আজ বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১ ইং

সিলেটে ছাত্রলীগ কর্মী সুমন খুন: ২৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চার্জশিট

অভিযোগপত্রটি পর্যালোচনা করছেন আদালত

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২১-০১-২৬ ১২:১২:২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর আবাসিক হলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বন্দুকের গুলিতে নিহত হয় সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র সুমন চন্দ্র দাস। এ ঘটনায় ২০১৪ সালের ২২ নভেম্বর জালালাবাদ থানায় প্রায় ১২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন নিহত সুমনের মা প্রতিভা দাস।

দীর্ঘ ৬ বছর পর এ হত্যা মামলায় বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের ২৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সিলেট জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শামীম উর রশীদ পীর গত বছরের ৩০ নভেম্বর আদালতে চার্জশিটটি দাখিল করেন। তবে দাখিলকৃত অভিযোগপত্র আদালত এখনও গ্রহণ করেননি। অভিযোগপত্রটি পর্যালোচনা করে যাচ্ছেন সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালতের বিচারক শারমিন খানম নিলা। একই আদালতে সিআইডি তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্রটি দাখিল করেন। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি অভিযোগপত্রের উপর শুনানী অনুষ্ঠিত হবে।

তৎকালীন শাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিবন চক্রবর্তী পার্থকে প্রধান অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত অন্যরা হলেন-তৎকালীন শাবি ছাত্রলীগের সহসভাপতি আবু সাঈদ আকন্দ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজিদুল ইসলাম সবুজ, সহসভাপতি সৈয়দ জুয়েম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমদ মিয়াজী, সহসম্পাদক মোশাররফ হোসেন রাজু, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুহুল আমিন, ছাত্রলীগ কর্মী সজল চন্দ্র ভৌমিক, আব্দুল কুদ্দুস নোমান, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম বুলবুল, বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আল আসাদ, তৎকালীন সহসভাপতি নুরে আলম, আইন সম্পাদক জহির হোসাইন, সহসভাপতি এসকে হাসিবুর রহমান, ছাত্রলীগ কর্মী জুনায়েদ আহমদ, হাবিবুর রহমান হাবিব. সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হোসেন নাঈম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, ছাত্রলীগ কর্মী জেসমুল হাসান, ক্রীড়া সম্পাদক জাকির খান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আশিকুজ্জামান রূপক, ছাত্রলীগ কর্মী নয়ন চৌধুরী, সহসম্পাদক সুকান্ত ঘোষ, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদ তালুকদার, বহিরাগত সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সজল দাস অনিক, ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ারুল হক আলম, রানা আহমদ শিপলু ও এমদাদুল হক (খোকন)।

আদালত সূত্র জানায়, ঘটনার দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে গ্রেফতার হওয়া নাঈম আহমদ ও ফরহাদ আহমদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। তাদের মধ্যে ছাত্রলীগ নেতা মোশাররফ, হাবিবুর, জাহিদ, ফরহাদ ও এমদাদ হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছে এবং নাঈম ও সজল মহানগর দায়রা জজ আদালতের জামিনে আছেন।  ২০১৩ সালের ৭ মে শাবি ছাত্রলীগের ঘোষিত কমিটিতে সঞ্জিবন চক্রবর্তী পার্থকে সভাপতি, আবু সাঈদ আকন্দ, রণঞ্জিৎ দেব, অঞ্জন রায়কে সহসভাপতি, ইমরান খানকে সাধারণ সম্পাদক, সাজিদুল ইসলাম সবুজকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সুপ্রজিৎ চৌধুরীকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। আর উত্তম কুমার দাস, আব্দুর রশিদ খান ও রাশেদকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য করা হয়। এ কমিটি না মেনে শাবি ছাত্রলীগের অঞ্জন রায়, উত্তম কুমার দাসের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ বিদ্রোহ করে। সিলেটের বিভিন্ন পর্যায়ের দলীয় নেতারা আড়ালে থেকে তাদের সমর্থন দেন। দলের স্থানীয় নেতাদের সমর্থনে তারা নিজেদের নাম প্রচার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহপরাণ (রহ.) হল দখল এবং ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে কর্মকাণ্ড চালায়। বিদ্রোহী অঞ্জন ও উত্তম গ্রুপ এ ঘটনার আগে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদত ইমরান খানকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় মারধর করে গুরুতর জখম করে এবং ডান হাত ভেঙে দেয়।

ইমরানকে মারধরের ঘটনায় বিরোধ আরও বেড়ে যায়। পার্থ ও সাঈদ গ্রুপ বাইরের ক্যাডারদের নিয়ে শক্তি সঞ্চয় করে। একপর্যায়ে তারা হল ও ক্যাম্পাস দখল করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর লাঠিসোটা, দা, পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ ক্যাডারদের নিয়ে পার্থ, সাঈদ ও সবুজের নেতৃত্বে শাহপরাণ (রহ.) হল ও ক্যাম্পাস দখলে হামলা চালায়। প্রথমে অঞ্জন ও উত্তম গ্রুপ পিছু হটলেও পরবর্তী সময়ে বহিরাগত ক্যাডারদের সহায়তা তারাও প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পার্থ গ্রুপের অস্ত্রধারী ক্যাডার সৈয়দ জুয়েম গুলি ছুড়লে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির বিবিএ তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সুমন গুলিবিদ্ধ হন। ওসমানী হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

সিলেট ভিউ ২৪ ডটকম/ পিটি-৬

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন