আজ শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২০ ইং

ক্ষোভ অভিমানের সময় নয় সাথী, এসো বিপর্যস্ত মানুষের পাশে থাকি

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-০৩-২৭ ০০:৩০:০৬

ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল :: জাতীর এই দুর্যোগে আমি কিন্তু আর আমি নই। আমি শব্দের এখন পুরো অর্থ আমার পরিবার, আমার সমাজ আর গোটা দেশ। এ মুহূর্তে মানুষ 'আমিময়' হতে পারে না। তাকে সমাজের প্রতি অধিকতর দায়িত্বশীল হতে হবে। সমাজ টিকে না থাকলে পরিবার বাঁচবে না, আর পরিবার না বাঁচলে আমারও অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। আমাদের সবচেয়ে কষ্টের সময় মুক্তি যুদ্ধের কথা মনে করুন। তখনও খাবার ছিলো না, রসদ ছিলো না। ইটালি যুক্তরাষ্ট্রের কথা চিন্তা করুন, তাদের কি নাই, তবুও বিপন্ন মানবতা। দূর্যোগে সংগ্রামে কেউ কেউ হঠকারিতা করবেই। এটা নিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করা কোনভাবেই কাম্য নয়।

আমার পূর্বসূরীরাতো ৭১ এর যুদ্ধের মাঠে সুপেয় পানি পান করতে পারে নাই, পরনে কাপড় ছিলো না, অসুখে ঔষধ ছিলো না, হাতে অস্ত্র ছিলো না, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন, রাতে ঘুমানোর কোন সুযোগ ছিলো না, তারপর ও তাঁরা যুদ্ধ করে আমাদের কাংখিত বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন। ঐ সময়টাতেও প্রবাসী সরকারের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা দেশবিরোধী চেতনার লোকজন বারবার ষড়যন্ত্র করে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। কিন্তু তারা সফল হতে পারে নি। ঠিক একই ধারায় আজও শাসনযন্ত্রে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে লুকিয়ে থাকা দেশ বিরোধী লোকজন বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তাদের পরিণতি ও তাদের পূর্ব সূরীদের মতোই হবে।

বিজ্ঞ আদালত আমাদের প্রশংসা করেছেন, সরকার প্রধান আমাদের পাশে থাকার অংগীকার করেছেন, গণমাধ্যম আমাদের সাথী, আমরা স্বাস্থ্য কর্মীরা কোন অজুহাতে কারো কথায় বা আদেশে বিভ্রান্ত হবো না। মুক্তি যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছি, স্বাস্থ্যসেবায় এম ডি জি বাস্তবায়ন করেছি, ডেংগু চিকিৎসায় প্রশংসিত হয়েছি, তাই সমসাময়িক সময়ে করোনা রোগ প্রতিরোধে মানুষের পাশেই থাকবো। রোগীরাই আমাদের সম্পদ। এ সমাজ আমার বিচরণ ক্ষেত্র, সমাজের সকল মানুষ আমার আত্মীয়। দেশের দূর্যোগে সকল শ্রেণির মানুষ আজ বিপন্নের পাশে দাড়িয়ে আছে। আসুন জোর গলায় বলি আমরাও পারি।

বিপর্যয়কর মহাযজ্ঞে ভূল, ভ্রান্তি, ব্যত্যয় থাকতেই পারে। আমি কিন্তু আমার শপথের জনক হিপোক্রেটিস এর সেই "জনগণের কল্যাণে আমার জীবন উৎসর্গ করবো" তা থেকে এক বিন্দু ও পিছিয়ে যাবো না। ইতিবাচক মনোভাব ই আমাদের পেশাকে আরো উজ্জ্বলতর করবে। অন্য পেশার চেয়ে যখন আমার পেশাই অধিকতর গর্বের আর অহংকারের, তখন চলমান দূর্যোগে আমরা যেন আরো ঈর্ষনীয় মহানুভবতার সাথে শপথের সকল শর্ত অনুসরণ করি। প্রাত্যহিক পেশাগত জীবনের প্রতিটা মুহূর্তই যে নান্দনিক ও ছন্দময় হবে তা কিন্তু নয়। জাতীয় এই কঠিন মুহূর্তে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে তা মোকাবিলা করাইতো বীরের কাজ। কে কি করলো আজ তা বিবেচ্য নয়, আমি কতটুকু করতে পারলাম তাই আমার জীবন সংগ্রামের ইতিহাসে লেখা থাকবে।

ভালো থেকো স্বজন। পরিবার কে দূর্যোগময় পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে সাহসী করে তুলো। স্বাস্থ্য সৈনিকের পরিবার কে কিন্তু সাহসী হতেই হয়। এটাই আমার পেশা, এখানেই আমার সকল অহংকার।

জগৎ সংসারের হিসাব জানি না, এটা নিশ্চিত জানি যে মহান সৃষ্টিকর্তা তোমাকে প্রশংসিত করবেনই।

লেখক: মহাসচিব, বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন।
(লেখকের ফেসবুক থেকে সংগৃহিত)

@

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন