আজ বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২০ ইং

নবীগঞ্জে করোনায় বিপাকে ৩ হাজার দর্জি কারিগর

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-০৫-২৮ ১৮:৩৯:৪০

নবীগঞ্জ সংবাদদাতা :: প্রতিবছর ঈদুল ফিতরে নবীগঞ্জ উপজেলার দর্জিপাড়ার কারিগরদের দম ফেলার ফুরসত থাকতো না। এসময় তারা ব্যস্ত সময় পার করতেন।

পছন্দের পোশাক বানাতে মানুষ জন দর্জির দোকানগুলোতে ভিড় জমতো আর দিনরাত চিরচেনা মেশিনের চাকা ঘুরার শব্দ শোনা যেত। এবার করোনার প্রভাবে তাদের ব্যবসা বন্ধ থাকায় অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বিশেষ করে দর্জি কারিগরা ঈদুল ফিতরে উল্লেখযোগ্য ব্যবসা করে থাকে।

ঈদে ব্যবসা করতে না পারায় উপজেলার ৩ হাজার কারিগর মানবেতর জীবন যাপন করছে।

জানা গেছে, করোনা প্রভাবের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে তাদের মেশিনের চাকা বন্ধ হয়ে যায়। ঈদকে সামনে রেখে সৌখিন গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম অর্ডার পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রাখায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন দর্জি কারিগররা। দোকান বন্ধ থাকায় কারিগররা বছরের সবচেয়ে বড় আয় থেকে বঞ্চিত হলো। তারা সরকারের কাছে প্রনোদনা দাবি করেছেন।

দর্জি কারিগর খালেদ আহমদ জানান, করোনার কারণে এইবার দর্জিপাড়ার পাল্টে গেছে দীর্ঘদিনের সেই কর্মকাণ্ডের চিত্র। ঈদে কাজ করতে না পারায় আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়ে জীবন-যাপন করছি।

অন্যদিকে নবীগঞ্জের কয়েকটি টেইলার্সের মালিক জানান, সরকারি নির্দেশনায় প্রায় দেড় মাস ধরে দোকান বন্ধ রয়েছে। পোশাকের অর্ডারও নেই, ফলে মালিকসহ কারিগররা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়াও গুনতে হচ্ছে দোকান ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল। করোনা মহামারীর ধাক্কা সামলাতে আমদেরকে প্রনোদনার আওতায় আনা উচিৎ। না হলে ব্যবসা চালু রাখা আমাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়বে।

দর্জি ব্যবসায়ী সমিতির অর্থ সম্পাদক এম এস আক্কাস আলী বলেন, প্রতি বছর শবে বরাতের পর থেকে রমজানের মাঝামাঝি পর্যন্ত আমাদের দর্জি কারিগরদের কাজের ধুম থাকতো। এইবার মজুরি পাওয়া তো দূরের কথা, দোকানই বন্ধ। ঈদুল ফিতরের আয় সারা বছর আমাদেরকে অর্থনৈতিক সুরক্ষা দিত। এখন ঈদ পরবর্তী
পরিবার পরিজন নিয়ে আমাদের ৩ হাজার দর্জি কর্মীরা কিভাবে চলবে সেটা ভেবেই চোখে অন্ধকার দেখছি আমরা।


সিলেটভিউ২৪ডটকম/২৮ মে ২০২০/এসবিডি/এসডি

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন