আজ সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২০ ইং

ফেঞ্চুগঞ্জ কুশিয়ারা নদীতে ধরা পড়ছে নানান জাতের মাছ

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-০৬-০২ ০১:২৬:২৬

ফরিদ উদ্দিন, ফেঞ্চুগঞ্জ :: দেশে চলমান করোনা পরিস্থিতিতে আর্থিক সংকটে পড়েছেন নানা শ্রেনী পেশার মানুষ। সাধারণ লোকজন বাজারে কম যাওয়ায় বিশেষ করে বিপদেই পড়েছেন মৎস্যজীবি মানুষ। এ বিপদ কিছুটা কাটিয়ে দিচ্ছে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার কুশিয়ারা নদীর ছোট বড় নানান জাতের মাছ।

সম্প্রতি নতুন পানিতে এ নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউসসহ নানা জাতের বড় বড় মাছ। ৫ থেকে ৫০ কেজি ওজন পর্যন্ত নানা জাতের টাটকা মাছ কিনতে ফেঞ্চুগঞ্জ ডাকবাংলো (পুর্ববাজার) এলাকায় ছুটে আসছেন লোকজন। শুধু ফেঞ্চুগঞ্জই নয় মাছ কিনতে আসছেন আশপাশের উপজেলার মানুষও।

সকাল থেকে শুরু করে রাতভর এ নদীতে মাছ ধরেন পেশাজীবি জেলেরা। তাদের পাশাপাশি আশপাশের অপেশাদার লোকজনও মাছ ধরতে নামেন। কোন কোন শৌখিন মাছ শিকারী জাল নৌকা নিয়ে নেমে পড়েন নদীতে। দিন রাত সব সময় সরব থাকে কুশিয়ারা নদী। মূলত উপজেলার পিঠাইটিকর, ছত্তিশ, বাঘমারা এলাকার মৎস্যজীবিরাই স্থানীয় মাছের চাহিদা পূরণ করেন। এ চাহিদা শেষে এখানকার মাছ চলে যায় শহরে। ভোর বেলা পাইকাররা মাছ কিনে তা শহরে পাঠান।

কুশিয়ারা নদীর টাটকা মাছের চাহিদা এতটাই বেশি যে ভোরবেলাও বিভিন্ন লোকজন মাছ কিনতে ভিড় জমান পুর্ববাজার এলাকায়। প্রতিদিনই নানান জাত ও সাইজের মাছ ধরেও অভাব অনটন পিছু ছাড়েনা মৎস্যজীবি অনেকের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পেশাদার জেলে বলেন, সারা রাত নদীতেই কাটাই। মাছ ভালোই ধরা পড়ে আমরা নিজেরা একটা ভাল জাল কিনতে হিমশিম খেতে হয়! কারণ হিসাবে তিনি বলেন, বেশি লাভবান হয় মধ্যসত্বভোগীরা। বড় বড় ক্রেতা তাদের কাছ থেকে মাছ কিনে। তাছাড়া অনেকের আছে ঋন কিস্তির চাপ!

রবিবার বিকালে ওখানে মাছ কিনতে যান ফেঞ্চুগঞ্জ উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহমেদ জিলু ও ইউকে প্রবাসী আব্দুল হাই। ক্রেতা আহমেদ জিলু বলেন, আমাদের কুশিয়ারা নদীর মাছের স্বাদ অতুলনীয়। আল্লাহর রহমতে সব ধরনের মাছ পাওয়া যায় এখানে।

মৎস্যজীবিদের দুর্দশার ব্যাপারে তিনি বলেন, আসলে তারা নিত্য আনে নিত্য খায়। সঞ্চয় খুব কম তাই সংসার চালানো বা অন্যান্য খরচ কুলাতে হিমশিম খেতে হয়। তাছাড়া একটা বড় ও ভাল জাল লক্ষটাকার উপরে। এটাই তাদের জন্য বড় চাপ। তাদেরকে বিনামূল্যে জাল প্রদান করা গেলে সমস্যা চলে যাবে। এ ব্যাপারে কি করা যায় আমরা চিন্তা করব।

প্রবাসী আব্দুল হাই বলেন, আল্লাহর রহমতে আমাদের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। এখানকার মাছ থেকে শুরু করে চা পাতা ও ফলমূল সব কিছুই বিখ্যাত। বিশেষ করে কুশিয়ারা নদীর মাছের কথা কি বলব, আমি প্রত্যেক বছর মাছের মৌসুমে দেশে আসি কুশিয়ারা নদীর মাছ খাওয়ার জন্য। এ নদীর ছোট মাছ বড় মাছ সবকিছুই অতুলনীয়। কুশিয়ারা নদীর রুই, পাবদা, গলদা চিংড়ি বিদেশেও বিখ্যাত। তিনি ও আহমেদ জিলু ৬টি বড় সাইজের রুই, মৃগেল, কালিবাউস কিনেছেন ১৩ হাজার টাকা দিয়ে। যা বাজারে কেজি মাপের তুলনায় দাম খুবই কম।

মৎস্যজীবীদের ব্যাপারে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বলেন, দেশে মাছের পরিমান কমছে। কুশিয়ারা নদীতেও কমছে। এখনকার যে মাছ ধরা পড়ছে তা নিয়মিত নয়। নতুন পানিতে হাওর থেকে বেরিয়ে আসা মাছ নদীতে ধরা পড়ছে। মৎস্যজীবী সবাই যে মাছ ধরতে পারছেন এমনও না। যার ধরতে পারেন নি তাদের অর্থনৈতিক সমস্যা থাকতে পারে। মূল কথা মাছের বংশ রক্ষা করায় জোর দিতে হবে, সরকারের আইনমত ডিমওলা মাছ ও পোনা মাছ ধরা বন্ধ করতে আরো সচেতনতা বাড়াতে হবে। মাছ কমে গেলে শুধু মৎস্যজীবি নয় সবারই সমস্যা হবে।

মৎস্যজীবিদের অর্থনৈতিক অবস্থার ব্যাপারে তিনি বলেন, এখন অনেকেই পেশা বদল করছেন। মাছ ছাড়াও বিভিন্ন কাজে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তাছাড়া যারা পেশাদার মৎস্যজীবি তাদের জন্য সরকার থেকে মৎস্য কার্ড দেওয়া হয়েছে।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/২ জুন ২০২০/এফইউ/ডিজেএস

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন