আজ সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১ ইং

‘মমতাময়ী শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন বেঁচে থাকুন’

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২১-০১-১৬ ১০:২৩:০৫

এম.এ.মতিন গোয়াইনঘাট :: মনোয়ারা বেগম (৩৫)। বিয়ের কিছু দিন পর থেকে তার স্বামী  আব্দুল কাদির মানসিক প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন। নিজেদের কোন জমি-জমা ও বসতঘর না থাকায় মানসিক প্রতিবন্ধী স্বামী, দুই মেয়ে ও একমাত্র ছেলেকে  নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী ভাবে হাওরে ছোট্ট একটি বিন্না পাতার ছাউনির কুঠিরে বসবাস করতেন।

হাওর পাড়ে খড়কুড়ো দিয়ে মাটির ঘর তৈরি করে মানসিক প্রতিবন্ধী স্বামীাহ সন্তানদের  নিয়ে কোনরকমে মাথাগোঁজার ঠাই করেছিলেন। তিনি  অন্যের বাসাবাড়িতে কাজ করে জীবন চালাতেন। ফলে নিজের কোন ঘরের কথা স্বপ্নেও ভাবেননি মনোয়ারা বেগম। তবে সেটিই সত্য হয়েছে। সরকারের আশ্রয়ণ ও কাবিটা প্রকল্পের আওতায় দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি পেয়েছেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, হাওর পাড়ে শেয়াল-কুকুরের সঙ্গে বসতি গড়েছিলেন মনোয়ারা। প্রথমে ভয়ে অনেক রাতই নির্ঘুম কাটিয়েছেন মানসিক প্রতিবন্ধী স্বামী ও সন্তানদের  নিয়ে। তার ওপর আবার কালবৈশাখী ঝড়ের রাতে  প্রায় দেড় কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ভয়ে অন্যের বাড়ির বারান্দায় রাত কাটিয়েছেন তারা। এভাবেই দীর্ঘ দিন ধরে হাওর পাড়ে  বসবাস করেছেন হতদরিদ্র অসহায় মনোয়ারা বেগম। তিনি সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ৭ নং নন্দীরগাওঁ ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ৪নং ওয়ার্ডের নওয়াগাওঁ গ্রামের মানসিক প্রতিবন্ধী আব্দুল কাদিরের স্ত্রী।

মানসিক প্রতিবন্ধী আব্দুল কাদিরের স্ত্রী ও সন্তানদের অসহায় ভাবে বসবাসের খবর পেয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আপ্তাব আলীকে সঙ্গে নিয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করেন  উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নন্দীরগাওঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস কামরুল হাসান আমিরুল। তিনি ওই পরিবারের সার্বিক পরিস্থিতি অবলোকন ও পর্যালোচনা করে ওই পরিবার সম্পর্কে  গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শীর্ষেন্দু পুরকায়স্থকে অবগত করেন।  উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শীর্ষেন্দু পুরকায়স্থ বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিলুর রহমানকে জানান।

পরবর্তীতে মনোয়ারা বেগমের বসতঘর একসাথে  সরেজমিনে পরিদর্শন আসেন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিলুর রহমান,উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শীর্ষেন্দু পুরকায়স্থ ও নন্দীরগাওঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস কামরুল হাসান আমিরুল। উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিলুর রহমান সরেজমিনে পরিদর্শন কালে ওই পরিবারের সার্বিক পরিস্থিতি দেখে  প্রতিশ্রুতি দেন মনোয়ারাকে একটি ঘর দেওয়ার। কিন্তু অসহায় মনোয়ারা বেগমের নিজের কোন জায়গা-জমি না থাকায় ঘর তৈরিতে দেখা দেয় জটিলতা। আবারও তার পাশে দাঁড়ান ইউএনও। তিনি সরকারি জায়গার ব্যবস্থা করে সেখানেই শুরু করেন মনোয়ারা বেগমের জন্য ঘর তৈরির কাজ। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন ঘর তৈরির।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শীর্ষেন্দু পুরকায়স্থ জানান, মুজিব শতবর্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়নাধীন দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ প্রকল্পের মাধ্যমে এক লক্ষ একাত্তর হাজার টাকা ব্যয়ে বারান্দা সহ দুটি কক্ষ, একটি টয়লেট ও একটি রান্নাঘর বিশিষ্ট দুর্যোগসহনীয় বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে মনোয়ারা বেগমের জন্য। সেখানে স্থাপন করা হয়েছে একটি অগভীর নলকূপ। সারা উপজেলায় এরকম আরও ৫০০টি গৃহ নির্মাণের কার্যক্রম চলমান ইতোমধ্যে প্রায় ২৩০ টি ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ২৩ জানুয়ারি সারাদেশে একযোগে ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে সকল উপকারভোগীর নিকট এসব গৃহ বুঝিয়ে দিবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার সরেজমিনে মনোয়ারা বেগমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তিনি মানসিক প্রতিবন্ধী স্বামী কাদিরকে নিয়ে ঘরের বারান্দায় আপন মনে গল্প করছেন। নতুন ঘর পাওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে বলেন, কোনদিন স্বপ্নেও ভাবিনি নিজের একটি বাড়ি হবে। তিনবেলা ঠিকমতো খাবারই জোটে না, তাই বাড়ির স্বপ্ন কখনও দেখিনি। আপনাদের কাছে জেনে ইউএনও আমাকে একটি বাড়ি দিয়েছেন। তার ওপর আবার পাকা বাড়ি। এটা আমার রাজপ্রাসাদ।

তিনি বলেন, ইউএনওর মতো এমন দয়ালু মানুষ কোনদিন দেখিনি। এখন আর শেয়াল-কুকুরের ভয় নেই। জীবনে অনেক রাত ভয়ে না ঘুমিয়েই কাটিয়েছি। এখন খাই, না খাই অন্তত রাতে আরামে মা-ছেলে ঘুমাতে পারি। যখন ঘরের কাজ শুরু হয় তখন ইউএনও প্রায়ই আসতেন,  মাঝে মাঝেই আমাদের জন্য চাল, ডাল, আলু, তেলসহ নানা খাবার দিয়ে যেতেন। এখনও তিনি আমার খোঁজ নেন। তিনি আমাদেরকে বলেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে এই ঘর আমরা পেয়েছি। আল্লাহ আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি এমন দয়ালু আর ভালো মানুষ ইউ.এন.ও কে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখুক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিলুর রহমান বলেন, সমাজের এসব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। রাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা হিসেবে নয়, জনগণের সেবক হিসেবে তাদের পাশে থেকে সেবা করতে চাই। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা মুজিব বর্ষে দেশের কোন মানুষ গৃহহীন থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে অসহায় মনোয়ারা বেগমের জন্য বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / মতিন / ডালিম-৩

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন