আজ বুধবার, ২৭ মে ২০২০ ইং

লাউ চাষে লাভবান বানিয়াচংয়ের মোহাম্মদ আলী

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০১৯-১০-৩০ ১৩:৫০:৩৫

বানিয়াচং(হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :: মনোমুগ্ধকর লাউ ক্ষেত। সবুজে মোড়ানো মাচা জুড়ে লাউ ফুল। ফুল থেকে ছোট-বড় কুঁড়ি পরিণত হচ্ছে লাউয়ে। কচি ডগায় দুলছে সবুজ লাউ। এই  আগাম জাতের এ লাউ চাষ করে লাভবান হয়েছেন বানিয়াচংয়ের মজলিশপুরের কৃষক মোহাম্মদ আলী। লাভের টাকায় তার পরিবারের এসেছে স্বচ্ছলতা।

বানিয়াচংয়ের ১ নং উত্তর-পূর্ব ইউনিয়নের অন্তর্গত মজলিশপুর গ্রামের কৃষক আমীর আলী পুত্র  মোহাম্মদ অালী।, বয়স ২৭ বছর। আট ভাই-বোনের মধ্যে মোহাম্মদ অালী সবার বড়। বাড়ির পাশে ১৪ শতক জমিতে করেছেন আগাম লাউ চাষ। শুধু লাউ নয়, পাশাপাশি তিনি ফুলকপি, টমেটো, বেগুনসহ হরেক রকম সবজি চাষ করেছেন তিনি।

লাউ চাষের ওপর কোনো প্রশিক্ষণ নিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি সিলেটভিউকে জানান, "আমার বাবা অামার একমাত্র প্রশিক্ষক। ৩০ বছর ধরে তিনি সবজি চাষ করে অাসছেন। ১০-১২ বছর ধরে আমি বাবার সাথে থেকে লাউসহ অন্যান্য সবজি চাষ করতে শিখেছি। আমাদের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস এই সবজি চাষ।"

হাইব্রিড জাতের লাউ চাষ করলেও তিনি ক্ষেতে কীটনাশক প্রয়োগ করেছেন খুব কম। গোবর ও জৈবসার প্রয়োগ করায় খরচ হয়েছে অনেক কম। চাষকৃত লাউয়ের মধ্যে তিনি বেছে নিয়েছেন আগাম জাতের 'কচি লাউ।'

সরেজমিন ওই লাউ ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, ডগায় ডগায় লাউ ধরেছে। এছাড়াও ডগায় ফুল ও কুড়িঁ ধরেছে থরে থরে।

মোহাম্মদ আলী জানান, ১৪ শতক জমিতে লাউচাষ করে খরচ হয়েছে মাত্র ১০ হাজার টাকা। প্রথম ধাপেই বিক্রি করেছেন প্রায় ২০ হাজার টাকার লাউ। এখন প্রতিদিন ১০০ লাউ বিক্রি করছেন তিনি। গড়ে প্রতিটি লাউয়ের পাইকারি দাম পরছে ৩০ টাকা। আগামী তিন মাস তিনি এই জমি থেকে লাউ বিক্রি করবেন বলে জানিয়েছেন । সেই হিসেবে এখান থেকে লাউ বিক্রি করে তিনি মোট ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আয় করবেন।

এই লাউয়ের বীজ কোথা থেকে সংগ্রহ করেন প্রশ্ন করলে মোহাম্মদ আলী জানা, এই লাউসহ অন্যান্য সবজির বীজ শ্রীমঙ্গলের একটি বিখ্যাত সীড কোম্পানী থেকে সংগ্রহ করেন তিনি।

বানিয়াচং বড়বাজারের সবজি ব্যবসায়ী জুয়েল মিয়া জানান, " কীটনাশকের ব্যবহার কম হওয়ায় এই লাউ খেতে খুবই সুস্বাদু। অার সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে মোহাম্মদ অালী'র লাউয়ের চাহিদাও ব্যাপক।" 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/৩০ অক্টোবর ২০১৯/জসিম/মিআচৌ

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন