আজ বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০ ইং

বড়লেখায় সেই চন্দনাকে পূজার উপহার দিলেন ইউএনও

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-১০-১৯ ১৬:০৫:২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, বড়লেখা::  নয় বছরের শিশু চন্দনা বুনার্জী। সেদিন তার চোখের সামনে সৎ বাবার দায়ের কোপে মরতে হয়েছে মা আর নানিসহ দুই প্রতিবেশীকে। তবে ভাগ্য ভালো থাকায় সেদিন পালিয়ে বেঁচে যায় সে। সবাইকে হারিয়ে নিঃস্ব চন্দনার ঠাঁই হয় শ্রীমঙ্গল সরকারি শিশু পরিবারে। 


সেই চন্দনাকে সবাই ভুলে গেলেও মনে রেখেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম আল ইমরান। তাইতো শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে চন্দনাকে উপহার দিয়েছেন তিনি। সোমবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম আল ইমরান তাঁর কার্যালয়ে চন্দনার হাতে পূজার উপহার তুলে দেন। 

এসময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা উবায়েদ উল্লাহ খান, সমাজসেবা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মঈন উদ্দিন, উত্তর শাহবাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান আহমদ জুবায়ের লিটন, সাংবাদিক আব্দুর রব, তপন কুমার দাস ও এ.জে লাভলু উপস্থিত ছিলেন। 


প্রসঙ্গত, গত ১৯ জানুয়ারি রোববার ভোরে বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের পাল্লাথল চা-বাগানে পারিবারিক কলহ নিয়ে নির্মল কর্মকারের সঙ্গে তার স্ত্রী জলি বুনার্জির ঝগড়া হয়। এরই জের ধরে সে জলিকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। এসময় জলিকে বাঁচাতে তাঁর মা লক্ষ্মী বুনার্জি ও পাশের ঘরের বসন্ত ভৌমিক এবং বসন্তের মেয়ে শিউলী ভৌমিক এগিয়ে এলে নির্মল তাদেরও কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনার সময় ঘাতক সৎ বাবার দায়ের কোপ থেকে কোনো মতে বেঁচে যায় চন্দনা বুনার্জী। সে দৌঁড়ে পালিয়ে গিয়ে চিৎকার দিলে আশাপাশের শ্রমিকরা বাড়ি ঘেরাও করেন। একে একে সবাই শেষ করে ঘরের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে নির্মল। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তত্বাবধানে চন্দনার ঠাঁই হয় শ্রীমঙ্গল সরকারি শিশু পরিবারে।

সিলেটভিউ২৪ডটকম / ১৯ অক্টোবর, ২০২০ / লাভলু

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন