আজ রবিবার, ০৭ জুন ২০২০ ইং

দাবি ছিল ওসমানীর আইসিইউ, না পেয়ে ঢাকায় যান করোনা আক্রান্ত সেই চিকিৎসক!

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-০৪-০৯ ০০:০৫:০০

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক :: কোভিড-১৯ আক্রান্ত সিলেটের সেই চিকিৎসককে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঢাকায় পাঠায়নি। তার চাহিদামতো ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইইসিউতে স্থানান্তর হতে না পেরে তিনি স্বেচ্ছায় ঢাকায় গেছেন। তবে ঢাকায় যাওয়ার আগে সিলেটে তার চিকিৎসার কোন ঘাটতি ছিল না। তার শারীরিক অবস্থাও ছিল স্থিতিশীল। আইসিইউতে নেওয়ার মতো তার শারীরিক অবস্থানর কোন অবনতিও ঘটেনি।

বুধবার রাত ৯টায় শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইউনুছুর রহমান ও উপ পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত ৫ এপ্রিল ওই চিকিৎসকের করোনা পজেটিভ ধরার পর থেকে তিনি নিজের বাসায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত মঙ্গলবার রাতে তার শ^াসকষ্ট বেড়ে গেলে তাকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে তাকে আইসিইউতে নেওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। কিন্তু ওই চিকিৎসক আইসিইউ’র পরিবর্তে কেবিনে থাকতে চান। কেবিনে তাকে অক্সিজেন লাগানোর পর তিনি আগের চেয়ে সুস্থবোধও করেন। সারারাত চিকিৎসক, এনেস্থলজিস্ট ও স্বাস্থ্যকর্মীরা তাকে সেবা দেওয়ার জন্য হাসপাতালেই ছিলেন।

সকালে ওই চিকিৎসক তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিটে ভর্তির অনুরোধ করেন।  কোভিড-১৯ এর রোগী ওসমানীতে ভর্তি করা সম্ভব নয় জেনেও তিনি ও তার স্ত্রী (তিনিও চিকিৎসক) নানাভাবে চেষ্টা করেন। শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার আশ^াস দেওয়ার পরও ওই চিকিৎসক সেখানে চিকিৎসা নিতে রাজি হননি।

এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ওই চিকিৎসককে ঢাকায় পাঠাতে তার স্ত্রী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান। কিন্তু কোন এয়ার অ্যাম্বুলেন্স কোম্পানি করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী পরিবহনে রাজী হয়নি। পরবর্তীতে শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের এক চিকিৎসক একটি আইসিইউ এ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে দিলে তাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়া হন তার স্ত্রী।

প্রেস ব্রিফিংয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইউনুছুর রহমান জানান, ওই চিকিৎসককে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হবে। তিনি ওই হাসপাতারের পরিচালকের সাথেও কথা বলেছেন। আক্রান্ত চিকিৎসকের চিকিৎসার ব্যাপারে বিএমএ’র মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরীও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান ওসমানীর পরিচালক।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে করোনা রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা ও আইসিইউ নিয়ে নানা অপপ্রচার চলছে দাবি করে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, কোভিড-১৯ এর চিকিৎসার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত শহীদ শামুসদ্দিন আহমদ হাসপাতালের দুটি আইসিইউ অত্যাধুনিক ও সচল। প্রয়োজনমতো রোগীদের সেবা দিতে এ দুটি আইসিইউ বেড প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে বলা হচ্ছে সেগুলো নাকি সচল নয়।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক জানান, আক্রান্ত চিকিৎসক সিলেটের চিকিৎসার উপর কেন আস্থা রাখতে পারেননি সেটা তার ব্যাপার। ওই চিকিৎসক ও তার স্ত্রী ঢাকায় যাওয়ার ব্যাপারে আগেভাগেই মনস্থির করে রেখেছিলেন। যে কারণে হয়তো তাদেরকে সিলেটে রাখা সম্ভব হয়নি। আর কেউ উন্নত চিকিৎসার আসায় কোথাও যেতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়াও সম্ভব নয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের প্রচেষ্ঠায় শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে বৃহস্পতিবার আরও ৯টি আইসিইউ বেড বসানোর কাজ শুরু হবে। কাজ সম্পন্ন হলে এই হাসপাতালে একসাথে ১১ জন রোগীকে ভেন্টিলেশনে রাখা যাবে। কয়েক দিনের মধ্যে আইসিইউ ইউনিট ২০ শয্যায় উন্নিত করা হবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইউনুছুর রহমান, উপ পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায়, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ও ওসমানী মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ শিশির চক্রবর্তী, কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আজিজুর রহমান রোমান, এনেসথেসিয়া বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মাইনুল ইসলাম ডালিম, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুশান্ত মহাপাত্র, এনেসথেসিয়া বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. রুবেল, বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন ওসমানী হাসপাতাল শাখার সাধারণ সম্পাদক ইসরাইল আলী সাদেক।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ ০৮ এপ্রিল ২০২০/ শাদিআচৌ

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন