আজ শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২০ ইং

সিলেটে ঘুরছে না গাড়ির চাকা, চলছে না জীবন

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-০৪-০৮ ০০:০৭:২৬

আনোয়ার হোসেন :: দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় গত ২৬ মার্চ থেকে দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। সেইসাথে বন্ধ করে দেয়া হয় সবধরণের গণপরিহন। এসব গণপরিবহনের মধ্যে রয়েছে বাস, মিনিবাস, লেগুনাসহ অন্যান্য যাত্রীবাহী যানবাহন। সেইসব যানের চাকার সাথে যাদের জীবনের গতি জড়িয়ে আছে তাদের জীবন এখন অনেকটা স্থবির হয়েছে। করোনা ঠেকাতে সরকারি ছুটির মধ্যে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় তাদের জীবনে নেমে এসেছে অচলাবস্থা।

করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ রোধে দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি চলছে। সবরকমের গণপরিবহন বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন পরিবহণ শ্রমিকরা। ‘দিন এনে দিন খাওয়া’ এই মানুষরা সংসার চালাতে বর্তমানে হিমশিম খাচ্ছেন। সরকার, পরিবহণ মালিক, শ্রমিক নেতাসহ কারো থেকে কোনো ধরণের সহযোগিতা মিলছে বলেও অভিযোগ করছেন তারা। যদিও শ্রমিকদের জন্য সাধ্যমতো কাজ করছেন বলে দাবি করছেন এই সেক্টরের নেতারা।

সিলেট নগরীর কদমতলী থেকে সিলেট-ঢাকা রুটে চলাচলকারী মিতালী পরিবহণের চালক রমজান আলী জানান, আমরা দিন এনে দিন খাই।। গত ১০ দিন ধরে কোন কাজ ছাড়াই ঘরে বসে আছি। সংসার চালানো খুব কষ্ট হয়ে পড়েছে। আমাদের সহযোগিতায় এখনো কেউ এগিয়ে আসেন নি। সরকার থেকেও কোনো সাহায্য পাইনি। আমাদেরকে সাহায্য করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

কয়েকজন পরিবহণ শ্রমিক জানিয়েছেন, লম্বা দূরত্বের রুটে তারা এমনিতেই প্রতিদিন কাজ করার সুযোগ পান না। একদিন কাজ করলে দুইদিন সংসার চালাতে হয়। গত দশদিনের ছুটিতে তাদের অবস্থা শোচনীয়। সেই সাথে ঘর ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, সংসার খরচের চিন্তায় তারা উদ্বিগ্ন। তারা আরো জানিয়েছেন, পরিবহণ মালিকদের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের কোনো সাহায্য-সহযোগিতা করা হচ্ছে না।

পরিবহণ চালক সিরাজুল ইসলাম জানান, পরিবহণ বন্ধের সঙ্গে সঙ্গে আয় রোজগার সব বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে বাড়িতে বন্দি অবস্থায় খুব কষ্টে রয়েছি। সরকারের পক্ষ থেকে সাহায্য প্রদানের ব্যবস্থা করতে আমাদের পরিবহণ শ্রমিক নেতাদের কাছে বলেছি। তারা এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।

সিলেট জেলা ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু সরকার সিলেটভিউকে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবহন শ্রমিকরা মানবতের জীবনযাপন করছেন। বিশেষ করে দিন এনে যারা দিনেই খান। আমরা শ্রমিক ইউনিয়নের তহবিল থেকে ৫ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করছি। আমরা থানাওয়ারী এসব খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দিচ্ছি।

সিলেট জেলা সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সেলিম আহমদ ফলিক সিলেটভিউকে জানান, বেশিরভাগ শ্রমিক খাদ্যসংকটে ভুগছেন। অনেকে রোগে ভুগছেন, চিকিৎসা পাচ্ছেন না। আমাদের শাখার আওতাধীন শ্রমিকদের পরিবারকে সাধ্যমতো সহায়তা করার চেষ্টা করেছি। সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের এখনো কোনো সাহায্য করা হয়নি। আমি সিলেটের জেলা প্রশাসকের সাথে এ ব্যাপারে সাক্ষাৎ করেছি। তিনি আমাকে অসহায় পরিবহন শ্রমিকদের তালিকা প্রদানের কথা বলেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি থাকবে এসব অসহায় শ্রমিকরা যেন সরকারি সাহায্য কর্মসূচি থেকে বাদ না পড়েন।

সিলেট থেকে অসংখ্য বাসের পাশাপাশি চলাচল করে মিনিবাস, লেগুনাসহ বিভিন্ন ধরণের যানবাহন। সাধারণ ছুটির কারণে এই ধরণের সমস্যায় জর্জরিত অধিকাংশ পরিবহন শ্রমিক। জানা গেছে, সিলেট জেলা সবমিলিয়ে প্রায় ৭০ হাজার পরিবহন শ্রমিক আছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশই পরিবহন সংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞ। তারা অন্য ধরণের কাজ না জানায়, ঘরে বসে দিন কাটাচ্ছেন।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/৮ এপ্রিল ২০২০/এএইচ

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন

সাম্প্রতিক সিলেট খবর

  •   সিলেটের মিউজিসিয়ানদের মানবিক উদ্যোগ
  •   সিলেট বিভাগে আরো দুটি করোনার ল্যাব চাইলেন ওসমানীর পরিচালক
  •   শামসুদ্দিন হাসপাতালে দুটি ভেন্টিলেটর দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
  •   সিলেটে চিকিৎসা না পেয়ে বন্দরবাজারের আরএল ইলেকট্রনিক্সের মালিকের মৃত্যু
  •   সিলেটে চওড়া হচ্ছে করোনার ভয়ঙ্কর থাবা : একদিনে আক্রান্ত ৮৬, মৃত্যু ৩
  •   করোনা পরীক্ষার পর্যাপ্ত কিট পেল শামসুদ্দিন হাসপাতাল
  •   কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ২ জনের শরীরে করোনাভাইরাস সনাক্ত
  •   মুক্তিযোদ্ধা কবির আহমদ মুশনের মৃত্যুতে মাওলানা রশীদের শোক
  •   আ.লীগ নেতা মুশনের মৃত্যুতে জেলা আ.লীগের শোক
  •   জৈন্তাপুরে একদিনে সর্বোচ্চ ১৪ জনের করোনা শনাক্ত