আজ শনিবার, ৩০ মে ২০২০ ইং

প্রতিহিংসার রাজনীতি, আমলাদের ষড়যন্ত্রের আঁধার

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-০৫-১২ ২০:৫২:৪১




|| শেখ মনজুরুল হক ||


রাজনৈতিক প্রতিহিংসা আমলাতান্ত্রিক ষড়যন্ত্রের জম্ম দেয়। অথচ রাজনীতিবিদরা সেটা বুঝতে অক্ষম। যখন বুঝতে পারে তখন আর ফিরে তাকানোর সময় থাকে না। আর ফিরে তাকালেও ততক্ষণে দল এবং দেশের বারোটা বেজে যায়।

আমলাতান্ত্রিক বিড়ম্বনার কাহিনী কমবেশি সকলেরই জানা। এইতো সেদিনের কথা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি মহোদয় কিট নিয়ে কি না লুকোচুরি করলেন অবশেষে কিট নিলেন। তবে মধ্যখানে সরকার আর সংগঠনকে প্রশ্নবিদ্ধ করলেন।

গতকালের তুচ্ছ ঘটনাকে তুঘলকি রুপে রুপায়ণের জন্য সঙ্গত কারণেই ভাবনায় আসে সেই অদৃশ্যের অতলে কী রয়েছে। কথায় আছে, যাহা কিছু অদৃশ্য তাহাই নমস্য, আর নয়তো সর্বনাশ্য। সময়ের আলোচিত যার কথা বলতে চাই তাঁর জন্য সর্বনাশ্যের কি আছে। তিনি বহু উত্থান-পতন ও ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে এই সময়ে এসে রাজনীতিতে একটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছেন। তার নমস্য আর সর্বনাশ্যে দল আওয়ামীলীগ এখন আগাগোড়া জড়িত। রাজপথে আদর্শ বাস্তবায়নের সংগ্রামে তিনি নিজের ব্যক্তি পরিচয় চাপিয়ে আওয়ামী লীগের রঞ্জিত সরকারে পরিণত হয়েছেন, অথচ তাকে আমলাতান্ত্রিক ষড়যন্ত্রে ফাঁসিয়ে আড়ালে আবডালে অনেকেই আদর্শের ঢেকুর দিচ্ছেন।

আমি ব্যক্তি রঞ্জিত সরকারের অনুসারী নই তবে আওয়ামীলীগের প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি রঞ্জিতের ভক্ত। দীর্ঘ দুই যুগ ধরে নাম শুনে আসা রঞ্জিত সরকারকে আর গত এক যুগ ধরে কাছ থেকে দেখার সুবাদে ভিন্ন পরিস্থিতিতে তাকে নিয়ে কিছুটা ধারণা বা মন্তব্য করা একেবারেই অমূলক হবেনা।

শুনেছি টিলাগড়ের কয়েকজন যুবক সিলেট প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে কাছে একটি পাঠা চেয়েছিলেন। ঘটনার সত্যতা যাচাই না করে ধরে নিলাম যা শুনেছি তা সত্য। এখন আসুন একটি পাঠার বাজার মূল্য কত? ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার।

একটা পাঠার জন্য যে মানুষটাকে প্রধান আসামি করে মামলা করা হয়েছে তিনি সিলেট জেলা যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগসহ অন্যান্য সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মীর স্থানীয় রাজনৈতিক অভিভাবক। সুনামগঞ্জ-১ আসনের সম্ভাব্য আগামীর সংসদ সদস্য
রঞ্জিত সরকার কি এরকম এক ডজন পাঠা কিনতে পারবেন না যে উনি ছেলেগুলোকে পাঠিয়ে ফ্রি-তে পাঠা নিতে চাচ্ছেন। বিষয়টা শুধু হাস্যরসের সৃষ্টি করেনি সচেতন মহলকে রীতিমত হতবাক করেছে।

যে মানুষটা করোনা ভাইরাসের এই ক্রান্তিকালীন সময়ে সুনামগন্জের অসহায় মানুষেদের জন্য প্রতিদিন ত্রাণ নিয়ে ছুটছেন মানুষের দুয়ারে দুয়ারে। পরিচিত বন্ধুবান্ধবের কাছে যে মানুষটি কখনো হাত পাতেননি সে মানুষটাই করোনার এই পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষদের জন্য কিছু সাহায্যের প্রার্থনা করছে।

যে মানুষটা তার সামর্থ্যবান কর্মীদের প্রতিদিন উৎসাহিত করছে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে সেই মানুষটাকেই রাজনীতির কুশীলবগণ সমান্য তুচ্ছ একটা বিষয়ে জড়িয়ে কলুষিত করতে চাচ্ছেন। আপনাদের মনে রাখা উচিত মানুষের বিচার বিশ্লেষণের ক্ষমতা লোপ পায়নি যে তারা এটাকে বিশ্বাস করবে। আর যারা বিশ্বাস করবে তারা নেহাৎ হুজুগে বাঙালি ।

আসুন আসল কথা বলি, সামনে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ হবে রঞ্জিত সরকার কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য সবচেয়ে আলোচিত নাম। এই আলোচিত নামকে সমালোচিত করতে আমলাদের কাঁধে ভর দিয়ে জজ মিয়া নাটকের মঞ্চ মহড়ার প্রথম ধাপটি আমাদের দেখতে হলো একদম অনভিজ্ঞ পরিচালকের অপ্রস্তুত অভিনয় শিল্পীদের মাধ্যমে।

ইতিহাস অকাট্য প্রমাণ দেয় রাজনীতিতে ষড়যন্ত্র করে কাউকে দমিয়ে রাখা যায়না তবে সাময়িক সমালোচিত করা যায় বটে। তবে নিশ্চয়ই সকল ষড়যন্ত্রকারীদের পরিণাম ভয়াবহ হবে।

লেখক: সাবেক ছাত্র বৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক, সিলেট জেলা ছাত্রলীগ

@

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন