আজ শনিবার, ০৬ জুন ২০২০ ইং

করোনা মহামারীতে নবীগঞ্জে খাবারের আশায় ঘুরে বেড়াচ্ছে ক্ষুর্দাত বানর

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-০৫-১৮ ১৫:১৭:৫৯

নবীগঞ্জ সংবাদদাতা :: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকায় গত কয়েক মাস ধরে কয়েকটি বানর লোকালয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বানরগুলো নবীগঞ্জ পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রের বাজারের দোকানের উপর, বিভিন্ন গাছে গাছে থাকছে বানরগুলো।

উৎসুক জনতার খাবার খেয়ে বেঁচে আছে বানরগুলো। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে দোকান ও বাজার সীমিত করা হয়েছে। যার কারণে মানুষ বাইরে আসছে কম। যার জন্য খাদ্য সংকটে ভুগছে নবীগঞ্জের একদল বানর।

কাউকে এগিয়ে আসতে দেখলেই খাবারের আশায় বানর নির্বাক তাকিয়ে থাকে। হয়তোবা কারও দয়া হতে পারে খাবার দেবার জন্য।

রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বানরগুলো পৌর এলাকার শিবপাশা রুদ্র গ্রাম রোডের নান্টু বৈদ্যর দোকানের সামনে চালের উপর বসে আছে। উৎসক জনতা বানর গুলোকে একনজর দেখার জন্য ভিড় জমাচ্ছেন। অনেকে খাবারও দিচ্ছেন, জনতার দেওয়া খাবার খাচ্ছেন বানরটি। বানরগুলো কোথা থেকে এসেছে কেউ বলতে না পারলেও স্থানীয়রা ধারণা করেছেন নবীগঞ্জের দিনারপুর পাহাড়ী বনাঞ্চল ও বাহুবলের মধুপুর  জঙ্গল উজাড় হয়ে যাওয়ায় তারা পাশ্ববর্তী বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে বানরের একটি দল দলছুট হয়ে নবীগঞ্জ পৌরসভা বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।

বানরগুলো স্থানীয় কোনো জায়গায় স্থীর থাকে না। একেক সময় একেক স্থানে দেখা যায়। কখনো গাছের ডালে, কখনো মানুষের ঘরের চালে কখনো বা টিনের উপর বসে আছে।

বানরগুলো নবীগঞ্জ পৌর এলাকার শিবপাশা রুদ্র গ্রাম রোড, মধ্য বাজার কাঁচা বাজারের সামনে, ফলের দোকানের সামনে, বাজারে সোনালী  ব্যাংকের পাশে,ওসমানী রোড,  চরগাঁও সহ বিভিন্ন  মুদির দোকানের সামনে ও বাজার এলাকায়  তাদেরকে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে। আবার সেখান থেকে বিভিন্ন গাছে গাছে ঘুরছে বানরগুলো।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী নান্টু বৈদ্যসহ কয়েকজন বলেন, “বানরগুলো খাবারের জন্য প্রতিদিনই পৌর এলাকার শিবপাশা সহ বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে বেড়ায় এবং বিভিন্ন বাড়ীতে হানা দেয়। তারপরও সংশ্লিষ্টরা কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। আর এ কারণে বানরগুলো দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

নবীগঞ্জ ভারপ্রাপ্ত উপজেলা বন কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম জানান, “বানর বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করছে। বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। মানুষ বানরের ক্ষতি না করলে বানরও মানুষের ক্ষতি করবে না।”

জেলা বন্য প্রানী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী বলেন, এরা দলছুট বিধায় এদের বনে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া কঠিন। এদেরকে মানবিক দৃষ্টি কোন থেকে দেখতে হবে। আমরা সহনুবর্তীশীল হলে একটু ভালবাসলে এরা কারো কোন ক্ষতি করবে না। এছাড়া আমরা সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বিভিন্ন প্রকার বারমাসি ও মৌসুমি ফলের গাছ লাগিয়ে প্রাকৃতিক খাবারের উৎস ও অভয়ারণ্য সৃষ্টির মাধ্যমে বানরগুলোকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছি যাতে তারা লোকালয়ে না আসে।


সিলেটভিউ২৪ডটকম/১৮ মে ২০২০/এসবিডি/এসডি

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন