আজ মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯ ইং

সম্পদ বেড়েছে সিলেটের ছয় সাংসদের

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০১৮-১২-০৬ ০০:১৯:২৩

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক :: পাঁচ বছরের ব্যবধানে সিলেটের ছয়টি সংসদীয় আসনের সাংসদদের সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে যে হলফনামা তাঁরা নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছেন, তা বিশ্লেষণ করে পাঁচ সাংসদের সম্পদ বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া গেছে। অপর সাংসদ, সিলেট-১ আসনের আবুল মাল আব্দুল মুহিত এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন না। যার ফলে তাঁর হলফনামা ছিল না।

তবে গত ২৬ নভেম্বর ঢাকায় সচিবালয়ে অনলাইনে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেন অর্থমন্ত্রী মুহিত। তাতে দেখা যায়, গেল দশ বছরে তাঁর সম্পদ বেড়েছে এক কোটি ১৩ লাখ ৩২ হাজার ৪৬১ টাকা।

২০০৮ সালে দেশে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। তখন মুহিতের সম্পদের পরিমাণ ছিল এক কোটি ১৪ লাখ ৮৩ হাজার ৩৬ টাকা। দশ বছরের ব্যবধানে তাঁর সম্পদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ২৮ লাখ ১৫ হাজার ৪৯৭ টাকায়।

হলফনামা অনুসারে, সিলেট-২ আসনের সাংসদ জাতীয় পার্টির ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়ার অস্থাবর সম্পদ পাঁচ বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৮৩ লাখ ৩৮ হাজার ৪৪৪ টাকা। এছাড়া তাঁর আয় বেড়েছে ১১ লাখ ৫ হাজার টাকা।
২০১৪ সালে দশম জাতীয় নির্বাচনে এহিয়ার হলফনামা অনুসারে, তখন তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ওই সময় তাঁর অস্থাবর সম্পদ ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এবার একাদশ জাতীয় নির্বাচনে হলফনামা অনুসারে, এহিয়ার বার্ষিক আয় ১২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৪৪৪ টাকার। তবে গেলবারের মতো এবারও এহিয়া কোনো স্থাবর সম্পদ দেখাননি।

সিলেট-৩ আসনের সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস দশম জাতীয় নির্বাচনে (২০১৪) বার্ষিক আয় দেখিয়েছিলেন ১১ লাখ ১৬ হাজার টাকা। ওই সময় তাঁর অস্থাবর সম্পদ ছিল ৮ কোটি ৮১ লাখ ৮৫ হাজার ৭১৪ টাকার এবং স্থাবর সম্পদ ছিল ১ কোটি ৪৬ লাখ ৫৫ হাজার ২০০ টাকার।
এবার একাদশ জাতীয় নির্বাচনের হলফনামা অনুসারে, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের বার্ষিক আয় ৪৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। তাঁ অস্থাবর সম্পদ ৯ কোটি ১৭ লাখ ১২ হাজার ২৯৮ টাকার এবং স্থাবর সম্পদ ২ কোটি ৯৪ লাখ ৩৭ হাজার ৯৮৬ টাকার। এ হিসাবে পাঁচ বছরের ব্যবধানে কয়েসের বার্ষিক আয় বেড়েছে সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা। আর তাঁর অস্থাবর সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৫ লাখ ২৬ হাজার ৫৮৪ টাকার এবং স্থাবর সম্পদ বেড়েছে এক কোটি ৪৭ লাখ ৮২ হাজার ৭৮৬ টাকার।

সিলেট-৪ আসনের সাংসদ ইমরান আহমদ। গেল নির্বাচনে হলফনামায় তিনি বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৮২ হাজার ৫০০ টাকা দেখিয়েছিলেন। ওই সময় তাঁর অস্থাবর সম্পদ ছিল ৫২ লাখ ৯২ হাজার ৩৮২ টাকার এবং স্থাবর সম্পদের মধ্যে ছিল ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের কৃষি জমি ও একটি চা-বাগানের ০.১৫৪ অংশের মালিকানা।
এবার একাদশ জাতীয় নির্বাচনের হলফনামা অনুসারে, ইমরান আহমদের বার্ষিক আয় ২৯ লাখ ৫১ হাজার ৬২৩ টাকা। তাঁর অস্থাবর সম্পদ এক কোটি ৫২ লাখ ৩৮ হাজার ৯৯৭ টাকার এবং স্থাবর সম্পদের মধ্যে ২৪.২৭ একর কৃষি জমি, ৪.৫০ একর অকৃষি জমি এবং শ্রীপুর চা-বাগানের ০.১৫৪ অংশের মালিকানা আছে। এ হিসাবে ইমরানের আয় বেড়েছে ২৩ লাখ ৬৯ হাজার ১২৩ টাকা। তাঁর অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে ৯৯ লাখ ৪৬ হাজার ৬১৫ টাকার। একইসাথে স্থাবর সম্পদের পরিমাণও বেড়েছে।

সিলেট-৫ আসনের সাংসদ সেলিম উদ্দিনের অস্থাবর সম্পদ পাঁচ বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৩৭ লাখ ৭৬ হাজার ৩৬৭ টাকার। দশম জাতীয় নির্বাচনে তিনি অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছিলেন এক কোটি ২০ লাখ ৮৩ হাজার ৬৫২ টাকার। এবার দেখিয়েছেন এক কোটি ৫৮ লাখ ৬০ হাজার ১৯ টাকার। গেলবার কোনো বার্ষিক আয় না দেখালেও এবার তিনি এ আয়ের পরিমাণ ২৫ লাখ ২৯ হাজার ৯০৪ টাকা উল্লেখ করেছেন। গেলবার তাঁর স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল এক এক কোটি ৬৮ লাখ ৯৯ হাজার ৭০ টাকার। এবার তা ২২ লাখ ৩৯ হাজার ৫৭০ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৪৬ লাখ ৯৪ হাজার ৫০০ টাকার।

সিলেট-৬ আসনের সাংসদ নুরুল ইসলাম নাহিদ এবার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেণ এক কোটি ৫৮ লাখ ১৬ হাজার ৯ টাকার। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিসংখ্যান অনুসারে, তখন নাহিদের অস্থাবর সম্পদ ছিল ৯৮ লাখ ৩০ হাজার ৫৫০ টাকার। এ হিসেবে গেল পাঁচ বছরে তাঁর অস্থাবর সম্পদ ৫৯ লাখ ৮৫ হাজার ৪৫৯ টাকা।

শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা নুরুল ইসলাম নাহিদের স্থাবর সম্পদের পরিমাণও বেড়েছে। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় নির্বাচনে নাহিদ তাঁর স্থাবর সম্পদের তালিকায় যৌথ মালিকানায় থাকা ৫ একর জমি ও ২ একরের বাড়ি দেখিয়েছিলেন। তখন তাঁর নামে পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের অকৃষি জমি ছিল। এরপর ২০১৪ সালে দশম জাতীয় নির্বাচনে নাহিদ স্থাবর সম্পদের পরিমাণ দেখান ৬৯ লাখ ১৮ হাজার টাকা। এবার একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নাহিদ স্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন ৭২ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩৮ টাকা। এ হিসেবে গত পাঁচ বছরে তাঁর স্থাবর সম্পদ বেড়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৪৩৮ টাকা। তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ বাড়লেও আয় কমেছে। গত জাতীয় নির্বাচনে নাহিদ তাঁর বার্ষিক আয় দেখিয়েছিলেন ১৭ লাখ ৭২ হাজার ৩০০ টাকা। এবার তিনি আয় দেখিয়েছেন ১৬ লাখ ৩০ হাজার ২০৫ টাকা। পাঁচ বছরের ব্যবধানে তাঁর আয় কমেছে এক লাখ ৪২ হাজার ৯৫ টাকা।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/৬ ডিসেম্বর ২০১৮/আরআই-কে

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন

সর্বশেষ খবর

  •   খুশির ঠেলা ভোটার শামলা
  •   বালাগঞ্জে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
  •   ব্রিটেনে দয়ামীর ইউনিয়ন এডুকেশন ফোরাম ইউকের আত্মপ্রকাশ
  •   সিলেট সদরে পরাজিত ডালিমের কৃতজ্ঞতা
  •   প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টাকে সিলেট বিভাগীয় ফটোজার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের অভিনন্দন
  •   বড়লেখা উপজেলা নির্বাচনে কে কত ভোট পেলেন
  •   ইকবাল সোবহানের সাথে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের মতবিনিময়
  •   দেশ থেকে মেধা পাচার বন্ধে রাষ্ট্রপতির গুরুত্বারোপ
  •   গোলাপগঞ্জ পৌর আ.লীগ সভাপতি সালেহ আহমদ আর নেই, দাফন সম্পন্ন
  •   বৃহস্পতিবার দেখা যাবে সুপারমুন, সমান হবে দিন-রাত
  •   সিলেটে জাতীয় সাংস্কৃতিক বাছাই প্রতিযোগিতা শুক্রবার
  •   সাত জেলায় সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী-সন্তানসহ ১০ জনের মৃত্যু
  •   মুকুল কুবি'র সভাপতি সাকিব, সম্পাদক সিয়াম
  •   রুয়েটে আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় ভলিবল প্রতিযোগিতা শেষ হচ্ছে বুধবার
  •   মসজিদে শহীদদের রক্তের মূল্য আমরা নেবই: এরদোগান
  • সাম্প্রতিক সিলেট খবর

  •   বালাগঞ্জে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
  •   সিলেট সদরে পরাজিত ডালিমের কৃতজ্ঞতা
  •   প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টাকে সিলেট বিভাগীয় ফটোজার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের অভিনন্দন
  •   ইকবাল সোবহানের সাথে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের মতবিনিময়
  •   গোলাপগঞ্জ পৌর আ.লীগ সভাপতি সালেহ আহমদ আর নেই, দাফন সম্পন্ন
  •   সিলেটে জাতীয় সাংস্কৃতিক বাছাই প্রতিযোগিতা শুক্রবার
  •   ব্লাস্ট সিলেট ইউনিটের প্যানেল আইনজীবীদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
  •   হবিগঞ্জ বালিকা স্কুলে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ
  •   হবিগঞ্জে কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা
  •   ওসমানীনগরে কেয়ারটেকার হত্যার রহস্য উদঘাটন
  •   সিলেটে তাঁতী লীগের প্রতষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
  •   বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক ফোরামের অনুষ্ঠানে মুক্তাক্ষরের আবৃত্তি পরিবেশন
  •   দক্ষিণ সুরমায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ সম্পন্ন
  •   মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ইনডোর স্পোর্টস টুর্নামেন্টের উদ্বোধন
  •   কমলগঞ্জে কৃষিজমিতে গড়ে উঠছে বাণিজ্যিক ভবন, বিপর্যস্ত হচ্ছে কৃষি জমি