আজ রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০ ইং

রিমান্ডে যেভাবে দিন কাটছে ‘ভয়ঙ্কর ধর্ষকদের’

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-১০-০১ ২১:০৩:৩৭

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে গত শুক্রবার ঘটে যাওয়া ন্যাক্কারজনক গণধর্ষণকাণ্ড নিয়ে এক সপ্তাহ থেকে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে দেশ-বিদেশে। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আটজনকেই তিনদিনে ধাপে ধাপে আদালতের নির্দেশে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

রিমান্ডে ‘ভয়ানক সেই ধর্ষকদের’ দিন কাটছে কীভাবে- তা নিয়ে মানুষের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কৌতুহলের। দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করা মানুষের কৌতুহল মেটাতে সিলেটভিউ খোঁজ নেয় নববধূর কান্না আর আর্তচিৎকারে হৃদয় না গলা সেই ‘পাষাণ ধর্ষকদের’।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গত সোম, মঙ্গল ও বুধবার এ তিনদিনে ৮  আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যেকের ৫দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। নির্দেশের পরে আদালত থেকে আসামিদের এসএমপির শাহপরাণ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানান, এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে সেদিন ঘটানো ধর্ষণকাণ্ডে অজ্ঞাত আর কে কে জড়িত, ধর্ষণের পর তাদের রক্ষা করতে কারা প্রশ্রয় দিয়েছিলো, এ ঘটনা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে কি-না- রিমান্ডে এসব বিষয়ে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার গোলাম কিবরিয়ার নির্দেশে পুলিশের বিভিন্ন টিম অজানা তথ্য উদঘাটনে আসামিদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

পুলিশ কর্মকর্তা জানান, রিমান্ডে নেওয়ার প্রথম দিন থেকে নানা উশৃঙ্খল আচরণ করছেন আসামিরা। অপ্রীতিকর সকল ঘটনা এড়াতে সতর্ক রয়েছে পুলিশ ও প্রথম দিন থেকেই তাদের সবাইকে আলাদাভাবে রাখা হয়েছে। আসামিদের দুহাত পেছন দিকে হ্যান্ডকাফ দিয়ে আটকে এবং চোখ কাপড় দিয়ে বেঁধে রেখেছে পুলিশ। তারপরও তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে একে অন্যের উপর দোষ চাপাচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ওদের মধ্যে কয়েকজন আবার মাদকাসক্ত। ঘুমের ওষুধ না দিলে তাদের ঘুম আসে না এবং চিৎকার-চেচামেচি করেন। এ পর্যন্ত আত্মীয়-স্বজন বা দলীয় নেতাকর্মী কেউ তাদের কোনো খোঁজ নেননি, এমনকি কেউ একবেলা খাবারও দিয়ে যাননি থানায়। পুলিশের পক্ষ থেকেই তাদের নিয়মিত খাবার সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে তারা মাঝে মাঝে পুলিশের কাছে ‘উন্নতমানের’ খাবারের আবদারও করেন।  

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সন্ধ্যারাতে এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের শিকার হন এক নববধূ। এ ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী বাদি হয়ে শাহপরান থানায় মামলা করেন। মামলায় ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করা হয়।

চাঞ্চল্যকর এ মামলায় এজাহারনামীয় সব আসামিসহ সিলেট রেঞ্জ পুলিশ ও র‌্যাব-৯ এর হাতে গ্রেফতার আটজনের প্রত্যেককেই পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত ও রিমান্ডে নেয়া আসামিরা হচ্ছে- সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান রনি, রাজন, তারেক আহমদ, আইনুল ও মাহফুজুর রহমান মাছুম।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ১ অক্টোবর, ২০২০ / ডালিম

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন