আজ মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২০ ইং

করোনা আক্রান্ত রোগীরা কিভাবে শোবেন বা ঘুমাবেন?

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-০৭-২৯ ১২:৪৬:১৬

ডা. মো. আব্দুল হাফিজ শাফী :: করোনাভাইরাস থেকে সেরে উঠতে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। এর মধ্যে একটি হচ্ছে প্রোনিং পজিশন।

প্রশ্ন: 'প্রোনিং' বা ‘প্রোন পজিশন’ কি?

উত্তর: প্রোন পজিশনিং বা উপুড় করে শোয়া এবং হাফ লায়িং পজিশনিং বা আধশোয়া অবস্থা হলো করোনার চিকিৎসায় স্বীকৃত এক ধরনের পদ্ধতি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শ্বাসকষ্টের সমস্যা তীব্র হলে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভেন্টিলেটর দেওয়ার আগে করোনা আক্রান্ত রোগীকে এ সেবা দেওয়া হচ্ছে। তাহলে যেটা দাড়ালো সেটা হল 'প্রোনিং' বা 'প্রোন পজিশন' মানে হল উপুড় হয়ে শোয়া।

প্রশ্ন : কোভিড-১৯ এ রোগীকে প্রোনিং কেন করতে হয়?
উত্তর: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীরা পেটের উপর ভর করে ঘুমানোর চেষ্টা করবেন । আমরা সচরাচর যেভাবে ঘুমাই অর্থাৎ পিঠের উপর ভর করে না ঘুমানো শ্রেয়। প্রোনিং অর্থাৎ উপুর হয়ে শোয়া অবস্থায় ফুসফুসের অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ে, এই অবস্থায় ফুসফুসে অক্সিজেন বেশী প্রবেশ করে৷ এতে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির হাইপোক্সিক অবস্থা বা অক্সিজেনের ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা কমে আসে। কোভিড-১৯-এর রোগীদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে বা অক্সিজেনের স্বল্পতা দেখা দিলে সেক্ষেত্রে রোগীকে নিজে থেকেই প্রোন পজিশনে শুয়ে 'সেলফ প্রোনিং' করা উচিত। অর্থাৎ রোগী নিজেই উপুড় হয়ে শোবে। এ ক্ষেত্রে মাথাটা ডান দিক, বাম দিকে কাত করে রাখবে।

প্রশ্ন : করোনায় আক্রান্ত হলে প্রোনিং কখন করতে হয়?

উত্তর: যাদের শ্বাসকষ্ট বেশি তাদের যতটুকু সম্ভব proning করে উপুর করে রাখতে হবে। না হলে ডান বা বাম কাতে শুতে হবে।কখনও চিত হয়ে শুয়ে থাকা উচিত না। বেশি মোটা রোগীদের ক্ষেত্রে অন্যদের সাহায্য লাগতে পারে উপুড় করতে। দিনের যে কোন সময় প্রোনিং করা যায়। তবে খালি পেটে প্রোনিং করা ভালো ।

প্রশ্ন : করোনা আক্রান্ত রোগীর প্রোনিং বা উপুর করে শোয়ালে কি উপকার হয়?

উত্তর: কোভিড-১৯ এ ফুসফুসে সংক্রমণের ফলে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়। শরীর থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড অপসারণের কাজটাও সঠিক ভাবে হয় না। ফলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলি ক্রমশ দুর্বল ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্যই রোগীকে উপুর করে শোয়ানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
আমাদের ফুসফুসের নিচের অংশ অর্থাৎ লোয়ার লোব, যা পেছনের দিকে থাকে, সেটা ফুসফুসের একটা বিরাট অংশ। যদি সব সময় চিত হয়ে শুয়ে থাকি, তাহলে লোয়ার লোবের ওপর চাপ পড়ে এবং লোয়ার লোবের শ্বাসনালিগুলো বন্ধ হয়ে যায়। শ্বাসনালিতে শ্বাস-প্রশ্বাস ব্যাহত হয় এবং কোনো জীবাণু যদি শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে ঢোকে, তবে নিউমোনিয়ার আশঙ্কা থাকে। উপুড় হয়ে শোয়ার ফলে শ্বাস-প্রশ্বাস বাড়ে, ইনফেকশনের প্রবণতাও কমে।
আমেরিকান এক জার্নালে গভেষকরা বলেছেন, যারা জেগে থাকা অবস্থায় কমপক্ষে ছয় ঘণ্টা প্রোনিং করে তাদের দুই-তৃতীয়াংশেরই লাইফ সাপোর্টের প্রয়োজন হয়নি।

প্রশ্ন: করোনা আক্রান্ত প্রেগন্যান্ট অর্থাৎ গর্ভবতী মহিলারা কিভাবে শুয়ে থাকবেন?

উত্তর: কোন সমস্যা ছাড়াই প্রেগন্যান্সির প্রথম পাঁচ মাস বেশীর ভাগ সময় প্রোনিং পজিশনে থাকতে পারেন করোনা আক্রান্ত গর্ভবতীরা।তবে প্রেগন্যান্সি পাচ মাসের বেশী হলে একপাশে কাত হয়ে শুতে বলা হয়। কখনই চিত হয়ে শুয়ে থাকবেন না। উপুড় হয়ে শুলেই( Awake proning) দেখা যায় অনেকের সেচুরেশন ঠিক হয়ে যায়। মাঝারি ও তীব্র শ্বাসকষ্টের রোগীরাও এর সুফল পায়। এই পজিশনে হৃদপিন্ড ও এর আশেপাশের জিনিসগুলো সামনের দিকে চলে আসে।ফলে পিছনের দিকের ফুসফুসের অংশ প্রসারিত হবার যায়গা পায়।যার কারনে ফুসফুসের বেশি এরিয়া বাইরে থেকে অক্সিজেন শরীরের ভিতরে ঢুকাতে পারে বিনা বাধায়। গর্ভবতী কোভিড রোগীর অনেককেই দেখলে মনে হবে সে ভালই আছে।কিন্তু, দেখতে দেখতেই সে হুট করে খারাপ হয়ে যেতে পারে। তাই প্রেগন্যান্ট করোনা আক্রান্ত রোগিদের শোয়ার পজিশন খুব গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: মেডিকেল জার্নাল।

লেখক: বিসিএস (স্বাস্থ্য), নাক-কান-গলা বিভাগ, বিএসএমএমইউ (প্রেষণে), ঢাকা।

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন