আজ সোমবার, ২৫ মে ২০২০ ইং

‘নেত্রীর ভরসায়’ সিলেট আ.লীগের নেতারা

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০১৯-১২-০৩ ০০:১২:৩৭

রফিকুল ইসলাম কামাল :: সামনেই সম্মেলন। কিন্তু যাদের নিয়ে শীর্ষ পদগুলোতে আলোচনা, তাদের সিংহভাগই মুখ ফুটে বলছেন না, ‘আমি অমুক পদে প্রার্থী’; কিংবা ‘আমি অমুক পদে আসতে চাই’। সবার মুখেই ‘নেত্রীর সিদ্ধান্তের’ কথা ঘুরপাক খাচ্ছে। আবার যারা নিজেকে প্রার্থী হিসেবে প্রকাশ করছেন, তারাও সাথে ‘নেত্রী যদি দেন’ এরকম কথা যোগ করছেন।

জানা গেছে, সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচিত নেতাদের সবাই-ই ‘নেত্রী’ তথা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন।

আগামী বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) সিলেট নগরীর আলিয়া মাদরাসা মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ২০০৫ সালের পর এবার সম্মেলন হচ্ছে সিলেট আওয়ামী লীগে। অন্যদিকে ২০১১ সালের নভেম্বরের পর এবার আসবে নতুন কমিটি। ফলে এবারের সম্মেলন নিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহের পারদ বেশ তুঙ্গে। তবে সম্মেলনে কাউন্সিলরদের ভোট গ্রহণ না করার সম্ভাবনাই বেশি বলে জানিয়েছে আওয়ামী লীগের একটি সূত্র। শেখ হাসিনার মতামতের ভিত্তিতে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করতে পারেন।

জানা গেছে, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে অন্তত ১৩ নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে মহানগর আওয়ামী লীগে অন্তত ১১ নেতাকে ঘিরে গুঞ্জন আছে। এসব নেতাদের মধ্যে ১০ জনের সাথে আলাপকালে তারা পদ পাওয়ার বিষয়টি দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেন।

জানা গেছে, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট লুৎফুর রহমান, বর্তমান সহসভাপতি ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি, সহসভাপতি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি, সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ এবং সহসভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদের নাম সভাপতি পদে আলোচিত হচ্ছে নেতাকর্মীদের মধ্যে।

অবশ্য আওয়ামী লীগ সূত্র বলছে, কমিটির শীর্ষ দুই পদের নেতৃত্বে বর্তমানে যারা আছেন, তারাই থাকতে পারেন। আর পরিবর্তন হলে সভাপতি পদে শফিক চৌধুরী কিংবা মাহমুদ উস সামাদের মধ্যে কাউকে দেখা যেতে পারে।

আলাপকালে সিলেট-৩ আসনের এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস সিলেটভিউকে বলেন, ‘১৯৬৮ সাল থেকে সিলেটে আওয়ামী লীগের রাজনীতি দেখে আসছি, ৫১ বছর হয়ে গেছে। বিগত দিনে সভাপতি পদে আসার মানসিক প্রস্তুতি ছিল না। তবে এবার আছে। যদি নেত্রী (শেখ হাসিনা) চান, তবে আমি আছি।’

সিলেট-২ আসনের সাবেক সাংসদ শফিকুর রহমান চৌধুরী সিলেটভিউকে বলেন, ‘নেতাকর্মীরা আমাকে সভাপতি পদে চাইছে। কিন্তু আমি নেত্রীর সিদ্ধান্তেই ভরসা রাখি। যদি নেত্রী (শেখ হাসিনা) দেন, তবে দায়িত্ব নেব।’

মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ সিলেটভিউকে বলেন, ‘রাজনীতিতে প্রায় ৫২ বছর হয়ে গেছে। সবসময় পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন থেকেছি। নেত্রী যে সিদ্ধান্ত দেন, তিনি যদি কর্মী হিসেবে রাখেন তাও আছি, দায়িত্ব দিলেও আছি।’

এদিকে, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান সহসভাপতি এডভোকেট শাহ ফরিদ আহমদ, বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, এডভোকেট নিজাম উদ্দিন ও অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, কোষাধ্যক্ষ ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট শাহ মোশাহিদ আলী, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক রণজিৎ সরকার, উপ-দফতর সম্পাদক জগলু চৌধুরীর নামে কানাঘুষা চলছে।

এ প্রসঙ্গে এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান সিলেটভিউকে বলেন, ‘দলের নেতাকর্মীরা চাইছেন। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন নেত্রী (শেখ হাসিনা)। তিনি দায়িত্ব দিলে আমি অবশ্যই তা পালন করবো।’

সুজাত আলী রফিক বলেন, ‘নেত্রী (শেখ হাসিনা) যেভাবে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে নেতৃত্ব নির্বাচন করেন.....যদি নেত্রী চান, তবে আমি আছি।’

তৌফিক রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আমি নেত্রীর সিদ্ধান্তে বরাবরই আস্থাশীল। নেত্রী আমাকে যে দায়িত্ব দেবেন, আমি তা পালন করবো।’

জগলু চৌধুরী সিলেটভিউকে বলেন, ‘ছাত্রলীগ দিয়ে আমার রাজনীতি শুরু। দীর্ঘকাল ধরে দলের জন্য কাজ করছি। আমার নেত্রী (শেখ হাসিনা) চাইলে আমি দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত আছি।’

এদিকে, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে বর্তমান বর্তমান সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, সহসভাপতি এডভোকেট মফুর আলী, এডভোকেট রাজ উদ্দিন আহমদ ও মুক্তিযোদ্ধা আবদুল খালিক এবং যুগ্ম সম্পাদক ফয়জুল আনোয়ার আলোয়ারের মধ্যে কাউকে দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা। এসব নেতারাও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার ‘নেত্রীর’ উপর ছেড়ে দিয়েছেন।

বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, ‘দলের নেত্রী যদি চান...বিষয়টি তাঁর ওপর নির্ভর করবে। তবে আমি যেকোনো দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত।’

আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের রাজনীতি হচ্ছে গণমানুষের জন্য। এখানে পদপদবী মুখ্য নয়। তারপরও দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা আমাকে সভাপতি পদে দেখতে চাইছেন। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে, বঙ্গবন্ধুকন্যা যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটিই সবাইকে মানতে হবে।’

ফয়জুল আনোয়ার আলাওর, এডভোকেট রাজ উদ্দিন ও মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালিকও সভাপতি পদে আসার বিষয়ে শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তেই আস্থা রাখার কথা বলেছেন।

জানা গেছে, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন ও বিজিত চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাক শফিউল আলম নাদেল ও এটিএম হাসান জেবুল, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তপন মিত্র এবং বন ও পরিবেশ সম্পাদক জগদীশ চন্দ্র দাসের নামে আলোচনা আছে।

এ বিষয়ে এটিএম হাসান জেবুল সিলেটভিউকে বলেন, ‘সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য আমি প্রস্তুত আছি। যদি নেত্রী দেন, কাউন্সিলররা চায়, তবে আমি অবশ্যই দায়িত্ব নেব।’

শফিউল আলম নাদেল বলেন, ‘নেত্রী চাইলে আমি দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত আছি।’

বিজিত চৌধুরী বলেন, ‘আমি সাধারণ সম্পাদক পদে আগ্রহী। যদি নেত্রী দেন, তবে আমি দায়িত্ব নেব।’

সিলেটভিউ২৪ডটকম/৩ ডিসেম্বর ২০১৯/আরআই-কে

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন