আজ বুধবার, ২৭ মে ২০২০ ইং

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের পানি স্বাভাবিক, জলজপ্রাণী শংকামুক্ত

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০১৯-১১-০৬ ১৮:৩৬:১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক, বড়লেখা :: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের পানি এখন স্বাভাবিক হয়েছে। পানির ভৌত রাসায়নিক গুণাগুণ এবং জীবিত মাছ ছাড়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এই তথ্য জানিয়েছে উপজেলা মৎস বিভাগ। এর আগে গতকাল জলপ্রাপাতের পানিতে ঔষধ ছিটিয়ে দেওয়া হিয়েছিল।

মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, জলপ্রাতের পানিতে কেউ পাহাড়ি বিষলতা পিসে প্রয়োগের কারণে এই ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইমাম উদ্দিন (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (০৫ নভেম্বর) রাতে উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউপির গৌরনগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত মস্তকিন আলীর ছেলে।

বুধবার (০৬ নভেম্বর) দুপুরে মাধবকুণ্ডে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিদিনের মতো দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকরা মাধবকুণ্ডে বেড়াতে আসছেন। অনেকেই জলপ্রাতের স্বচ্ছ পানিতে নেমে ছবি তুলছেন। পানিতে এখন কোনো দুর্গন্ধ নেই। পর্যটন এলাকায়ও দুর্গন্ধ নেই। এছাড়া কেউ কেউ ঝর্ণার পানি পানও করছেন। স্থানীয় আধিবাসী লোকজন মাধবকুণ্ডের ছড়ার পানি তাদের দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতে দেখা যায়।

মাধবকুণ্ড পুঞ্জির হ্যাডম্যান ওয়ানবর গিরি বলেন, ‘বিষ প্রয়োগের পর থেকে আমরা পানি দুই তিনদিন ব্যবহার করতে পারিনি। আমরা অনেকটা হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম। কারণ, ঝর্ণার পানি আমরা পান করি। এছাড়াও দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। তবে মঙ্গলবার ঝর্ণার পানিতে ঔষধ দেওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রশাসনের লোকজন জানিয়েছেন, পানি ব্যবহার করা যাবে। এজন্য আজ (বুধবার) থেকে আমরা পানি পান করতে পারছি। বিভিন্ন কাজেও ব্যবহার করতে পারছি।’ 

স্থানীয় ব্যবসায়ী কবির আহমদ বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো মাধকুণ্ডে পর্যটকরা বেড়াতে আসছেন। জলপ্রপাতের পানিতে ঔষধ ছিটানোর পর থেকে তা এখন স্বাভাবিক আছে। পানিতেও এখন কোনো গন্ধ নেই। বাতাসেও নেই।’

বন বিভাগের বড়লেখা রেঞ্জের সহযোগী রেঞ্জ কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন দাস বলেন, ‘এ ঘটনায় গত সোমবার আমরা থানায় জিডি করেছিলাম। মঙ্গলবার মামলা করেছি।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বড়লেখা থানার উপ-পরিদর্শক মো. শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেফতার করেছি। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

বড়লেখা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কুলাউড়া উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের মাছ ও পানি সম্পুর্ণ শংকামুক্ত। পানির ভৌত রাসায়নিক গুণাগুণ পরীক্ষা ও জীবিত মাছ ছেড়ে পরীক্ষা শেষে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।'

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২ নভেম্বর) সকালে মাধবকুণ্ড এলাকায় পর্যটক, পর্যটক পুলিশসহ স্থানীয় লোকজন মাধবকুণ্ডের পানিতে মাছসহ বিভিন্ন ধরনের জলজ প্রাণী ভেসে ওঠতে দেখেন। মৃত মাছের কারণে জলপ্রপাতের পানির পাশাপাশি মাধবকুণ্ড পর্যটন এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। বিষক্রিয়ায় পাহাড়ি বামাস মাছ, কাঁকড়া, পুঁটি, ব্যাঙ, পাহাড়ি চিংড়ি, পিপলা, ছোট বাইন, সরপুঁটিসহ বিভিন্ন ধরনের জলজ কীটপতঙ্গ মারা যায়।


সিলেটভিউ২৪ডটকম/০৬ নভেম্বর ২০১৯/এজেএল/এসডি

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন