আজ রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২০ ইং

অপরাধের হেডকোয়ার্টার ‘২০৫’

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-০৯-৩০ ১০:৫৬:০৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : এমসি কলেজের ছাত্রাবাসের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অপকর্মের স্থল ২০৫ নম্বর কক্ষ। এই কক্ষ হচ্ছে সব অপরাধের হেডকোয়ার্টার। সন্ধ্যা নামলেই এই কক্ষেই ছুটে আসতো বখাটে ছাত্রলীগ কর্মীরা। মাদক সেবন, নারীর সঙ্গ সবই হতো এই কক্ষে। সবই দেখতেন আশেপাশের শিক্ষার্থীরা। কিন্তু কেউ কোনো প্রতিবাদ করতেন না। এমনকি ফিরেও চাইতেন না এই কক্ষের দিকে। ওখানে যা হতো সব যেনো বৈধ।
সিলেট এমসি কলেজের শতবর্ষী ছাত্রাবাস। ৮ বছর আগে এই ছাত্রাবাসটি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো। এরপর সরকারের তরফ থেকে এমসি’র এই ছাত্রাবাসকে আগের আদলেই পুনঃনির্মাণ করা হয়। এখনো নির্মাণাধীন ওই ভবন। তবে চার বছর আগে থেকেই এমসি কলেজ কর্তৃপক্ষ হলের দু’তলা এবং তিন তলায় ছাত্র তুলেছে। প্রতি তলায় বসবাস করেন ৩৬ জন ছাত্র। নিচে ডাইনিং। চতুর্থ তলাটি এখনো নির্মাণাধীন। ছাত্ররা বসবাস করলেও নবনির্মিত হলের বাইরে এখনো বিদ্যুতায়ন হয়নি। সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকার হয়ে পড়ে এলাকা। হলের নিচ তলা থেকে দু’তলায় উঠলেই বাম পাশে পড়ে আলোচিত ২০৫ নম্বর কক্ষ।
এই কক্ষেই বাস ছাত্রলীগের ‘ভয়ঙ্কর’ কর্মী শাহ মাহবুবুর রহমান রনির। তার নামেই এই হলটি বরাদ্দ। গত বছর সে এমসি কলেজ থেকে মাস্টার্স পাস করলেও হলের ওই রুম ছাড়েনি। এখনো রুমটি তার নামেই বরাদ্দ। জোরপূর্বক কক্ষটি দখল করে অপরাধ আস্তানায় পরিণত করেছে সে। তার ভয়ে তটস্থ থাকেন হলের অন্য ছাত্ররা। বছর দু’এক আগে ওই কক্ষে এক ছাত্রকে নিয়ে টর্চার করা হয়েছিলো। এরপর থেকে রনির কক্ষটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে আতঙ্কের নাম ছিল।

হলে বসবাসকারী কয়েকজন ছাত্র জানিয়েছেন, মার্চ মাস থেকে হল বন্ধ। কিন্তু শাহ রনি তার কক্ষেই বসবাস করছিলো। তার জন্য খোলা ছিল হলের ডাইনিংও। মার্চ থেকে হল সুপাররা থাকেন না। এ কারণে হলের নিয়ন্ত্রণ করে সে। কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলে না। বরং তারা যেসব কর্মকাণ্ড করে সব যেনো বৈধ। ২০৫ নম্বরে সব সময় আড্ডা দিতো রনি, সাইফুর, রবিউল সহ সব ধর্ষক। তারা ওই কক্ষে বসেই ইয়াবা সহ নানা মাদক সেবন করতো। আড্ডা দিতো, চিৎকার করতো। যখন যা ইচ্ছা তখন তাই করেছে। সন্ধ্যার পর মাঝে মধ্যে তারা হলের বাইরে খোলা জায়গায় অবস্থান নিতো।

অন্ধকারময় ফাঁকা স্থান। ওখানে বসে তারা মাদক সেবন করতো। পাশেই বালুচর, টিলাগড়। ওখান থেকে ছাত্রলীগের বখাটে কর্মীরা যেতো। তাদের নিয়েও আড্ডা হতো। মূলত রনির অবস্থানের কারণেই বাইরের ছাত্রলীগ কর্মীরা বাধা ছাড়াই হলে প্রবেশ করতো। দারোয়ানরাও থাকতো তাদের ভয়ে তটস্থ। শুক্রবার হলের সামনে ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনার সময় দারোয়ানরা সব দেখলেও প্রতিবাদ করেনি। বরং তারা ঘটনাটি দেখেও দেখেনি বলে জানায়। ধর্ষণের ঘটনার পরপরই হলে ছুটে যান কয়েকজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা।
তারা জানিয়েছেন, হলের সামনে পুরোটাই অন্ধকার। এ ছাড়া ওখানে বখাটেরা আড্ডা দেয়। তারা প্রায়ই সন্ধ্যায় হলের বাইরে ছিনতাই করে। পাশের টিলায় বেড়াতে আসা নারীদের উত্ত্যক্ত করে। কখনো কখনো ধর্ষণ করেছে। কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খুলেন না। ঘটনার পর রাতেই সিলেটের শাহপরান থানার পুলিশ হলের আলোচিত সেই ২০৫ নম্বর কক্ষে অভিযান চালায়। সেখান থেকে পুলিশ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, হলের শাহ রনির কক্ষ ছিল সব অপরাধের কেন্দ্রবিন্দু। এ কারণে পুলিশের তরফ থেকে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

সিলেট ভিউ ২৪ ডটকম/ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০/ পিটি

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন

সাম্প্রতিক সিলেট খবর

  •   দক্ষিণ সুরমায় বিদ্যালয়ের মাঠ রক্ষার্থে একালাবাসীর মানববন্ধন
  •   সিলেটে অবস্থানরত ছাতকের নাগরিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
  •   মুজিববর্ষ উপলক্ষে সিলেট জেলা পরিষদের বৃক্ষরোপণ
  •   বাংলাদেশ জাসদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সিলেটে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
  •   সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিউনিটি পুলিশিং ডে উদযাপন
  •   কমিউনিটি পুলিশিং ডে উপলক্ষে জেদান আল মুসার মাস্ক বিতরণ ও সচেতনতামূলক প্রচারণা
  •   জালালপুর সাহিত্য ফোরামের কমিটি গঠন
  •   মুহাম্মদ সা.’র ব্যঙ্গচিত্রের প্রতিবাদে জনকল্যাণ বাজারে বিক্ষোভ
  •   মােহাম্মদপুর ক্রিকেট ক্লাবের উদ্যোগে দুই প্রবাসীকে বিদায় সংবর্ধনা
  •   সিলেটে চিকিৎসকের ঘরে নিহত কিশোরীর দাফন সম্পন্ন