আজ শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১ ইং

সিলেটে তেল নিয়ে তেলেসমাতি, আন্দোলনে শ্রমিকরা

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২১-০২-২৩ ১১:১৫:০৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটের গোলাপগঞ্জের গ্যাস ফিল্ড থেকে তেল উৎপাদন চাল করার দাবিতে এবার পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির পাশাপাশি আন্দোলনে নেমেছে  সিলেট বিভাগীয় ট্যাঙ্ক লরি শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। সিলেটের পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপো থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ তেলে সরবরাহ না করার দাবিতে মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) আন্দোলনে নামের শ্রমিক সংঘটনের নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজারের যমুনা ডিপোর সামনে অবস্থান করে বিক্ষোভ করেন। এসময় সড়কের দুপাশে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ধরণে সহযোগীতা পাচ্ছি না। আমাদের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ একাধিকবার জেলা প্রশাসনের সাথে বৈঠক করলেও কোন সুরাহা হয়নি। রেলপথের উদাসিনতার কারণেই সিলেটে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। একটি মহলের ইন্ধনে আমাদের সিলেটের গ্যাস ফিল্ড থেকে তেল উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। সিলেটে যে পরিমাণ তেল উৎপাদন করা হত তা সিলেটে বিভাগের চাহিদা পূরণ করে দেশের অন্যান্যস্থানে বিক্রি করা হত। কিন্তু ৫ মাস থেকে সিলেটে তেল উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে।

আগামী রবিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মধ্যে সিলেটে তেল সংকটের সমাধান না হয় তাহলে লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এরআগে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের গত ২৭ ডিসেম্বর ধর্মঘটের ডাক দিলেও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ২৬ ডিসেম্বর ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেন অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। সিলেট বিভাগের চার জেলায় ১১৪টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে সিলেট মহানগরীতে ৪৫টিসহ জেলায় ৭০টি পাম্প রয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমদ চৌধুরী সিলেট ভিউকে জানান, আমাদের সমস্যার কথা একাধিকবার জেলা প্রশাসনকে জানালেও তারা আমাদের কথা রাখেননি। এমনকি তাদের আশ্বাসে আমরা ধর্মঘট স্থগিত করেছি। আমাদের কাছ থেকে জেলা প্রশাসক মহোদয় সময় নিয়েছিলেন সমস্যা সমাধান করার। কিন্তু তাতে কোন লাভ হয়নি। সমস্যা রয়ে গেছে। আমরা জেলা প্রশাসনকে আমাদের বক্তব্য জানিয়ে দিয়েছি যে, আগামী রবিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মধ্যে সিলেট বিভাগের তেলের যে সংকট রয়েছে তা সমাধান না হলে এবং সিলেট গ্যাস ফিল্ড থেকে তেল উৎপাদন শুরু না করলে লাগাতার ধর্মঘট চলবে।

তিনি আরও বলেন, সিলেটে ডিজেল সরবরাহ ওয়াগননির্ভর হওয়ায় প্রায় নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়।  এছাড়া সিলেটের গোলাপগঞ্জের গ্যাস ফিল্ডের খনি থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকায় সংকট কাটিয়ে ওঠা যাচ্ছে না। সিলেটে প্রতিদিন ১০ লাখ লিটারেরও বেশি জ্বালানি তেলের চাহিদা থাকলেও প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ লিটার তেল আসছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ব্যক্তিস্বার্থের কারণে সিলেটের গ্যাস ফিল্ডের খনি থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। পূর্বে সাপ্তাহে ৩ রেক তেল আসলেও এখন আসে ১ রেক তেল। যা সিলেটের চাহিদার তুলনায় অনেক কম। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। সিলেটের চাহিদা সাড়ে ৫লাখ লিটার তেল সিলেট বিভাগে। এরমধ্যে বর্তমানে সিলেট বিভাগের ১১৪টি পাম্পে বিতরণ করা হয় প্রায় ১লাখ লিটার তেল। সিলেটের গোলাপগঞ্জের গ্যাস ফিল্ড থেকে তেল উৎপাদন বন্ধ করে রেখেছে একটি চক্র। তেল বিক্রি না করায় এই  গ্যাস ফিল্ড থেকে সরকারের প্রায় আড়াই থেকে ৩ কোটি টাকার তেল নষ্ট হচ্ছে। 

সিলেট বিভাগীয় ট্যাঙ্ক লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য আজিজ আহমদ, রেলপথে সিলেটে পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল আসছে না। চট্টগ্রাম থেকে তেল আসার কারণে সিলেটে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। যে পরিমাণ সিলেটে তেল আসে সেই তেল চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। একটি মহলের ইন্ধনে সিলেটের গ্যাস ফিল্ড থেকে তেল উৎপাদন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। আমাদের দাবি গোলাপগঞ্জের গ্যাস ফিল্ড থেকে তেল উৎপাদন করা শুরু করতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল না আসায় আমাদের শ্রমিকরাও কষ্টে দিন যাপন করছেন। যদি আমাদের দাবি মানা না হয় তাহলে কঠোর আন্দোলন ঘোষণা করা হবে।



সিলেট ভিউ ২৪ ডটকম/পিটি-৫

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন