আজ বুধবার, ২৭ মে ২০২০ ইং

আমাদের ব্যর্থতায় ক্ষমতার বাহাদুরি দেখাচ্ছেন আরিফ

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০১৯-১০-২৩ ১৮:২৫:২৯

লেখক।

এম রশীদ আহমদ :: বিএনপি ও জামায়াতের খুনী-লুটেরা গুষ্ঠি এখন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের ক্ষমতাধরদের মাথায় ছাতা ধরে অতি ক্ষমতাবান হওয়া এবং নিজেদের রক্ষা করার কৌশলে মত্ত। এর ধারাবাহিকতাই হচ্ছে আরিফুল হক চৌধুরীর বর্তমান অবস্থান। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি, মেয়র থেকে এটাই আরিফের বড় পরিচয়। যিনি চার দলীয় জোট সরকারের সময়ে সিলেটের ‘মুই কি হনুরে’।

২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জোরপূর্বক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে তখনকার নির্বাচিত জনপ্রিয় মেয়র বদর উদ্দিন আহমেদ কামরানকে পাশ কাটিয়ে নগর উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান হয়ে কর্পোরেশনের সকল কর্মকাণ্ডের দেখভাল ও একচ্ছত্র ক্ষমতার মালিক ছিলেন এই আরিফ। আর নামমাত্র চেয়ার সর্বস্ব মেয়র ছিলেন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।

আজ আমাদের এহেন উদারতা কিংবা চরম ব্যর্থতায় আরিফুল হক চৌধুরী অনেককেই তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে নিজের ক্ষমতার বাহাদুরি দেখিয়ে যাচ্ছেন। ৩৬০ আউলিয়ার পূণ্যভূমি সিলেটের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী, বাঙালির চেতনার অন্যতম স্তম্ভ শহীদ মিনার ভাঙার অন্যতম হোতা আরিফুল হক চৌধুরীরা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত বাংলো ভেঙে মহিলা মেডিকেল কলেজ নির্মাণ করার সকল আয়োজন সম্পন্ন করে ছিলেন।

জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতকে ‘হিন্দুর গান’ বলে পরিবর্তনের দাবি তুলেছিল। আজ তাদের নেতৃত্বে সিলেটে রবীন্দ্রনাথ উৎসব খুবই বেদনাদায়ক। মোদ্দা কথা, এমন ঐতিহ্যের আয়োজনে মুজিবকন্যার পাশে আরিফুল হক চৌধুরীর মতো খুনী-লুটেরা থাকলে মুজিবপ্রেমীদের হৃদয় ক্ষত-বিক্ষত হবেই।

জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর যেকোনো ভালো কাজের সুচনালগ্নে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) এর মাজার জিয়ারতে পূণ্যভূমি সিলেটে আসেন। বেশির ভাগ সময় সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ময়দানে জনসভা করেন।

তখন ক্ষমতায় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। ওই সময়ে আলিয়া মাদ্রাসা ময়দানে জননেত্রী শেখ হাসিনার জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। দিন-তারিখ নির্ধারিত হয়ে গেছে। সভাস্থলের অদূরেই এক জাসাস নেতার বাসায় (ফাজিলচিশত) জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বোমা বানাতে গিয়ে অসাবধানতায় বিস্ফোরণ হয়। কেন এই বোমা তৈরি করা হয়েছিল নিশ্চয়ই আপনারা ভুলে যান নি? আমাদের সিলেটের আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধাস্পদ নেতাদের নিশ্চয়ই মনে আছে।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।  সিলেটের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ময়দানে অনুমতি না পেয়ে রিকাবীবাজার পয়েন্টে প্রিয় নেত্রী সভা করে সিলেট ত্যাগ করেন। তখনকার সময়ে সিলেটের হর্তাকর্তা কে ছিলেন, স্মৃতিভ্রম না হয়ে থাকলে নিশ্চয়ই মনে থাকার কথা।

শাহজালাল মাজারে বোমা হামলা, গুলশানে আওয়ামী লীগের সভায় গ্রেনেড হামলা, মহিলা আওয়ামী লীগের সভায় গ্রেনেড হামলা-এসব না হয় ভুলেই গেলেন! বিশ্ববরেণ্য অর্থনীতিবিদ সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ আবু মোহাম্মদ শামসুল কিবরিয়াকে কি নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল, তাও কি ভুলে গেছেন?

জামায়াত জোট সরকারের সময়ে সিলেটে আওয়ামী লীগের নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে সংগঠিত সকল ঘটনায় উল্টো নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা, বিশেষ করে ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। আজকে অতিমাত্রার আদর্শিক ক্ষমতালোভী আওয়ামী লীগারদের অসহায় আত্মসমর্পণ সেই সময়ের নির্যাতিত নেতাকর্মীর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ আর বোবাকান্না, চাপা আর্তনাদ অভিশাপে রূপ নিতে খুব বেশি সময় বাকি নেই। জননেত্রী শেখ হাসিনা যাদের বিশ্বাস করে আস্থা রেখে নেতা বানিয়েছেন, তারাই তাঁর বিশ্বাসের দেয়ালে আঘাত হানেন। শুধুই কি লোভে না কি ভয়ে, এমন প্রশ্ন আমাদের থাকতেই পারে।

*লেখক: সহসভাপতি, সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ। সাবেক সহসভাপতি, সিলেট জেলা ছাত্রলীগ।

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন