আজ বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০ ইং

করোনাকালেও থামেনি এস.আই আকবরের ‘তাণ্ডব’!

মুখ খুললেন লালদিঘী হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ীরা

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-১০-১৭ ১২:০৪:৪৯

নিজস্ব প্রতিবেদক :: এস.আই আকবর হোসেন ভূঁইয়া। টাকার খনি হিসেবে খ্যাত সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ইনচার্জ হিসেবে আসেন এক বছর ২ মাস আগে। এই ১৪ মাসে নিজ এলাকায় নামে-বেনামে অনেক জায়গা কিনেছেন আকবর। করেছেন মোটাতাজা ব্যাংক ব্যালেন্সও।

১২ অক্টোবর তার ফাঁড়িতে নির্মমভাবে নির্যাতনের ফলে আখালিয়া এলাকার যুবক রাহয়হানের মৃত্যুর পরই একে একে বেরিয়ে আসতে থাকে আকবরের টাকার কুমির হয়ে উঠার অজানা গল্পগুলো। এতদিন আকবরের ভয়ে তটস্থ থাকলেও তার পলায়নের পর থেকে মুখ খুলতে শুরু করেন হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার অনেক মানুষ। এরই ধারাবাহিকায় নগরীর ‘লালদিঘী (পুরাতন) হকার্স মার্কেট’র কয়েকজন ব্যবসায়ী সিলেটভিউ-কে জানান- করোনাকালে এস.আই আকবরের জুলুম, নির্যাতন ও চাঁদাবাজির কথা।

হাসান আহমেদ চৌধুরী নামের এক ব্যবসায়ী এ প্রতিবেদককে জানান, ‘লালদিঘী (পুরাতন) হকার্স মার্কেট’র নাফিসা এন্ড তায়্যিবা শাড়িঘর নামে তার কাপড়ের দোকান রয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে লকডাইন চলাকালীন তিনি তার ছোট ভাইকে দোকানের মালামাল মুছে ঠিকঠাক করে রাখতে একদিন দোকানে পাঠান। তার ছোটভাই মার্কেটে গিয়ে দোকান খোলার আগেই আকবর মোটরসাইকেলযোগে এসে হাসানের ছোটভাইকে ধরে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যান। খবর পেয়ে হাসান ফাঁড়িতে গেলে তাকেও আটকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেন আকবর। এসময় আকবর ও তার ফাঁড়ির অন্য এক পুলিশ ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। ২০ হাজার টাকা না দিলে বিভিন্ন মামলায় ঢুকিয়ে তাদের দুই ভাইকে কোর্টে চালান করে  দিবেন বলে হুমকি দেন আকবর। পরে হাসান আহমদ অনেক অনুনয় করে ৫ হাজার টাকা দিয়ে আকবরের হাত থেকে মুক্তি পান।

লালদিঘীরপার পুরাতন হকার্স মার্কেটের ৪ নং গলির দোকান সিয়াম কালেকশনের স্বত্বাধিকারী এনামুল হক সিলেটভিউ-কে বলেন, এ মার্কেটের প্রায় সব ব্যবসায়ীকে (লকডাউন ছাড়া) শুধু করোনাকালীন সময়েও এস.আই আকবরকে টাকা দিয়েই দোকান খুলতে হতো। এ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আকবর নিজে গিয়ে চাঁদা তুলতো। পুরো ‘লালদিঘী (পুরাতন) হকার্স মার্কেট’র ব্যবসায়ীদের কাছে এক মূর্তিমান ত্রাস ছিলেন খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে পলাতক পুলিশ কর্মকর্তা আকবর।

এনামুল হক জানান, মার্কেটের এক ব্যবসায়ীকে কয়েকদিন আগে মজলিস রেন্টুরেন্টের সামনে থেকে ধরে ফাঁড়িতে নিয়ে যান আকবর। পরে এক নিশিকন্যাকে দিয়ে মামলার হুমকি দিয়ে ওই ব্যবসায়ীর কাছে আকবর ৮ হাজার টাকা দাবি করেন। ওই ব্যবসায়ী তখন দোকান থেকে কর্মচারীর মাধ্যমে ৮ হাজার টাকা নিয়ে আকবরকে দিয়ে তার হাত থেকে ছাড়া পান। এর আগে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরও রাখেন আকবর।

ব্যবসায়ী এনামুল হক আরও বলেন, নিরীহ ব্যবসায়ীদের বৈধ মালামালের গাড়ি আকবর ধরে নিয়ে যেতেন ফাঁড়িতে। পরে টাকা দিয়ে মালামাল ছাড়িয়ে আনতেন ব্যবসায়ীরা।

আকবরের এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ব্যবসায়ীরা সিলেট সিটি করপোরেশন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বার বার অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি।

রুকন শাড়ি সেন্টারের মালিক রুকন আহমদ বলেন, লালদিঘীরপার পুরাতন হকার্স মার্কেটের প্রায় প্রতি দোকানে মালামাল নিয়ে আসতে গাড়ি প্রতি ৫শ থেকে ১ হাজার টাকা দিতে হতো এস.আই আকবরকে। সকালে এবং বিকালে দুই টাইমই ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলতেন আকবর।

ব্যবসায়ীরা জানান, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিতেন এস.আই আকবর, যাতে ব্যবসায়ীরা পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নিতে পরেন।

উল্লেখ্য, গত রোববার (১১ অক্টোবর) রায়হান উদ্দিন নিহত হন। রায়হান উদ্দিন সিলেট নগরীর আখালিয়ার নেহারিপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তার তিন মাসের এক মেয়ে রয়েছে। তিনি নগরীর রিকাবিবাজার স্টেডিয়াম মার্কেটে এক চিকিৎসকের চেম্বারে কাজ করতেন।
 
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ১৭ অক্টোবর, ২০২০ / মোজাম্মেল / ডালিম

@

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন