আজ বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০ ইং

আকবরের পলায়ন : কী আছে পুলিশ সদর দফতরের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে?

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-১০-২৮ ১২:০৫:৫৯

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেট বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির বরখাস্তকৃত ইনচার্জ এসআই আকবরের পলায়নের বিষয়ে তদন্ত করতে পুলিশ সদর দফতর গঠিত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার আইজিপি ড. বেনজির আহমেদের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন কমিটির প্রধান এআইজি (ক্রাইম অ্যানালাইসিস) মো. আয়ুব।

জানা গেছে, এ ঘটনায় এসএমপির শীর্ষ পর্যায় থেকে মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা পর্যন্ত অনেকেই দায় এড়াতে পারবেন না। দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে। এছাড়াও তদন্ত কমিটির মত অনুযায়ী কারও দায় থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিলেট বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান হত্যার প্রধান সন্দেহভাজন ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরকে ১২ অক্টোবর বরখাস্ত করা হয়। এরপর থেকেই সে পলাতক। এ ঘটনায় ৬ পুলিশ সদস্যকে নিরাপত্তা হেফাজতে নিলেও আকবরকে নেয়া হয়নি। কেন তাকে নেয়া হয়নি, কে তাকে পালানোর সুযোগ দিয়েছে তা চিহ্নিত করতে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে পুলিশ সদর দফতর।

হেডকোয়ার্টার্সের এআইজি (ক্রাইম অ্যানালাইসিস) মোহাম্মদ আয়ুবকে প্রধান করে গঠিত কমিটির সদস্যরা ছিলেন- সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুল আলম, এসএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. মুনাদির ইসলাম চৌধুরী।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, তদন্তে বেরিয়ে এসেছে আকবরকে পালাতে সরাসরি সহায়তা করেছেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির টু-আইসি এসআই হাসান। আকবরকে গ্রেফতার করা হবে- ১২ অক্টোবর বিকেলে বিষয়টি একটি সূত্রে জানতে পেরে হাসান সেই তথ্য আকবরকে সরবরাহ করেন। তথ্য হাসানের কাছ থেকে জানতে পেরেই ৩টা ৫৬ মিনিটে বন্দর ফাঁড়িতে হাসানের কাছে অস্ত্র, ওয়্যারলেস সেট ও মোবাইল সিম হস্তান্তর করে আকবর বেরিয়ে যান। কিন্তু হাসান বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তাদের জানান সন্ধ্যা ৬টার দিকে।
এছাড়া এসআই হাসান যে বন্দর ফাঁড়ির সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক পাল্টানোর সঙ্গে জড়িত ছিল তা এসএমপির তদন্ত প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছে।

তবে পুলিশ সদর দফতরের তদন্ত কমিটি সিলেটে আসার আগে তার বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা কেন নেয়া হয়নি। এ বিষয়টিকেও তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া হয়েছে বলে পুলিশ সদর দফতরের সূত্রটি জানায়।

পুলিশ সদরে দফতরের সূত্রটি জানায়, এর আগে তদন্তেও প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়- এসআই আকবর নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত। এরপরও কেন তাকে পুলিশ লাইনে হেফাজতে নেয়া হয়নি এ বিষয়টি তদন্তের মূল ইস্যু ছিল।

আকবরকে বরখাস্তের নির্দেশনার সঙ্গে হেফাজতে নেয়ার নির্দেশনা ও পালিয়ে যাওয়ার আগে আকবর বন্দরবাজার ফাঁড়িতে থাকা অবস্থায় তার নিরাপত্তা বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে যারা গড়িমসি করেছেন তাদেরকেই দায়ী করা হয়েছে। এছাড়া মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বাতেন কেন আকবরকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক রাখেননি সে বিষয়েও প্রশ্ন আছে।

সৌজন্যে : যুগান্তর


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ২৮ অক্টোবর, ২০২০ / ডালিম

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন