আজ বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১ ইং

যেমন আছেন ডা. অন্তরা

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২১-০৩-০১ ১৬:৩৩:১০

নিজস্ব প্রতিবেদক :: গত ২৬ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) সিলেটের রশিদপুরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ডা. শারমিন আক্তার অন্তরা (২৯) এখন পুরোপুরি আশঙ্কামুক্ত। তিনি এখন আগের থেকে অনেক ভালো আছেন এবং কথা বলতে পারছেন।

ডা. অন্তরাকে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট (আইসিইউ) থেকে গতকাল রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে।

কর্তব্যরত ডাক্তারের বরাত দিয়ে বিষয়টি সিলেটভিউ-কে জানিয়ে ওসমানী হাসপাতালের চিকিৎসক ও ডা. অন্তরার মামাশ্বশুর মুমিনুল হক।

তিনি জানান, শুক্রবার বিকেলে অন্তরার শরীরে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। পরে রাতে তাকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য আইসিউতে রাখা হয় এবং গতকাল তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। তিনি এখন কথা বলতে পারছেন এবং মুখে স্বাভাবিক খাবার খেতে পারছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে ডা. মুমিনুল হক জানান, কেবিনের স্থানান্তরের পর অন্তরার পীড়াপিড়িতে তাকে স্বামীর মৃত্যুর খবর জানানো হয়। খবর শুনে তিনি অঝোরে কাঁদেন, তবে শোকের প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠেছেন।

উল্লেখ্য, শুক্রবার সকালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমার রশিদপুরে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তরার স্বামী ডা. আল মাহমুদ ইমরান খান (৩৬) ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

এদিন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সিলেটগামী লন্ডন এক্সপ্রেস (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-৩১৭৬) ও ঢাকাগামী এনা পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো ব ১৪-৭৩১১) মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ৬ জন মারা যান। এছাড়া হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান আরও ২ জন। এই দুর্ঘটনায় অন্তত ১৮ জন আহত হন।

নিহতরা হলেন- সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সালমান খান (২৮), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের নুরুল আমিন (৫০), সাগর (১৯), সিলেটের ওসমানী নগরের মঞ্জুর আহমদ মঞ্জু (৩৫), একই উপজেলার জাহাঙ্গীর হোসেন (৩০), ডা. ইমরান খান রুমেল (৪৮), সিলেট নগরের আখালিয়ার শাহ কামাল (৪৫) ও সুনামগঞ্জের ছাতকের রহিমা বেগম।

ডা. অন্তরা আক্তার বিসিএস প্রিলি পরীক্ষা দিতে সিলেট থেকে এনা পরিবহনের একটি বাসে ঢাকা যাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন স্বামী ডা. ইমরান। ইমরান সিলেট নগরীর ফাজিলচিশত এলাকার বাসিন্দা প্রখ্যাত প্যাথলজিস্ট অধ্যাপক ডা. আমজাদ  হোসেনের ছেলে। ছেলে ইমরান ও মেয়ে নূরী- আমজাদ  হোসেনের দুই সন্তানই ডাক্তার। ইমরান জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের ১২ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। মৃত্যুর আগে তিনি সিলেট নগরীর উইমেন্স মেডিকেল কলেজে কর্মরত ছিলেন। ডা. ইমরান ও অন্তরার দুই কন্যাশিশু রয়েছে।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম-৩

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন