আজ শনিবার, ০৬ জুন ২০২০ ইং

মানবিক স্বপ্নের সূর্যোদয় ও আত্মতৃপ্তির সূর্যাস্ত

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-০৫-১৯ ২০:৪৮:১৪



::  শেখ মনজুরুল হক ::

একজন মানবিক স্বপ্নচারী তরুণের পথচলার গল্প লেখাটা মোটেও সহজ কাজ নয়। আকাশ বিস্তৃত এই স্বপ্নিল জগতে কোন কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনা একজন মানবিক স্বপ্নবাজ তরুণের প্রতিদিনের পথচলায়। তেমনই একজন তরুণ উদীয়মান মানবিক নেতার গল্প শোনাতে চাই জাতির এই চরম দুঃসময়ে।  যিনি তাঁর নিজ এলাকায় অসংখ্য তরুণ ও সামর্থ্যবান মানুষদের মধ্যে মহানুভবতার যে শুভ সংক্রমণ ঘটিয়েছেন তা এই প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত মানুষের মধ্যে আশার আলো হিসেবে কাজ করবে।

যেখানে মানুষের সামাজিক বন্ধনও আজ বিপর্যস্ত। সামাজিক রীতিনীতি প্রায়শই বাধার সম্মুখীন। রাজনীতি, অর্থনীতি অনেকাংশেই তছনছ। তথাকথিত সমাজসেবীরাও লোকচক্ষুর আড়ালে, অনেক জনপ্রতিনিধিও সেল্ফ হোম কোয়ারেন্টাইনে। এমনকি সংক্রমিত মানুষটিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা খোদ চিকিত্সক নিজেও আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মুখে পতিত। তবুও ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে প্রতিরোধ যুদ্ধে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন চিকিত্সা সেবায় নিয়োজিতরা। তবে পুলিশ, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, রাজনীতিবিদরাও বসে নেই।

সময়ের সেই সাহসী সন্তানদের মধ্যে থেকে এমনই একজন মানবিক তরুণ, মানুষের কাছে দায়বদ্ধ রাজনীতিবিদ সিলেটরত্ন এস এম জাকির হোসাইনের কথা বলছি। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস যখন প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে হানা দেয় সেই সূচনা লগ্ন থেকেই তিনি অবস্থান করছেন জন্মমাটি জুড়ী-বড়লেখায়। নিজের বিয়ের অনুষ্ঠান বাতিল করে এক ঝাঁক তরুণদের নিয়ে নেমে পড়েন করোনা ভাইরাস সম্পর্কে গণসচেতনতা গড়ে তুলতে। বাজারে-বাজারে এমনকি পাড়ামহল্লায় মাইকিং থেকে শুরু করে মাস্ক, সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ দিয়ে শুরু হয় প্রাথমিক প্রতিরোধ প্রস্তুতি। প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে নিত্য প্রয়োজনীয় সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে ক্রেতাদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য গোলবৃত্ত অংকনের উদ্যোগ নেন এবং মানুষকে উৎসাহিত করেন। নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ক্যামিস্টদের সহায়তা নিয়ে প্রস্তুত করেন হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং তা তরুণদের নিয়ে বোতলজাত করে বিতরণ করেছেন কয়েক হাজার মানুষদের মধ্যে এবং তা অব্যাহত রয়েছে। বাজারে-বাজারে জীবাণুনাশক ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে তাঁর নিজ উদ্যোগে।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের তালিকা প্রশাসনের কাছে তুলে দেন। সম্মানিত প্রবাসীদের সেল্ফ হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করাসহ তাদের সর্বদা খোঁজ খবর রাখেন। যাতে করে প্রবাসীরা সামাজিক ও প্রশাসনিক বিড়ম্বনার সম্মুখীন হতে না হয়। সাধারণ রোগী এবং করোনা রোগী যাতে তার ভিত প্রতিবেশীর হাতে হেনস্থা হতে না হয় সে ব্যাপারে তিনি প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এলাকার সচেতন মানুষদের নিয়ে রীতিমত কাজ করছেন।

জননেত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগ, যুবলীগকে সাথে নিয়ে হাকালুকি হাওর পাড়ের অসহায় কৃষকের ধান কেটে বাড়িতে পৌঁছে দিতে তাঁর উপস্থিতি দলীয় নেতাকর্মী এবং এলাকার তরুণদের মধ্যে ব্যাপক অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।

সবচেয়ে যে বিষয়টা আমার কাছে প্রশংসার দাবি রাখে তা হচ্ছে তিনি তাঁর সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষকে সাহায্যের পাশাপাশি এলাকার সামর্থ্যবানদের রীতিমত উৎসাহিত করছেন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং সেই সুবাদে বিগত দুই মাস থেকে একদিনও থেমে নেই তাদের ভালোবাসার উপহার সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম।

অবরুদ্ধ এই পরিস্থিতিতে  জনস্বাস্থ্যের দিক বিবেচনায় তিনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সমন্বয়ে গড়ে তুলেন টেলিমেডিসিন সেবা কার্যক্রম যা তার নিজ এলাকার মানুষের পাশাপাশি সমগ্র দেশব্যাপী কার্যকর রয়েছে।

কোভিড-১৯ বিরুদ্ধে শুধু একজন যোদ্ধা নয় তিনি, এ যুদ্ধে বিজয়ী হতে সম্মুখ যোদ্ধাদের প্রতিনিয়ত উৎসাহ প্রদান করছেন তিনি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত সকল সম্মুখ যোদ্ধা, পুলিশ প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সাংবাদিকসহ সকল সম্মুখ যোদ্ধাের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছেন সম্মানার্থে ফলমূলসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রাথমিক জিনিসপত্র।

জুড়ী থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হলে তাদের মেসের নিয়োজিত বার্বুচি যখন পালিয়ে যায়, খবর পেয়ে সেই সকল যোদ্ধাদের সম্মান জানাতে ছুটে যান তিনি সাথে ভালোবাসার উপহার হিসেবে খাবার, ফলমূল নিয়ে যান এবং প্রতিনিয়ত তাদের খোঁজ খবর রাখছেন তিনি। যা এক পুলিশ ভাইয়ের আবেগময়  ভিডিও বার্তার মাধ্যমে জানতে পারি।

এতো আক্রান্ত, এতো আতংক, বেঁচে থাকা নিয়ে এত সংশয়ের মাঝেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে নিয়ে বেড়ে ওটা আর বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এস এম জাকির হোসাইনরাই মৃত্যু ভয়কে তুচ্ছ করে জাতির এই সংকটময় মুহূর্তে নিজের সর্বস্ব দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াবে এটাই স্বাভাবিক। মানবিক যোদ্ধা এস এম জাকির হোসাইনদের প্রতিটি সূর্যোদয় হয় মানব কল্যাণের স্বপ্ন নিয়ে আর প্রতিটি সূর্যাস্ত হয় মানুষের জন্য কাজ করার তীব্র আকাঙ্ক্ষায়। 

সকল মানবিক যোদ্ধাদের প্রচেষ্টায় এই যুদ্ধে জয়ী হব আমরা। আক্রান্ত সকলের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা আর সকল মানবিক যোদ্ধাদের স্যালুট।

লেখক :: সাবেক ছাত্র বৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক, সিলেট জেলা ছাত্রলীগ

@

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন