আজ সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০ ইং

সিলেটে করোনা আতঙ্কে জনপ্রতিনিধি ও ‘মানবিকযোদ্ধারা’

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-০৫-২৯ ১৩:৪৮:০৩

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটে করোনা আতঙ্ক চেপে ধরেছে জনপ্রতিনিধি ও লকডাউনের শুরু থেকে ত্রাণ নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো ‘মানবিকযোদ্ধাদের’। ইতোমধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক জনপ্রতিনিধি। হাসপাতালের আইসোলেশনে রয়েছেন আরেকজন। এছাড়া করোনা আতঙ্কে হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন আরও প্রায় একডজন জনপ্রতিনিধি ও ‘মানবিকযোদ্ধা’। প্রতিদিনই আক্রান্তের এই সংখ্যা বাড়ছে। একই সাথে বাড়ছে আতঙ্কও।

সিলেট বিভাগের মধ্যে সর্বপ্রথম করোনা আক্রান্ত জনপ্রতিনিধি হ”েছন সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ। গত ২১ মে থেকে তিনি শরীরে জ্বর অনুভব করায় করোনা পরীক্ষার জন্য ২৩ মে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে নমুনা প্রদান করেন। পরদিন ওসমানী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় তার করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে। এরপর থেকে তিনি হোম আইসোলেশনে ছিলেন। বৃহস্পতিবার জ্বর ও কাশির সাথে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কাউন্সিলর আজাদ লকডাউনের শুরু থেকে ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিয়ে ওয়ার্ডের অসহায় লোকজনের পাশে দাঁড়ান। গত দুই মাসে তিনি ওয়ার্ডের প্রায় ৫ হাজার গরীব, নিম্নবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মধ্যে ৩-৪ বার করে ত্রাণ বিতরণ করেন। গত ২৪ মে তার করোনা সনাক্ত হওয়ার দিনও তিনি ওয়ার্ডের লোকজনের মধ্যে ঈদের খাবার হিসেবে গরুর মাংস ও মোরগ বিতরণ করেন। মানুষের দ্বারে দ্বারে ত্রাণ পৌঁছে দিতে গিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে এই জনপ্রতিনিধি এখন হাসপাতালে।

এদিকে, করোনা আক্রান্ত হয়ে হোম আইসোলেশনে রয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর একান্ত সহকারী মুহিবুল ইসলাম ইমন। তিনি আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিটি কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ ও ইলিয়াছুর রহমান ইলিয়াছসহ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। দাপ্তরিক কাজকর্ম ও ত্রাণ বিতরণের সময় তারা ইমনের সংস্পর্শে যাওয়ায় তাদেরকে কোয়ারেন্টিনে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

লকডাউনের শুরু থেকে এই জনপ্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকায় রাতদিন ত্রাণ তৎপরতা চালিয়েছেন। মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন খাদ্য সহায়তা।

মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, তার শরীরে করোনার উপসর্গ নেই। তবে চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। কাউন্সিলর আজাদ ছাড়াও সিটি করপোরেশনের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানান তিনি। এছাড়া গত মঙ্গলবার করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান শ্রীমঙ্গল পৌরসভার কাউন্সিলর আবদুল আহাদ।

করোনা আক্রান্ত হয়েছেন গোলাপগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর রুহিন আহমদ খান। ওসমানী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে তার করোনা সনাক্ত হয়েছে। তিনি হোম আইসোলেশনে থেকে করোনার চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার অবস্থাও ভালো রয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া লকডাউনের সময় বিশেষ করে রমজান মাসে ত্রাণ তৎপরতা চালাতে গিয়ে সিলেটে বেশ কয়েকজন ‘মানবিকযোদ্ধা’ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। অসহায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ত্রাণ পৌঁছে দিতে গিয়ে তারা নিজেদের অজান্তেই আক্রান্ত হয়েছেন করোনায়। আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের স্ত্রী সিলেট মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসমা কামরান।

গত ২৩ মে নাদেল ও ২৭ মে আসমা কামরান করোনা আক্রান্ত হিসেবে সনাক্ত হন। তারা দু’জনই লকডাউনের পর থেকে ত্রাণ বিতরণে ব্যস্ত সময় পার করেন। ধারণা করা হচ্ছে ত্রাণ বিতরণ করতে গিয়েই তারা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে নাদেল ও আসমা কামরান হোম আইসোলেশনে রয়েছেন। তাদের শারীরিক অবস্থা ভালো রয়েছে।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ ২৯ মে ২০২০/ শাদিআচৌ

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন