আজ শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২০ ইং

সিলেটের আদম-বেপারীদের বিরুদ্ধে দিনব্যাপি অ্যাকশন, জেল-জরিমানা

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০১৯-০৫-১৪ ০০:২৬:৪০

এনামুল কবীর :: সিলেটের অবৈধ আদম বেপারীদের প্রচন্ড দুঃসময় শুরু হয়েছে। ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানের মুখে পড়েছেন তারা। গুণছেন মোটা অংকের জরিমানা। তবে তাদের কাছে বিভিন্ন সময়ে হয়রানির শিকার হওয়া সাধারণ জনগন বা প্রবাসীরা এতে সন্তুষ্ট নয়।

তাদের কথা পরিষ্কার, আরো কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করে তাদের প্রতারণার পথগুলো বন্ধ করতে হবে।

সম্প্রতি সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপের ইতালিতে প্রবেশের সময় ৬ সিলেটী যুবকের মৃত্যুর পর এ ব্যাপারে তৎরপরতা শুরু করেছে সিলেটের প্রশাসন।

তবে সিলেটের আদম বেপারীদের প্রতারণা বা দৌরাত্য কিন্তু নতুন নয়। যুগের পর যুগ ধরে অবৈধ পথে শুধু ইউরোপ নয়, অন্যান্য মহাদেশের ধনী দেশগুলোতে বেকার ও টাকাওয়ালা পরিবারের তরুণ-যুবকদের পাঠানোর নামে লাখলাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা।

সরকার স্বীকৃত লাইসেন্সধারী ট্র্যাভেল অ্যাজেন্টগুলোর চেয়ে অবৈধরাই এক্ষেত্রে বেশি তৎপর। তাদের প্রতারণায় নিঃস্ব হয়েছে অনেকে। ঘরবাড়ি হারানো মানুষের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়।

ইউরোপ-আমারেকি-বা আফ্রিকার ধনী দেশগুলোতে অবৈধভাবে লোক পাঠানোর নামে তারা যেমন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়, তেমনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ক্ষেত্রেও তাদের কর্মপদ্ধতিও একই।

ভালো কাজ, লম্বা বেতন আর সুখি-সুন্দর জীবনের লোভ দেখিয়ে তারা মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ পথের কথা গোপন রেখে বিদেশ পাঠানোর জন্য মৌখিকভাবে চুক্তিবদ্ধ করে। তারপর টাকা নিয়ে মাসের পর মাস দিনের পর দিন নানা টালবাহানায় হয়রানির পথ বেছে নেয়। একসময় যাত্রীদের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পথে পাড়ি জামাতে বাধ্য করে।

কোনকোন আদম বেপারী আবার আন্তর্জাতিক জিম্মি চক্রের সাথেও জড়িত। তারা দেশ থেকে চোরাই পথে মালয়েশিয়ার পাহাড় জঙগল বা পূর্ব ইউরোপের কোন দরিদ্র দেশের খুঁপড়ি ঘরে দিনের পর দিন বন্দী রাখে এবং তাদের পরিবারের কাছ থেকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।

এছাড়াও এজাতীয় আদম বেপারীদের প্রতারণার আরো অসংখ্য পথ রয়েছে। কেউকেউ বিমান বা কোন এয়ার লাইন্সের টিকিট, পাসপোর্ট তৈরি বা রিনিউ, মধ্যপ্রাচ্যের ভিসা, ওমরাহসহ নানাভাবে তারা তাদের প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

আর তাদের এমন অমানবিক প্রতারণার ফলে কখনো কখনো মহাবিপর্যয় নেমে আসছে। এমন বিপর্যয়ের সর্বশেষ উদাহরণ হচ্ছে লিভিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরেই ৫১ বাংলাদেশিসহ ৭৪ জনের প্রাণহানী। এরমধ্যে আবার সিলেটেরই আছেন প্রায় ১৫ জন।

এতএত ছলনা প্রতারণার ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন যথারীতি কুম্ভকর্ণের নিদ্রায় ছিল এতদিন। এবার সেই নিদ্রা ভঙ্গ হয়েছে এবং তারা নড়াচড়া করতে শুরু করেছেন। অভিযান শুরু করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

সোমবার এমন ৩টি অভিযানের খবর পাওয়া গেছে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্র্যাট মো. হেলাল চৌধুরীর নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয় জিন্দাবাজারের ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে।

এসময় ৩ পাচারকারীকে আটক করে একমাসের কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয। আটককৃতরা হচ্ছেন- ইউসিএস অ্যাডুকেশনের হীরা, রিচ রিল্যাশন গ্রুপের মাহবুব এবং জাকির অ্যাডুকেশনের একজন কর্মচারী। তার নাম জানা যায়নি।

বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্র্যাট আশরাফুল হকের নেতৃত্বে উপশহরস্থ রোজভিউ কমপ্লেক্সে অভিযান চালানো হয়। এসময় আবিদ ওভারসিজকে ২০ হাজার, আসসালাম হজ্জ এবং ওমরা (প্যারাডাইস) অ্যাজেন্সিকে ১৫ হাজার, আলকেফাকে ২০ হাজার, খাজা এয়ার ইন্টারন্যাশনালকে ২০ হাজার, হোয়াইট ট্রাভেলসকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সোমবার তৃতীয় অভিযানটি চালানো হয় নগরীর আম্বরখানা এলাকায়। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্র্যাট ইরতিজা হাসানের নেতৃত্বে দুপুর আড়াইটার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে কয়েকটি অবৈধ ট্র্যাভেল অ্যাজেন্ট প্রায় দেড়লাখ টাকাম জরিমানা করা হয়। কারাদণ্ড দেওয়া হয় দুই কর্মচারীকে।

অভিযানে আবুসাইদ এন্টারপ্রাইজকে ত্রিশ হাজার, ট্রাভেল টাইমকে পঁচিশ হাজার, জিলানী এয়ার ইন্টারন্যাশনালকে পাঁচ হাজার, মিরাজ এয়ার ইন্টারন্যাশনালকে বিশ হাজার, জে স্কয়ার কনসালটেন্সিকে বিশ হাজার, রেঞ্জার ইন্টারন্যাশলকে বিশ হাজার, নিউ জান্নাত ট্রাভেলসকে ত্রিশ হাজার টাকা জরিমনা করা হয়।

এছাড়া ট্রাভেল অ্যাজেন্ট কর্মচারী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পনের দিনের ও নজমুল ইসলাম খানকে দশদিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।

জরিমানাকৃত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই লাইন্সেস-নিবন্ধন বিহীন। তাদের বিরুদ্ধে নানাভাবে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন সময়ে।

তিন ম্যাজিষ্ট্র্যাটই জানিয়েছেন, সম্পূর্ণভাবে তাদের কার্যক্রম বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। সিলেটের জেলা প্রশাসন এ ব্যাপারে সোচ্চার।

এমন সংবাদে প্রতারণার শিকার ও সাধারণ নাগরিকরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তবে কেউকেউ দাবি করেছেন, আরো কঠোর অ্যাকশনে যেতে হবে।

সিলেট সদর উপজেলার আইনুল হক (৩০) গত ৩বছর থেকে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য জিন্দাবাজারের একটি ট্রাভেল অ্যাজেন্টকে ২ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। ভিসা হওয়ার পর আরো ৩ লাখ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও আজো ভিসা হয়নি। টাকাও ফেরত পাননি।

ঐ অ্যাজেন্সির মালিক টালবাহানা চালিয়েই যাচ্ছে। তার দাবি, আরো কঠোর অবস্থান নিতে হবে প্রশাসনকে। স্থায়ীভাবে এদের তৎপরতা বন্ধ করতে হবে।

এ ব্যাপারে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল অ্যাজেন্সিজ অব বাংলাদেশ (আটাব) সিলেট অঞ্চলের সভাপতি আব্দুল জব্বার জলিল বলেন, সিলেটে পাঁচ শতাধিক ভুয়া ট্রাভেলস ব্যবসায়ী আছে। মানবপাচার করছে তারা, আর ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে আমাদের।

তিনি আরো জোরালো অভিযানের দাবি জানিয়েছেন।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ ১৪ মে ২০১৯/এক

@

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন

সাম্প্রতিক সিলেট খবর

  •   কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ২ জনের শরীরে করোনাভাইরাস সনাক্ত
  •   মুক্তিযোদ্ধা কবির আহমদ মুশনের মৃত্যুতে মাওলানা রশীদের শোক
  •   আ.লীগ নেতা মুশনের মৃত্যুতে জেলা আ.লীগের শোক
  •   জৈন্তাপুরে একদিনে সর্বোচ্চ ১৪ জনের করোনা শনাক্ত
  •   করোনা: সিলেটে মাত্র ৩০ হাজারে তৈরি হলো ‘ভেন্টিলেটর’!
  •   সরকারের প্রথম ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন সিলেটের ডা. মঈনের পরিবার
  •   সিলেটে ‘তুফান মেইলে’ চড়েছে করোনা, আক্রান্ত আরো ৬০
  •   ওসমানীনগরে ঘাতক ইউপি মেম্বার অধরা, ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন
  •   কানাইঘাটে ৩০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিকের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
  •   কানাইঘাটে ইউপি চেয়ারম্যানদের সুরক্ষা সামগ্রি বিতরণ