আজ মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯ ইং

আত্মশুদ্ধির জন্য রোযা একমাত্র পথ

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০১৯-০৫-২১ ০১:২৫:৩৩

আল-আমিন :: পবিত্র কোরআন শরীফ রোযার মাসে অবতীর্ণ শুরু হয়েছে। এজন্যই এই মাস সম্মানের, মর্যাদার। এমাসে আল্লাহ তায়ালা তাঁর অগণিত রহমত, বরকত ও মাগফিরাত দ্বারা পৃথিবীকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। কীভাবে এই মাস থেকে ফায়দা হাসিল করা যায় এবং ত্যাগের মাধ্যমে আল্লাহর অতি প্রিয় বান্দায় পরিণত হওয়া যায় এজন্য রোযার আগমনে বিশ্বের সমগ্র মুসলিম উম্মাহ আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ওঠেন এবং মুসলিম সমাজ বিনয় এবং আন্তরিকতার সঙ্গে রমজানকে স্বাগত জানায়।

আত্মশুদ্ধি ও নৈতিকতারর পরিশুদ্ধির মাস রোযা। এই রোযা মানুষের কু-প্রভৃত্তিকে পুড়িয়ে দেয়, উদয় করে শুভ বুদ্ধির, মানুষকে পাপাচার ও অনাচার থেকে বিরত রাখে, সকল অপকর্ম থেকে নিজেকে রক্ষা করে এবং সকল সৎ কর্মের জন্য আত্মাকে শক্তিশালী করে।

উন্নত চরিত্রের পূর্ণতা রোযার মধ্যে নিহিত। মানুষের নৈতিকসত্তা এবং জৈবিক সত্তা রোযার মাধ্যমেই মানুষের অন্তরে সৃষ্টি হয়। জৈবিক সত্তার উপর নৈতিক সত্তা বিজয়ী হলে মানুষ হয় চরিত্রবান, ফলে পাপাচারে লিপ্ত হওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। প্রকৃত মানুষ হওয়ার জন্য যে সততা ও নৈতিকতা প্রয়োজন তা রোযা শিক্ষা দেয় এবং মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে সৎচরিত্রবান হিসেবে গড়ে তোলে। এজন্যই মূলত রোযা আমাদের মাঝে বছর ঘুরে আসে।

আল্লাহ পবিত্র কুরআন শরীফে বলেছেন “হে ঈমানদারগণ, তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে। যেমনি করে ফরজ করা হয়েছিলো তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর। যেন তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পার (সূরা- বাকারা, আয়াত- ১৮৩)।" আত্মশুদ্ধির প্রচেষ্ঠায় মানুষের মধ্যে নৈতিক সত্তা প্রভাবশালী হয়। আর রোযা মানুষের নৈতিক গুনাবলী বিকাশ লাভ করায়।

রমযানের রাতে তারাবীহ'র নামায ও সেহেরী খাওয়ার মাধ্যমে বিশ্রাম গ্রহণ হয় নিয়ন্ত্রিত। এভাবে দেহের চাহিদাকে নিয়ন্ত্রিত রাখার মাধ্যমে স্বাভাবিক ভাবে নৈতিক সত্তা শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ পায় এবং নৈতিক চরিত্র গঠনে সহজ হয়। রোযা আত্মরক্ষার হাতিয়ার হয়ে উত্তম চরিত্রবান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলার একটি ঢালও মূলত। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বলেছেন- “রোযা ঢাল স্বরূপ”।

রোযার সঠিক শিক্ষা খুলে দেয় মানুষের উত্তম বৈশিষ্ট্য অর্জনের পথ। কিন্তু নৈতিক চরিত্র গঠনে আমাদের সমাজে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করা হচ্ছে না। রোযার মাস আসার পূর্ব থেকেই দেখা যায় আধুনিক সমাজের ভিন্ন রুপ। রমযান মাসকে উপলক্ষ করে বিভিন্ন ব্যবসায়ী মহল সিন্ডিকেট করে পণ্য দ্রবাদী মজুদ রেখে এই মাসে জনসাধারনের মাঝে বেশি মূল্যে বিক্রি করে। ফলে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিও শ্রেণীর ভোক্তারা চরম ভোগান্তীর শিকার হয়। সব ধরনের দ্রব্যসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, চোরাকারবারী, মজুতদার ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে ঊর্ধ্বগতিতে বেড়ে চলে সব পণ্যের মূল্য। আল্লাহর প্রদত্ত দেওয়া শাক সবজির দাম হয়ে যায় অন্য সময় থেকে দ্বিগুন। লাল নীল এবং হরেক রকমের বাতি জ্বালিয়ে রোযাদারদেরকে আকর্ষন করার জন্য রাস্তার পাশে বসে ইফতারের দোকান। যা শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে নাযায়েয এবং সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে কদর্যতা। অথচ ত্যাগ -সংযম ও সাধনার মহিমায় এ মাস মহিমান্বিত। রোযা বলে মানুষের প্রতি ইহসান করার জন্য।

আত্ম-পরিশুদ্ধির মাধ্যমে চারিত্রিক গুণাবলী সৃষ্টিও মহান স্রষ্টার কাঙ্ক্ষিত জীবনধারা অনুসরণ করাই রোযার মূল লক্ষ্য। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন পরীক্ষার জন্য। আর পরীক্ষা মাত্রই কিছু কষ্টসাধ্য ও কঠিন কাজ। আল্লাহতায়ালা তাঁর সেরা সৃষ্টিকেও পরীক্ষার মাধ্যমে যার যা প্রাপ্য, সেভাবে হাশরের দিনে পুরস্কৃত করবেন। এ পুরো জীবনের যত দিক আছে, সব কিছুর সমন্বয়ে গঠিত ইহজীবনকে সুন্দর ও আল্লাহর কাঙ্ক্ষিত মানদণ্ডে উন্নীত করতে হলে মাহে রমযান মাসই সাধনার একটা মাধ্যম হবে। আর মানুষের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে ফরজকৃত এ রোজার উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া ও সংযমী জীবনের অধিকারী হওয়া। রোযার মাসে সিয়াম ও ইবাদতে যা যা পালনীয় সেগুলো পালনে পূর্ণ মনোযোগী হওয়া। কোনো রোজাদার অবৈধ রোজগার ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রতারণা, পণ্যে ভেজাল, মদ ও ঘুষ গ্রহণ, অন্যায়ভাবে অন্যের হক নষ্ট, অন্যের সম্পদ জবর-দখল, অন্যের কুৎসা রটনা করা থেকে যেন বিরত থাকে এইজন্য হয়তো রোযার আগমন হয়েছে।

রোযার মাস নিজেকে বদলানো ও আত্মশুদ্ধির সুযোগের মাস। মানুষের নৈতিক উন্নয়ন ও দৈহিক শৃঙ্খলা বিধান, পারস্পরিক সম্প্রীতি-সহানুভূতি এবং সামাজিক সাম্য ও উন্নয়নের ক্ষেত্রেও রোজার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চারিত্রিক উন্নতির ক্ষেত্রে যে সমস্ত খারাপ অভ্যাস এবং পারিবারিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে যেগুলো অনুচিত এবং অসামাজিক। সে সমস্ত অপছন্দনীয় ও নিন্দিত কাজ ত্যাগ করে নিজের আত্মার ধারাবাহিক মেহনতের মাধ্যমে রমযান মাসের আমলে ডুবে থেকে আল্লাহর রহমত মাগফেরা এবং নাজাত অর্জন করতে পারলেই হবে মুসলিম উম্মাহ'র জন্য উত্তম।

লেখক: কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।

@

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন

সর্বশেষ খবর

  •   সিলেটে ধর্ষণ মামলায় ছুরত আলীকে জেলহাজতে প্রেরণ
  •   বিয়ানীবাজারের দাসউরা ম্যানেজিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
  •   খালেদা জিয়ার মানহানি মামলার শুনানি পিছিয়ে ১৫ জুলাই
  •   গাজীপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোটবর্জন
  •   শাহগলী আদর্শ শিশু বিদ্যানিকেতনে ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
  •   মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এক মাসের ভেতর সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের
  •   রথযাত্রা উপলক্ষে সিলেট দেবালয় রথযাত্রা কমিটির সভা শনিবার
  •   সেমিফাইনালে উঠতে টাইগারদের প্রয়োজন ৩টি জয়
  •   শায়েস্তাগঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে প্রিজাইডিং অফিসারের অসৌজন্যমূলক আচরণ
  •   সিলেট জেলা যুবলীগের সম্মেলন কবে, জানা যাবে ২৫ জুন!
  •   মানহানির মামলায় খালেদার জামিনের আদেশ আজ
  •   ৫ম ও শেষ ধাপের নির্বাচন স্থগিত চাইলেন আ.লীগের প্রার্থী
  •   শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রথম ভোটে ‘ভোটারস্রোত’
  •   ফেঞ্চুগঞ্জে ১৮ কোটি টাকায় হচ্ছে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
  •   ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে যোগ্য দল হিসেবেই বাংলাদেশ জয় পেয়েছে: আফ্রিদি
  • সাম্প্রতিক মুক্তমত খবর

  •   আমার বাবা শ্রেষ্ঠ বাবা
  •   আমার বাবা, আমার পৃথিবী
  •   ব‌রি‌সের বি‌য়ে, ব্রি‌টে‌নের ব্রে‌ক্সিট
  •   কুশিয়ারা এক মায়াবী নদীর নাম
  •   যাকাত সম্পদকে পরিশুদ্ধ করার একমাত্র উপায়
  •   বিলেতে যার হাত ধরে বাঙালি কমিউনিটিতে ব্যাডমিন্টনের হামাগুড়ি
  •   কংগ্রেসের পরিণতি যেন আওয়ামী লীগের না হয়
  •   আমি ছাত্রলীগ করি, সিলেট শহর ঘুরি পুলিশ সিগন্যাল দেয় না!
  •   এক মণ ধান= এক কেজি পুঁটি মাছ কিংবা এক কেজি গরুর মাংস
  •   ছাত্রলীগ একটি বিশুদ্ধ আবেগ আর অনুভূতির নাম
  •   চা শ্রমিকদের 'মুল্লুক চল' আন্দোলনের ইতিহাস
  •   ছাত্ররাজনীতির রাখালরাজা
  •   ফরমালিন যুক্ত ছাত্রলীগ দিয়ে সোনার বাংলা হবে না
  •   আপনাদের কিছু না হলেও তৃণমূলের মন ঠিকই কাঁদে...
  •   'নী‌তিহীন‌দের হা‌তে রাজনী‌তি'