আজ বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ ইং

সিলেটে প্রবাসী পরিবারে বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-০৩-২৬ ০০:৪০:১৩

নিজস্ব প্রতিবেদক :: প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট। ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশে^র বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে রয়েছেন সিলেট বিভাগের প্রায় ১০ লাখ প্রবাসী। এসব প্রবাসীরাই ছিলেন সিলেটসহ দেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা। রেমিটেন্সযোদ্ধা খ্যাত প্রবাসীদের উপর ভিত্তি করেই চলে সিলেটের অর্থনীতি। কিন্তু চীন থেকে সারাবিশে^ ছড়িয়ে পড়া করোনা নামক প্রাণঘাতি ভাইরাস উলটপালট করে দিয়েছে প্রবাসীদের জীবন।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, স্পেন, ইতালী ও ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশে দিন দিন বাড়ছে সিলেটের প্রবাসীদের করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা। ইতোমধ্যে মারাও গেছেন কয়েকজন। ফলে বিদেশে থাকা স্বজনদের নিয়ে সিলেটের প্রবাসী পরিবারগুলোতে বিরাজ করছে মারাত্মক উদ্বেগ উৎকন্ঠা। একই সাথে দেশে ফেরা প্রবাসীদের নিয়েও স্বস্তিতে নেই স্বজনরা। হোমকোয়ারেন্টিনে থাকা প্রবাসফেরত স্বজনদের সাথে মিশতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া প্রবাসফেরতদের নিয়ে স্থানীয়দের ভয় ও অতিউৎসাহ মারাত্মক অস্বস্তিতে ফেলেছে তাদেরকে।

এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাজ্যে মারা গেছেন সিলেটের গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের তিন প্রবাসী। বিভিন্ন দেশে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন আরও অনেকে। করোনায় মৃত্যুবরণকারীদের পরিবারের প্রবাসী সদস্যরাও রয়েছেন ঝুঁকিতে। হোমকোয়ারেন্টিনে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তারা। মারা যাওয়া ও আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়াদের নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন দেশে অবস্থানরত তাদের স্বজনরা। প্রতিদিনই ফোনে যোগযোগ করে তাদের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানার চেষ্টা করছেন তারা। এছাড়া করোনভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে তারা দেশে নানা ধর্মীয় আচার পালন করছেন।

এদিকে, চলতি মার্চ মাসে যেসব প্রবাসী দেশে বেড়াতে এসেছিলেন তাদেরকে নিয়েও অস্বস্তিতে রয়েছেন স্বজনরা। দেশে ফেরার পর ১৪ দিনের হোমকোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক হওয়ায় এক ছাদের নিচে থেকেও তাদের সাথে অবস্থান করতে পারছেন না। প্রবাসীদের কাছে ‘নিজের ঘর পরের বাড়ি’র মতো অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশে ফেরার পর কোন প্রবাসী অসুস্থ হলে চিকিৎসা নিয়েও বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। একই অবস্থা প্রবাস ফেরতদের পরিবারের সদস্যদের। প্রবাসী বা প্রবাসফেরতদের পরিবারের সদস্য শুনলে কেউ কাছে ঘেঁষতে চাচ্ছেন না। সামান্য জ¦র-কাশি হলেই তাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন সবাই। ব্যাংক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রবাসফেরতদের প্রবেশ নিষেধ করে বিজ্ঞপ্তি টানানো হয়েছে। এমতাবস্থায় মারাত্মক অস্বস্তিকর সময় কাটাচ্ছেন বিদেশফেরত প্রবাসী ও তাদের পরিবার।

গত এক সপ্তাহে সিলেট ও মৌলভীবাজারে হাসপাতালের আইসোলেশনে মারা গেছেন যুক্তরাজ্য ফেরত দুই নারী। করোনাসন্দেহভাজন হিসেবেই আইইডিসিআরের প্রটোকল অনুযায়ী তাদেরকে দাফন করা হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে মারা যাওয়া নারীর মৃত্যুর পর তার রিপোর্ট এসেছে আইইডিসিআর থেকে। রিপোর্টে বলা হয়েছে ওই নারী করোনা আক্রান্ত ছিলেন না। মৌলভীবাজারে মারা যাওয়া নারীর রিপোর্ট আজ আসার কথা রয়েছে। গত রবিবার রাতে মৌলভীবাজারে যুক্তরাজ্য প্রবাসী নারী মারা যাওয়ার পর সেখানকার পাঁচটি বাসা লকডাউন করে রাখা হয়েছে। ওই বাসাগুলোতে কয়েকটি প্রবাসী পরিবার থাকায় তাদের বাইরে বের হওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এছাড়া প্রবাসী অধুষ্যিত সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলাও লকডাউন ঘোষনা করেছে প্রশাসন।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/২৬ মার্চ ২০২০/শাদিআচৌ/ডিজেএস

@

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন