আজ রবিবার, ০৭ জুন ২০২০ ইং

পৃথিবী আবার শান্ত হবে

পূর্ণদৈর্ঘ্য জীবনের স্বল্পদৈর্ঘ্য রোজনামচা

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-০৪-০৫ ১০:৪১:২৯

ফারজানা ইসলাম লিনু  :: নির্ভেজাল রোদের প্রাণবন্ত সকাল। ভবঘুরে মেঘেরা আলস্যে ঘুরে বেড়ায় নিরালা আকাশে। বাতাসের মৃদু ঝাপটায় জানালার শ্বেতশুভ্র পর্দাগুলো দোল খায়। প্রাতঃরাশ তৈরির তাড়নায় বিছানা ছাড়তে হয় তীব্র অনিচ্ছায়।

বিষাক্ত বাতাসে বিষাদের গন্ধ। অফুরন্ত অবসরে মনে আনন্দ নেই।
বাউটা হুলোও নিখোঁজ। কোয়ারেন্টিনে আছে না নতুন করে কোন মেখরির পাল্লায় পড়েছে কে জানে? দেখা হলে গায়ে পড়েই বলতাম, অনেক হয়েছে বাউটামি, এখন ভেতর যাও।

কাক দম্পতির কাইজ্যায় সাময়িক বিরতি। তাদের নিরবতায় আমি ভীষণ চিন্তিত। হুমায়ুন আহমেদের বসন্ত বিলাপ পড়ে জানলাম বসন্তে কাকেরা নাকি কা কা কম করে। চিরশত্রু কোকিলের হইচইয়ে বিরক্ত হয়ে কাকেদের এই বসন্তকালীন মৌনব্রত।
কাক জোড়ার নিরবতার তথ্য আপাতত আমাকে আশ্বস্ত করেছে।

নির্জন দুপুরে ঘুঘু জোড়ার প্রণয় লীলাও জমেনা। তবে থেমে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয় ক্ষণে ক্ষণে।

স্বচ্ছ আকাশে একজোড়া ভুবন চিল ডানা মেলে নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়ায়। অবাধে বৃক্ষ নিধনে তারাও বিপাকে। নতুন করে ঘর বেঁধেছে দূরে কোথাও। কিন্তু পরিচিত ভুবনে না আসলে যে হয় না।

খাবারের আকাল। শিখার মা মুরগির বাচ্চাদের চোখে চোখে রাখে। বেজিটার চরম দুর্দিন। বেজি বউ ছোট ছানাপোদের রেখে গর্ত থেকে বেরোতে পারে না। একার শিকারে পরিবার চলে না। দাম্পত্য কলহ, কামড়াকামড়ি বেজি পরিবারে লেগেই আছে।

জোড়ায় জোড়ায় শালিকেরা কি জানি শলাপরামর্শ করে। হয়তো ভাবছে আউকালি মানবসন্তানেরা এতো নিরব কেন?

বুলবুলি জোড়া আবার জানালার কাচে বন্দী স্বজাতিকে ঠোকরাতে মরিয়া। উঠে গিয়ে যত বোঝাই, নিজেকে ঠোকরে কি লাভ? বুঝেনা।

লেজ উঁচিয়ে, পুচ্ছ দেখিয়ে ভেটকি মারে। সরে গেলে আবার আসে ঠোকরাতে। আমি তখন গলা বাড়িয়ে বলি.........

বুলবুলিগো সই,
দুঃখের কথা কই.....

দুঃখের কথায় বুলবুলির কোন আগ্রহ নেই। এইবার দৌড়ে পালায়।

রান্নাঘরের বারান্দায় একদল চড়ুই। মানবকূলের এই দুর্দিনে গভীর প্রণয়ে বেপরোয়া চড়ুইরা আমাকে থোড়াই কেয়ার করে। প্রণয় লীলা শেষ হলে সদলবলে ছাদ বাগানে হানা দেয়। ছিটিয়ে দেয়া শস্যকণা রেখে রোপিত বীজ নাশ করে।

পাশের বাসার জানালার কার্ণিশে চড়ুই আর পায়রা একসাথে। জালালি পায়রাদের আগ্রাসন মেনে নিয়ে শস্যকণায় ভাগ বসায় চড়ুই পাখিরা।

দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চাষনী পীরের মাজার থেকে সেই বানর পরিবারও আসে না। আর্মির ভয়ে লোকালয়ের সফরসূচি মনে হয় স্থগিত করেছে তারা।

কর্মহীন ভুখা মানুষের পেটের ভাবনা তুচ্ছ করে নিন্দুকের আজাইরা চালবাজি অব্যাহত।
দুঃসময়ে সুষ্ঠু বিনোদনের চরম আকাল।

তবুও ঘুম ভাঙলে আশা জাগে.....

"একদিন ঝড় থেমে যাবে
পৃথিবী আবার শান্ত হবে।
বসতি আবার উঠবে গড়ে
আকাশ আলোয় উঠবে ভরে
জীর্ন মতবাদ সব ইতিহাস হবে - পৃথিবী আবার শান্ত হবে।"


শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন