আজ বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১ ইং

জুড়ীতে গরীব ও দুস্থ গর্ভবতী মাকে সেবা প্রদান করেছে ‘প্রশান্তি’

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২১-০৩-০১ ১৭:৩৬:৩৮

জুড়ী প্রতিনিধি :: প্রত্যয় উন্নয়ন সংস্থার একটি প্রকল্প প্রশান্তি হেলথি লিভিং সেন্টার ‘প্রশান্তি’ ২০১১ সাল থেকে ২০২০ পর্যন্ত মৌলভীবাজারের জুড়ীতে গরীব ও দুস্থ এক হাজার ৩০০ গর্ভবতী মা’কে গর্ভকালীন ও প্রসব পর্যন্ত বিনামূল্যে সেবা প্রদান করেছে।

সোমবার দুপুর ১২টায় প্রশান্তির অস্থায়ী কার্যালয় জুড়ী আধুনিক (প্রাঃ) হাসপাতালে প্রত্যয় উনন্নয়ন সংস্থা, কুমিল্লা আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রত্যয় উন্নয়ন সংস্থা’র (প্রশান্তি প্রকল্প) নির্বাহী পরিচালক মাহমুদা আক্তার।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হেমলেটস প্রাইমারী হেলথ কেয়ার ট্রাস্ট এর তৎকালীন চেয়ারম্যান স্যার স্টিফেন ও ব্রায়ান এর নেতৃত্বে একটি মেডিকেল টিম বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবা সর্ম্পকে অবগত হওয়ার জন্য বাংলাদেশ সফরে আসেন। এ টিমের সফর সঙ্গী ছিলেন জুড়ীর কৃতি সন্তান লিলু কুলসুম খানম। তার প্রচেষ্টায় মেডিকেল টিম জুড়ীতে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। ২০১০ সালে তারা জুড়ীতে চারটি মেডিকেল ক্যাম্প এর মাধ্যমে জুড়ীবাসীকে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক উপদেশ ও স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করেন। মেডিকেল টিম ইংল্যান্ডে ফিরে গিয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে একই বছর “প্রশান্তি ইউ.কে” নামে একটি দাতব্য সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। ক্যাম্প থেকে জুড়ীতে চিকিৎসা সেবার অপ্রতুলতা উপলব্ধি করে স্থানীয় জনসাধারনের অনুরোধে প্রশান্তি ইউ.কে জুড়ীতে ২০১১ সাল থেকে মা ও শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম শুরু করে। এ পর্যন্ত  প্রশান্তি ইউ.কে জুড়ীতে বিনামূল্যে ১৩০০ গরীব ও দুস্থ গর্ভবতী মা’কে গর্ভকালীন সেবা প্রদান করেছে। তন্মধ্যে ১২০০ গর্ভবতী মা’কে সুষ্ঠুভাবে নিরাপদে ডেলিভারী সেবা প্রদান করা হয়। বর্তমানে ১০০ গর্ভবতী মা প্রশান্তির তত্তাবধানে রয়েছেন।

তিনি বলেন, গর্ভবতী মা প্রশান্তিতে নিবন্ধিত হওয়ার পর ২টি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের ভিজিটসহ পাঁচটি এন্টি নেটাল কেয়ার (এ.এন.সি) এবং চারটি পোস্ট নেটাল কেয়ার (পি.এন.সি) দেওয়া হয়। প্রথম এন্টি নেটাল ভিজিটের সময় প্রস্রাব, রক্ত পরীক্ষা ও আলট্রাসনোগ্রামসহ প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়। দ্বিতীয় এ.এন.সি দেওয়া হয় ২৪ সপ্তাহের মধ্যে এবং মা ও শিশুর শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয় এবং মেডিসিন দেওয়া হয়। তৃতীয় এ.এন.সি দেওয়া হয় ৩০ সপ্তাহের মধ্যে। এসময় সমস্ত শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয় এবং হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করে যাবতীয় মেডিসিন দেওয়া হয়। চতুর্থ এ.এন.সি দেওয়া হয় ৩৬ সপ্তাহের মধ্যে। তখনও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আলট্রাসনোগ্রাফি করা হয়। এছাড়া সবসময় রোগীদেরকে সুস্থ থাকার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়। ডেলিভারীর সময় রোগীকে বিভিন্ন সরকারী হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে নরমাল এবং সিজারিয়ান ডেলিভারীতে সহযোগীতা করা হয়। রোগীদের জরুরী সেবা দেওয়ার জন্য প্রশান্তির নিজস্ব অ্যাম্বুল্যান্স ব্যবহার করা হয়।

জুড়ী উপজেলার অজোপাড়াগাঁয়ে বসবাসকারী গরীব ও দুস্থ গর্ভবতী মা’রা যাতে প্রশান্তির বিনামূল্যের সেবা গ্রহণ করতে পারে সে জন্য সাংবাদিকসহ এলাকাবাসীর সহযোগিতা তিনি কামনা করেন।  

এ সময় প্রশান্তির আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার ছহুল আহমদ মকু, আওয়ামী লীগ নেতা মাসুক আহমদ, আব্দুল কাদির দারা, সাবেক গ্রামীণ ব্যাংক কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান, আনোয়ার হোসেন আনু, প্রশান্তির ব্যবস্থাপক মো: লুৎফুর রহমানসহ কর্মকতারা উপস্থিত ছিলেন।



সিলেটভিউ২৪ডটকম/এমএএল/এসডি-৬

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন