আজ রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২০ ইং

জুড়ীতে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তার টাকা কেটে রাখায় এক দোকানীকে জরিমানা

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-০৫-২৮ ১৬:৩৫:২৭

জুড়ী প্রতিনিধি :: করোনাভাইরাস কেন্দ্রিক অচলাবস্থায় সারাদেশে ৫০লাখ কর্মহীন দরিদ্র মানুষকে মোবাইলের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ২৫০০টাকা করে সহায়তা প্রদান করছেন।

মোবাইল ব্যাংকিং নগদ, রকেটসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সে টাকা পাঠানো হচ্ছে।

উক্ত টাকার সাথে খরচ বাবদ ৩৬.২৬টাকাও দেয়া হচ্ছে। সে টাকা ক্যাশ আউট করতে গিয়ে গ্রাহকরা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন বিভিন্ন স্থানে। ৩৬টাকা ছাড়াও খরচ, ট্যাক্স ইত্যাদি অজুহাতে সহজ সরল মানুষের নিকট থেকে অতিরিক্ত ৫০/১০০টাকা দোকানীরা কেটে রাখার অভিযোগ রয়েছে।

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় এমন একটি লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অসীম চন্দ্র বনিক উপজেলা শহরের একটি দোকানে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন।

এ সময় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় দোকানী উপজেলার বাছিরপুর গ্রামের আলফাজ মিয়ার পুত্র আবুল বাশারকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪৫ ধারায় দুই হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং অভিযোগকারীদের টাকা ফেরৎ দেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে প্রদত্ত লিখিত অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের মোহাম্মদনগর গ্রামের বাসিন্দা রাজন মিয়ার মোবাইলে (০১৭১৫-২৭৩৪৯৯) ও জলিকা বেগমের মোবাইলে (০১৭৭২-৪২৫৩৩৯) নগদ-এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত ২ হাজার ৫৩৬টাকা আসে। গত ২৬ মে উক্ত টাকা ক্যাশ আউট করার জন্য তারা জুড়ী বিজিবি ক্যাম্প চত্ত্বরস্থ ফজলুর রহমান শপিং সেন্টারে আবুুল বাশারের দোকানে যান। ঐ দোকানী ৩৬টাকা ছাড়াও বিভিন্ন অজুহাতে রাজন মিয়ার নিকট থেকে ৫০টাকা কেটে ২৪৫০টাকা ও জলিকা বেগমের নিকট থেকে ১০০টাকা কেটে ২ হাজার ৪০০টাকা প্রদান করেন।
আদালত পরিচালনাকালে জায়ফরনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাছুম রেজা, কামিনীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি কামাল উদ্দিনসহ সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অসীম চন্দ্র বনিক জানান, করোনাভাইরাস কেন্দ্রিক বৈশ্বিক মহামারীতে দেশের অসংখ্য মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। সরকার এদেরকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। তারই অংশ হিসেবে দরিদ্র মানুষকে মোবাইলে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা প্রদান করছেন। সাথে খরচও দেয়া হচ্ছে। গ্রাহক পুরো ২ হাজার ৫০০টাকা পাবে, এখান থেকে কোন টাকা কেটে রাখার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, অভিযোগকারী দুইজনের কেটে রাখা টাকা ফেরৎ দেয়া হয়েছে এবং দোকানীকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।


সিলেটভিউ২৪ডটকম/২৮ মে ২০২০/এমএএল/এসডি

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন