আজ মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০ ইং

'আমাকে স্যার সম্বোধন করে কথা বলুন, আমি ডিসির সমমান'

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-১০-২৯ ১৯:৩৫:৪৫

সিলেটভিউ ডেস্ক :: 'আমার সম্পর্কে আপনি কতটুকু জানেন, আমি ডিসির সমমান পদমর্যাদায় আছি। আমি ২০তম বিসিএসে ক্যাডার হিসেবে যোগদান করার পর ৫ম গ্রেডে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছি। আমাকে আগে স্যার বলে সম্মোধন করে পরে কথা বলুন' বলেই ফোন কেটে দেন ত্রিশাল বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক হোসেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যুৎ বিভাগের নানা অনিয়ম ও হয়রানি শিকার হয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করতে ত্রিশাল প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে আসলে এসব বিষয়ে জানতে দৈনিক সমকাল প্রতিনিধি মতিউর রহমান সেলিম নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক হোসেনকে ফোন দিলে তিনি এমন দাপুটে কথা বলেন।

জানা যায়, চলতি বছরের ৩ আগস্ট নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে ত্রিশাল বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রে যোগদান করেন ফারুক হোসেন। তিনি যোগদানের পর থেকেই উপজেলায় চলছে ঘনঘন লোডশেডিং, আর ভুতুরে বিল তো আছেই। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গ্রামের গ্রাহকরা গাছ ও বাঁশের খুঁটির মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগের পরিবর্তে পিলারের আবেদন করলেও তা আমলে নিচ্ছেন না ওই কর্মকর্তা।

এ ছাড়া বাড়িতে মিটার না থাকলেও প্রায় অর্ধলাখ টাকার ভুতুরে বিল দিয়ে হয়রানির শিকার গিয়াস উদ্দিন নামের এক ভুক্তভোগী একাধিকবার নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে গিয়ে কোনো সুরাহা না পেয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন। ওই ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন হয়। কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করার পর রেহায় পান ভুক্তভোগী গিয়াস উদ্দিন।

গ্রাহক হয়রানি আর লোডশেডিংয়ের বিষয়ে বিদ্যুৎ অফিসে গেলে ভুক্তভোগীরা তার অসদাচরণের শিকার হন। বৃহস্পতিবার কয়েকজন ভুক্তভোগী আসেন ত্রিশাল প্রেস ক্লাবে। বিষয়গুলো জানতে নির্বাহী প্রকেীশলী ফারুক হোসেনকে দৈনিক সমকাল প্রতিনিধি ফোন দিয়ে ভাই বলে সম্বোধন করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, আমি ডিসিদের সমমর্যাদার। আগে আমাকে স্যার বলে সম্বোধন করেন পরে কোনো প্রশ্ন থাকলে করুন। এই বলে তিনি ফোন কেটে দেন।

স্যার ডাকার বিষয়টি সাংবিধানিক কোনো বাধ্যবাধকতা বা প্রজ্ঞাপন আছে কিনা জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকেীশলী ফারুক হোসেন বলেন, আমি ২০তম বিসিএসে সহকারী প্রকৌশলী ক্যাডার হিসেবে বিদ্যুৎ বিভাগে যোগদান করি। ৫ম গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে আমরা তো ডিসিদের পদমর্যাদার। তাদের স্যার ডাকলে আমাদের স্যার ডাকতে অসুবিধে কোথায়। আপনাদের ইউনিয়ন পর্যায়ে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে যদি স্যার ডাকতে পারেন আমরা কেন স্যার ডাক শুনতে পারি না।

বিদ্যুৎ বিভাগের এই অসাধু কর্মকর্তা নিজেকে বিসিএস ক্যাডার দাবি করলেও বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের ওয়েবসাইডে গিয়ে ১৯৮২ সালের পর থেকে বিদ্যুতের আলাদা কোনো ক্যাডারের তথ্য পাওয়া যায়নি। ২০তম বিসিএস দাবি করলেও সেই তালিকাতেও তার নাম দেখা যায়নি।

উপজেলার একাধিক বিসিএস কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায়, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনে ৮২ সালের পর থেকে বিদ্যুৎ বিভাগে আলাদা ক্যাডার আছে বলে আমাদের জানা নেই। তিনি নিজেকে কেন ২০তম বিসিএস কর্মকর্তা দাবি করলেন সেটা তিনি বলতে পারবেন।



সিলেটভিউ২৪ডটকম/২৯ অক্টোবর ২০২০/কালের কণ্ঠ /জিএসি

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন

সর্বশেষ খবর

  •   সিলেটে নববধূ হত্যার ঘটনায় স্বামীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা
  •   কানাইঘাট দারুল উলুম দারুল হাদিস মাদ্রাসার ওয়াজ মাহফিল ২৫ নভেম্বর
  •   কানাইঘাটে বাঘের থাবা ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার পুরস্কার বিতরণ
  •   সিলেট অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন মাত্রা কৈতক ট্রমা সেন্টার: এমপি মানিক
  •   ভবমেলা ২০২০-এর সমাপনীতে উচ্চারিত হয় ‘ভবতোষের স্বপ্ন, ভবতোষদের স্বপ্ন’
  •   ওসমানী হাসপাতালের বিদায়ী ও নবযোগদানকৃত পরিচালককে বিএনএ’র সংবর্ধনা
  •   ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সকল কার্যক্রম স্থগিত করলো কেন্দ্র
  •   ওসমান হাসপাতালের বিদায়ী ও নবযোগদানকৃত পরিচালককে বিএনএ’র সংবর্ধনা