আজ শনিবার, ৩০ মে ২০২০ ইং

আমরা ভয় জয় করবোই

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-০৫-১২ ১৬:৫৮:৪১

ধ্রুব জ্যোতি দে :: বিশ্ব কাঁপছে করোনাভাইরাসে। এর জের হিসেবে সারাদেশে লকডাউন চলছে। বলতে গেলে সবাই ঘরবন্দি।

এই লকডাউনের মধ্যে এখনো মানুষ যেভাবে অনিয়মের মধ্যে চলছে। কেউ শুনছেই না আবার কেউ বাধ্য হয়ে শুনতে পারছে না।

গার্মেন্টস মালিকদের খেলা খেলা লকডাউন। আর শ্রমিকদের বানিয়েছে সেই খেলার বল তাতে করে তো দেশ কোথায় যাবে ভেবেই পাচ্ছি না মঞ্চে নাটক, নাচ, গান, আবৃত্তি করাতো তারপরের কথা। আগে আমরা বাঁচতে পারি কিনা সেটাই বড় প্রশ্ন।

আমি একদম সত্যিই একটি মনের কথা বলতে চাই। আগে দেখব সৃষ্টিকর্তা আমাকে নতুন পৃথিবীতে বাঁচিয়ে রাখেন কিনা। যদি সেই পৃথিবীতে থাকবার সুযোগ পাই নাটকের মধ্যে হোক, আর ভাষণ দিয়ে হোক, প্রতিবাদে হোক, চিৎকারে হোক, মানুষকে মানুষ হতে বলবো। তাই হবে আমার নাটক, আমার নাচ, আমার গান, আমার জীবন।

এসময়ে আমার মনে হয় খেটে খাওয়া মানুষগুলো আছে সবচেয়ে কষ্টে আছে। খেটে খাওয়া মানুষগুলো যাদের অধীনে, অর্থাৎ যারা যাদের অধীনে কাজ করছে তাদের সম্পূর্ণ দায়িত্ব থাকবে তাদের ও তার পরিবারের দায়িত্ব নেবার। যেমন ধরেন আমার অধীনে যারা আছে ছাত্র-ছাত্রী বল, গৃহ পরিচর্যাকারী বল ড্রাইভার, ক্লিনার দারোয়ান বা আবার জানা আত্মীয়-স্বজন বন্ধুবান্ধব তাদের পাশে দাঁড়ানো। সেটা নিজেকে নিঃশেষ করে করতে হবে না আমাদের বাড়তি বিলাসের যে অপচয় আমরা করি সেই অর্থে তাদের যথেষ্ট সাহায্য হবে। এটা আমাদের মাথায় থাকলে এবং কর্মের ফলালে আমরা একটু হলেও মানুষ হবো। দেশটাও বদলাতে শুরু করবে।

এছাড়াও এই সময়ে আমাদের সচেতন হতে হবে অনেক। আমাদের তো সচেতন না হয়ে উপায় নেই। লকডাউন মানে মঞ্চ মিডিয়া সব অনুষ্ঠান বন্ধ আমাদের কার্যকলাপ বন্ধ সেই দিক থেকে আমরা মনে করি আমরা যথেষ্ট সচেতন। কারণ আমরা বিশ্বাস করি কোন সংস্কৃতিকর্মীর স্বার্থের চলাফেরা কারণে যেন একটি মানুষ ও ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সিলেটে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট এই সংকটময় মুহূর্তে নিঃস্বার্থভাবে এখনো মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

আর বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার, বাংলাদেশ পথ নাটক পরিষদ এই সব সংগঠনগুলো তো সবসময়ই একটি পজেটিভ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। নাটক, নাচ, সংগীত আবৃত্তি, সব গুলো তাদের মত করে অবশ্যই বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে আছে। তবে আমি কখনোই বিশ্বাস করিনা ছবি তুলে ত্রাণ দিলেই তাকে সাহায্য করা বলে।

অনুরোধ থাকবে সংস্কৃতিকর্মীদের বাইরে ও অনেক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ আছে তাদের পাশে থাকা প্রয়োজন।

সবশেষে বলতে চাই, করোনা পরবর্তী সময়ে শুধু অর্থনৈতিক নয় আরো অনেক ক্রাইসিস দেশে দেখা যাবে। তখন আমি সংস্কৃতির কর্মীদের অনুরোধ করব যে মঞ্চে শুধু নয় মাঠে নেমেও দুঃখী মানুষের ও দেশমাতার সেবায় কাজ করতে হবে। যখন যেভাবে প্রয়োজন। আমরা শিল্পীরা একাত্তরে যেমন যুদ্ধ করেছি এবারও সেভাবেই যুদ্ধে নামবো। আমরা ভয় জয় করবোই অবশ্যই। নাটক আমাদের মনের শক্তি দেহের শক্তি সুন্দর হয়ে ওঠার ইচ্ছাশক্তি ও বটে। সব ভালো হোক সুন্দর হোক। স্বচ্ছ সুন্দর নিষ্পাপ একটি পৃথিবীর আশায় তাকিয়ে রইলাম সৃষ্টিকর্তার দিকে। এই লড়াই আমরা জিতবই, জয় হোক মানবতার , জয় হোক নাটকের।


লেখক: মঞ্চশিল্পী, সিলেট।

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন