুলিশ বুয়েটের হলে গেলে বলা হয় ‘কোনো সমস্যা নেই’

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০১৯-১০-১৪ ১৭:২৮:৫৮

সিলেটভিউ ডেস্ক :: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যায়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার রাতে পুলিশ হল গেলে গেলে জানানো হয় কোনো সমস্যা হয়নি। এ তথ্য জানিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেছেন, ‘‍রাত ৩টার দিকে বুয়েটের শের-ই বাংলা হলের সামনে গেলে পুলিশকে বলা হয়েছিল কোনো সমস্যা নেই। ওই সময় পুলিশকে ভুল তথ্য দেয়া হয়েছিল।’

সোমবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

আবরার হত্যার রাতে পুলিশের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ৬ অক্টোবর রাত ৩টার পরে হল গেটে গিয়েছে। সেসময় পুলিশকে বলা হয়েছে কোনো সমস্যা নেই। ভেতরে সমস্যা না থাকলে পুলিশ হলে ঢোকার রেওয়াজ নেই। সমস্যা থাকলে, কেউ জানালে তখন তারা ঢুকতে পারে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে যেটা পেয়েছি, ৩টার বেশ আগেই আবরার মারা গেছে। পুলিশ গিয়েছে অনেক পরে। ফলে কোনো চিৎকার বা শব্দ শোনাও সম্ভব হয়নি।

হত্যার মোটিভ জানা সম্ভব হয়েছে কিনা—জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ঘটনায় ১৯ জন গ্রেফতার আছে। ১৫ জন এজাহারনামীয় এবং চার জন এজাহার বহির্ভূত। গ্রেফতার হওয়াদের মধ্যে চার জন বিজ্ঞ আদালত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, যে তারা শিবির সন্দেহে আবরারকে মারধর করেছিল। জবানবন্দির পাশাপাশি তথ্য বিশ্লেষণ এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে আসতে হবে যে তাকে কী হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করছিল নাকি মারার জন্য মেরেছিল। কাজেই শিবির সন্দেহে পেটানো না অন্যকিছু সেটা আরও তথ্যপ্রমাণ ছাড়া উপসংহারে পৌঁছানো যাবে না।

অনেকে বলছেন মারধর করেছে দু’দফা, তিন দফা। আপনাদের পর্যবেক্ষণ কী বলছে— এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কারও কারও জবানবন্দিতে এসেছে বারবার কয়েক ঘণ্টা ধরে মারধর করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আগামী নভেম্বরের শুরুর দিকেই আবরার হত্যা মামলার তদন্ত শেষ হবে। নভেম্বর মাসেই আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল করবে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।’

আবরার হত্যার রাতে বুয়েট এলাকায় পুলিশের কোনো টহল টিম ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার দিন রাত ৩টা পর্যন্ত বুয়েট এলাকায় পুলিশের একটি টিম ছিল। কিন্তু তারা এ সময় কোনো হইচইয়ের শব্দ পাননি।’

প্রসঙ্গত ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় খুন হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ। ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে শনিবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফাহাদ। এর জের ধরে ৬ অক্টোবর রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পিটুনির সময় নিহত আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা।

তবে আবরার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা।

হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ না রাখতে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে (ডিলিট) দেয় খুনিরা। তবে পুলিশের আইসিটি বিশেষজ্ঞরা তা উদ্ধারে সক্ষম হন। পুলিশ ও চিকিৎসকরা আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন।

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ইতিমধ্যে পুলিশ ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। ১৩ জনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। রোববার পর্যন্ত চারজন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

গ্রেফতার আসামিরা হলেন- বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন, অনীক সরকার, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, ইফতি মোশারেফ, বুয়েট ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে রবিন, গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে মুন্না, ছাত্রলীগের সদস্য মুনতাসির আল জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম ওরফে তানভীর, মোহাজিদুর রহমানকে, শামসুল আরেফিন, মনিরুজ্জামান ও আকাশ হোসেন, মিজানুর রহমান (আবরারের রুমমেট), ছাত্রলীগ নেতা অমিত সাহা এবং হোসেন মোহাম্মদ তোহা।

এদের মধ্যে ১৩ জনকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগ। আর ১৯ জনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।


সৌজন্যে : যুগান্তর
সিলেটভিউ২৪ডটকম/১৪ অক্টোবর ২০১৯/জিএসি

@

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন