আজ বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০ ইং

নবীগঞ্জ-বানিয়াচং আঞ্চলিক সড়কের বেহাল দশা, ভোগান্তিতে লক্ষাধিক মানুষ

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-০৯-২৬ ১৬:৫৮:২৩

সলিল বরণ দাশ, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) :: হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচং-নবীগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কটির বর্তমানে বেহাল অবস্থা। রাস্তাজুড়ে রয়েছে বড় বড় গর্ত। বৃষ্টির পানি জমে রাস্তা পুরোপুরি  চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। সড়ক বিভাগের উদাসীনতায় আঞ্চলিক এ সড়কটি দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কার করা হচ্ছে না। ভাঙা সড়কটির বেহাল অবস্থা থাকার কারণে যাতায়াতকালে মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

জানা গেছে, জেলার ৭টি উপজেলার এলাকার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষি। এ উপজেলাগুলোর কৃষিনির্ভর মানুষেরা  তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও উৎপাদিত মাছ বিক্রি ও চিকিৎসার জন্য আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচং-নবীগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কটি ব্যবহার করেন। বিভাগীয় শহর সিলেটেও যেতে তারা এ সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু বর্তমানে তারা আছেন চরম বিপাকে। ভাঙা রাস্তার কারণে ধান ও মাছ পরিবহন করতেও গুণতে হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া। ফলে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এছাড়াও সড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। দীর্ঘদিন ধরে এসব রাস্তা চলাচলের অনুপোযোগী হলেও কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে উদাসীন।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বানিয়াচং উপজেলার অংশের কাগাপাশা থেকে শুটকি ব্রিজ পর্যন্ত সাড়ে ৫ কিলোমিটার রাস্তায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে খানা-খন্দকে ভরপুর। এছাড়া আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা বাজারে এক কিলোমিটার জায়গা ভেঙে চৌচির। আজমিরীগঞ্জ ও বানিয়াচং উপজেলার সহ পাশ্ববর্তী কিশোরগঞ্জের ইটনা ও মিটামইন উপজেলার ও সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের লোকজন এই সড়ক দিয়ে সিলেট চলাচল করে থাকে।

এ সড়কের মধ্যে কাগাপাশা থেকে শুটকি ব্রিজ পর্যন্ত সাড়ে ৫ কিলোমিটার সড়ক ভাঙা থাকার ও সংস্কার না হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ৭ উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। সড়কটির আজমিরীগঞ্জ থেকে বানিয়াচং হয়ে নবীগঞ্জ শহরের উপর দিয়ে ৩টি উপজেলার মানুষের সিলেট যাতায়াতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক।

বর্ষাকালে অতি বৃষ্টির কারনে  সড়কটিতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।রাস্তার দুই পাশের গাইড ওয়ালের ব্লক খুলে রাস্তার বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাচ্ছে। যার জন্য এই বর্ষার পর রাস্তায় যানবাহন চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়বে। সড়কটি সংস্কার হলে পরিবহন ক্ষেত্রে খরচ কমে আসবে কৃষকরা পাবে ফসলের ন্যায্য মূল্য। মাসের পর মাস ধরে এসব ভাঙা সড়কে মানুষ দুভোর্গ পোহালেও সাময়িকভাবে যান চলাচলের তেমন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় কাগাপাশা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ওয়াসির চৌধুরী  জানান, আমাদের বাজারের ব্যবসায়ীদের মালামাল পরিবহণের ক্ষেত্রেও দ্বিগুণ ভাড়া গুণতে হয়। এছাড়া প্রশাসনিক কাজেও আমাদেরকে বানিয়াচং উপজেলা সদরে যেতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সড়কটি শীঘ্রই সংস্কার করার দাবি জানান তিনি।

এ ব্যপারে বানিয়াচংয়ের উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চৌধুরী জানান, জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় আমার উপজেলার সাথে বিভাগীয় শহর সিলেটে চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়ে। সড়কটির শীঘ্রই সংস্কারে জন্য হবিগঞ্জ সড়ক বিভাগের সাথে কথা বলেছি। আশা করি জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির ভিতরে রাস্তাটি সম্পূর্ণ চলাচলের উপযোগী হবে।

হবিগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী  সজীব আহমেদ  জানান, এ রাস্তাটি মেইনটেন্স করার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ হলে নভেম্বরে দিকে রাস্তাটির মেরামতের কাজ দ্রুতই শুরু করা হবে। এছাড়া রাস্তাটি প্রস্থ ও উঁচু করার জন্য প্রকল্প তৈরির কাজ চলছে। দ্রুতই প্রকল্প তৈরি ও বাস্তবায়ন হবে।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ / সলিল / ডালিম

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন