আজ সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২০ ইং

কুরবানির ঐতিহ্যময় ইতিহাস

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-০৭-৩০ ২৩:০০:৪১

এনায়েতুল্লাহ ফাহাদ :: কালের ঘুর্ণিপাকে দিন, সপ্তাহ, মাস পেরিয়ে  প্রতিবছর আমাদের মাঝে এসে হাজির হয় ইসলামি শরিয়তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত কুরবানি। প্রতিবছরের মতো হিজরি বর্ষের জিলহজ মাসের প্রথমদিকেই আমাদের দ্বারপ্রান্তে আগমন করে কুরবানির দিনগুলো। সমগ্র মানবজাতির জন্য এই দিনগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রহমত বয়ে চলে কুরবানির দিবসজুড়ে। বরকত ছুঁয়ে যায় প্রতিটি শহরে। খোদার ইবাদাতে পশুর রক্তে লাল হয়ে যায় পৃথিবীর প্রাঙ্গন। ইব্রাহিমি ত্যাগে উদ্বুদ্ধ হয় প্রতিটি হৃদয়। মহান প্রভুর কাছে সপে দেয় আত্মত্যাগী প্রাণ। একমাত্র ইচ্ছা, মহান রবের নৈকট্য হাসিল।যেন ভাগ্যে জোটে তাঁর পূর্ণ নেয়ামতের মাকান; জান্নাত।

কুরবানি শব্দটির শাব্দিক ও পারিভাষিক ব্যাখা করলে আমরা পাব-
আরবি ‘কুরবুন’ (قرب) বা ‘কুরবানুন’ (قربان) শব্দ-দুটি উর্দু ও ফার্সিতে ‘কুরবানি’ (قربانى) রূপে রূপান্তরিত হয়েছে। যার শাব্দিক অর্থ ‘আত-তাকাররুবু’ (التقرب) বা নৈকট্য লাভ করা। কুরআন-হাদিসে এর কয়েকটি সমার্থক শব্দ ব্যবহাত হয়েছে। যেমন: ‘আন-নাহরু’ (النحر) তথা রক্ত প্রবাহিত করা। এই অর্থে কুরবানির দিনকে ‘ইয়াওমুন নাহর’ (يوم النحر) বলা হয়। ‘আন-নুসুক’ (النسك) তথা উৎসর্গ করা। ‘আল-আযহা’ (الاضحى) তথা কোনো কিছু ত্যাগ করা। এই অর্থে কুরবানির ঈদকে ঈদুল আযহা বলা হয়। যেহেতু কুরবানির মাধ্যমে বান্দা তার প্রভুর নৈকট্য লাভ করে, আল্লাহর সাম্মুখে ত্যাগের নমুনা পেশ করে। তাই এটাকে কুরবানি বলা হয়।

কুরবানি ইসলামি শরিয়তে কোনো নতুন বিষয় নয়।কুরবানির ইতিবৃত্ত অকাট্য দলিলাদি দ্বারা প্রমাণিত। যা খুবই প্রাচীন ও পুরোনো। এর ফযিলত ও গুরুত্বও অপরিসীম।  কুরবানির মাঝে লুকিয়ে আছে আত্মত্যাগের বিস্মৃত ইতিহাস। কুরবানির মাঝে খুঁজে পাওয়া যায় বান্দার সাথে তার মালিকের অফুরন্ত প্রেম। কুরবানিটা যেন এক আনন্দের ইতিহাস,আত্মত্যাগের ইতিহাস।সাইয়্যেদুনা ইব্রাহিম আ.-এর সফলতা ও দুষ্ট শয়তানের বিফলতার চরম সত্য ইতিহাস। অবিস্মরণীয় এক আদিম ইতিহাস। আমরা যদি ইতিহাসের প্রচীন পাতায় হানা দিই, অবশ্যই পৃথিবীর প্রথম দিকের বিষয়গুলো দেখতে পাব। দেখতে পাব আমাদের আদি পিতা হযরত আদম আ.-এর ইতিহাস। যার সাথে স্পষ্টভাবে মিশে আছে হাবিল-কাবিল। কুরবানির সূচনা এই হাবিল-কাবিল থেকেই। অপর দিকে রয়েছে আমাদের জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম আ. ও তাঁর পুত্র ইসমাইল আ.-এর আত্মত্যাগের অনুপম ইতিহাস। এতে জড়িয়ে আছে দুটো মহান ও বিস্তৃত ঘটনা।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে কুরবানির ইতিহাস ততটাই প্রাচীন যতটা প্রাচীন মানবজাতির ইতিহাস। আদি পিতা আদম আলাইহিস সালামের যুগ থেকেই কুরবানির বিধান চলে আসছে। মুলত আদম আ.-এর দুই ছেলে হাবিল ও কাবিলের বিবাহ নিয়ে সৃষ্ট মতভেদ দূর করার লক্ষ্যেই প্রথম কুরবানি করা হয়। যে ঘটনা মহাগ্রন্থ আল-কুরআনেও বর্ণিত হয়েছে।

এক :
কুরআনের ভাষায় আমরা জানতে পারি-
আদমের দুই পুত্রের (হাবিল ও কাবিলের) বৃত্তান্ত তুমি তাদেরকে যথাযথভাবে শুনিয়ে দাও। যখন তারা উভয়ে কুরবানি করেছিল, একজনের কুরবানি কবুল হলো, আর অন্যজনের কুরবানি কবুল হলো না। তাদের একজন বলল, ‘আমি তোমাকে অবশ্যই হত্যা করব।’ অপরজন বলল, ‘আল্লাহ তো মুত্তাকিদের কুরবানিই কবুল করে থাকেন।’ [সুরা মায়িদা : ২৭]

পৃথিবীর সূচনালগ্নে যখন হযরত আদম ও হাওয়া (আ.) বিস্তৃত বসুধায়  আগমন করেন এবং তাদের সন্তান-প্রজনন ও বংশ-বিস্তার শুরু হয়, তখন হাওয়া আ.-এর গর্ভ থেকে জময অর্থাৎ একসাথে একটি পুত্র ও একটি কন্যা  সন্তান জন্মগ্রহণ করত। কেবল শীশ (আ.)-এর বেলায়ই তার ব্যাতিক্রম ঘটে। কেননা তিনি একা ভূমিষ্ঠ হয়েছিলেন। তখন ভাই-বোন ছাড়া আদম আলাইহিস সালামের আর কোনো সন্তান ছিল না। অথচ ভাই-বোন পরস্পর বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ব্যাপারটা শুদ্ধ নয়। তাই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আদম আলাইহিস সালামের শরিয়তে বিশেষভাবে নির্দেশ দিলেন যে, একই গর্ভ থেকে যে যমজ পুত্র ও কন্যা জন্মগ্রহণ করবে, তারা পরস্পর ভাই-বোন হিসেবে গণ্য হবে। তাদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক হারাম। কিন্তু পূর্বে জন্মগ্রহণকারী পুত্রের জন্য পরেরবারে জন্মগ্রহণকারী কন্যা সহোদরা বোন হিসেবে গণ্য হবে না। তাদের মধ্যে পরস্পর বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া বৈধ হবে। সুতরাং সে সময় আদম (আ.) এক জোড়ার মেয়ের সাথে অন্য জোড়ার ছেলের বিয়ে দিতেন। ব্যাপারটা যদিও সহজ ছিল।

কিন্তু ঘটনাক্রমে কাবিলের সাথে যে সহোদরা জন্ম নিয়েছিল সে ছিল খুব সুন্দরী। নাম ছিল আকলিমা। কিন্তু হাবিলের সাথে যে সহোদরা জন্ম নিয়েছিল সে দেখতে অতটা সুন্দরী ছিল না। তবুও আল্লাহর সৃষ্টি মানেই সুন্দর। ধীরে ধীরে বিবাহের সময় ঘনিয়ে আসলে শরিয়তের নিয়মানুযায়ী হাবিলের সহোদরা কালো বোনটির বিবাহ হবে কাবিলের সাথে। এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিল না কাবিল। ইচ্ছা করলো তার সহোদরা বোনকেই বিয়ে করবে। তখন আদম (আ.) শরিয়তের আইনের পরিপ্রেক্ষিতে কাবিলের আবদার প্রত্যাখ্যান করতে বাধ্য হলেন এবং তাকে আল্লাহর হুকুম মানতে বললেন। কিন্তু সে মানল না। অবশেষে আদম (আ.) হাবিল ও কাবিলের মতভেদ দূর করার উদ্দেশ্যে বললেন, ‘তোমরা উভয়ে আল্লাহর উদ্দেশ্যে কুরবানি পেশ করো, যার কুরবানি গৃহীত হবে, তার সাথেই আকলিমাকে বিয়ে দেওয়া হবে।’ সে সময় কুরবানি গৃহীত হওয়ার একটি সুস্পষ্ট নিদর্শন ছিল, আকাশ থেকে একটি অগ্নিশিখা এসে যার কুরবানি কবুল করা হবে তার কুরবানিকে ভষ্মীভূত করে ফেলত। আর
তাদের মাধ্যে কাবিল ছিল চাষী। তাই সে গমের শীষ থেকে ভালো ভালো মালগুলো বের করে নিয়ে বাজে মালগুলোর একটা আটি কুরবানির জন্য পেশ করল। আর হাবিল ছিল পশুপালক। সে তার জন্তুর মধ্যে থেকে সবচেয়ে সেরা একটি দুম্বা কুরবানির জন্য পেশ করল। এরপর নিয়মানুযায়ী আকাশ থেকে অগ্নিশিখা এসে হাবিলের কুরবানিটি ভষ্মীভূত করে দিল।  আর কাবিলের কুরবানি যথাস্থানেই পড়ে রইল। অর্থাৎ হাবিলের কুরবানিই  গৃহীত হলো। কিন্তু কাবিল আসমানি সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারল না। কাবিলের দুঃখ ও ক্ষোভ আরো বেড়ে গেল। সে কিছুতেই মেনে নিতে পারল না। অতঃপর  প্রকাশ্যে তার ভাইকে বলেই ফেলল , ‘আমি  তোমাকে হত্যা করব।’

হাবিল তখন ক্রোধের বদলে ক্রোধ প্রদর্শন করলো না।বরংসাবলিল মার্জিত ভাষায় মুখে হাসির ঝিটা নিয়ে বলল, ‘আল্লাহ তো মুত্তাকির কর্মই গ্রহণ করেন। সুতরাং তুমি তাকওয়ার কর্মই গ্রহণ করো। তুমি যদি তাকওয়া অবলম্বন করলে তোমার কুরবানিও গৃহীত হতো। তুমি তা করোনি, করেছো তার উল্টা।তাহলে কিভাবে কবুল হবে! 
 অতএব এতে আমার দোষ কোথায়?..... [তথ্যসূত্র : তাফসির ইবনু কাসির ও ফাতহুল কাদির]

কুরআনে বর্ণিত হাবিল ও কাবিলের কুরবানি করার এই অবিস্মরণীয় ঘটনা থেকেই মূলত কুরবানির ইতিহাসের গোড়াপত্তন হয়েছে।আর এটাই হলো সত্য ও বাস্তব ঘটনা।যা কুরআনুল কারিমে সোনার হরফে খচিত আছে।এই ঐহিতাসিক ঘটনার ধারাবাহিকতায়  হযরত ইব্রাহিম (আ.) অবধি চলেছিল কুরবানির এই নিয়ম।কিন্তু বর্তমানে আজ আমরা যেই কুরবানী করছি, এই কুরবানীর প্রেক্ষাপট সাইয়্যেদুনা হযরত ইব্রাহীম আ.ও তার কলিজার টুকরা পুত্র হযরত ইসমাইল আ.এর কালজয়ী আত্মত্যাগের ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত।

দুই :
আমাদের উপর যে কুরবানির বিধান এসেছে তা হযরত ইবরাহীম (আঃ) এর আত্মত্যাগের ঘটনারই স্মৃতিবহ। ইবরাহীম (আঃ) আল্লাহর রাহে যে কুরবানি করেছেন পৃথিবীর ইতিহাসে তা দৃষ্টান্তহীন। আজ থেকে প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগের কথা।এক রাতে স্বপ্নাদৃষ্ট হলেন আল্লাহর প্রিয় খলিল হযরত ইবরাহীম (আঃ) কুরবানি করতে। তিনি পশু কুরবানি করলেন একটির পর একটি। কিন্তু সে কুরবানি তার প্রতিপালকের নিকট মনোমত হলো না।

হযরত ইবরাহীম (আঃ) বুঝতে পারলেন এমন বস্তু কুরবানি করতে যা স্বীয় কাছে সবচেয়ে  প্রিয়। কী সেই প্রিয় জিনিস? তার কাছে সবচেয়ে প্রিয় বস্তু স্বীয় পুত্র ইসমাঈল ছাড়া কিছুই না। তবে কি তার মহান প্রভু ইবরাহীম ও হাজেরার পরম আদরের সন্তান ইসমাইলকে শেষ করে দিতে  চান? না,কখনই হতে পারে না। আল্লাহর আদেশ ছিল অতি স্পষ্ট।
সন্দেহেরও কোন অবকাশ ছিল না । হযরত ইবরাহীম (আঃ) এই আদেশ পেয়ে কিছুতেই বিভ্রান্ত হলেন না।একটু বিস্মৃতও হলেন না।বরং নির্দিধায় হাঁসিমুখে হৃদয়ের স্পন্দন কলিজার টুকরা প্রিয় পুত্র ইসমাঈলকে আল্লাহ হুকুম জানালেন, পুত্র ইসমাঈল প্রস্ফুট কন্ঠে বাবার স্বপ্নের জবাবে বললেন, “হে আমার প্রিয় পিতা, আপনি যা আল্লাহর পক্ষ থেকে আদিষ্ট হয়েছেন তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আপনি পালন করুন। ইনশাল্লাহ্ আপনি আমাকে ধর্য্যশীলদের কাতারে পাবেন।” (সুরা সাফ্ফাত ১০২)

হযরত ইবরাহীম (আঃ) ও প্রিয় পুত্র ইসমাঈল (আঃ) উভয়েই আল্লাহর হুকুম পালনে দৃঢ়  হলেন। মা হাজেরাও স্বেচ্ছায় নাড়িছেড়া ধন  আদরের সন্তানকে  সাজিয়ে দিলেন।শেষ গছল দিয়ে দিলেন।অশ্রুসজল হাসউজ্জল মুখে বিদায় দিয়ে জান্নাতের রাহে রওনা হতে বললেন।রওনা হলেন মরুভুমির পথ ধরে। প্রিয় বাবার হাতের আঙ্গুল ধরে বাবার শরীরের ছাঁয়ায় হাঁটছেন মনের আনন্দে ছোট্ট শিশু ইসমাঈল।না আছে মনে ব্যাথা।না আছে বিরহ যাতনা।মুখে শুধু জান্নাতী হাঁসি। এ পথ ধরে যেন ইসমাঈল জান্নাতের পথে হাঁটছে...সত্যি। যদিও বিশ্বাস করতে গেলে ভাবনার টনক নড়ে যায়।তবুও চিরসত্য মহাগ্রন্থের বর্ণনা।

পিতা-মাতা ও পুত্রের  এই কঠিন ত্যাগ ও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার দৃষ্টান্ত পৃথিবীর ইতিহাসে এটাই প্রথম।নজিরহীন বিস্মৃত দৃষ্টান্ত।সত্যি!  ভাবতেও অবাক লাগে।কিভাবে সম্ভব এটা।তবুও চিরসত্য।এটাই বাস্তব।

মরুভুমির আঁকা বাঁকা পথ বেয়ে  হাঁটছেন বাবা ও সন্তান।এ যেন এক মহান পরিক্ষার দিকে পাঁ বাড়াচ্ছেন।যতই সামনের দিকে এগিয়ে  যাচ্ছে ততই যেন পরিক্ষা কঠিন হতে চলছে।চলতে... চলতে পৌঁছে গেলেন  মিনায় (বর্তমান হাজীদের কুরবানির স্থান)।এটাই ছিল তাদের গন্তব্যস্থল।যবাহের মাকান।

হযরত ইব্রাহিম আর দেরি করতে চাইলেন না। না জানি, কোন শয়তান এসে আবার বাঁধার মুখে ফেলে দেই! আদরের পুত্র ইসমাঈলকে উপুড় করিয়ে  শুরু করে দিলেন যবেহ....ছুরি চালাচ্ছেন শক্তির উপর ভর দিয়ে চালাচ্ছেন ধারালো ছুরি।কিন্তু ছুরি যেন চলছে না ।বারবার চেষ্টা করেই যাচ্ছেন।তবুও যেন সামনে এগুচ্ছে না ছুরি। কে যেন টেনে ধরছে, ধারালো নাঙ্গা তলোয়ার!  এ যেন খোদার মহান কুদরত।তা ছাড়া কারইবা এত ক্ষমতা।চলছে ঈমানি পরিক্ষা। চলছে খোদার প্রতি ভালোবাসার কঠিন পরিক্ষা। আত্মত্যাগ ও মহান মালিকের ভালোবাসায় সিগ্ধ হয়ে নবী ইব্রাহিম আ. যখন প্রিয় পুত্র ইসমাইলকে কুরবানি করতে গেলেন,, সাথে সাথেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাদের  আনুগত্যে সন্তুষ্ট হয়ে কবুল করে নিলেন তাদের মনের কুরবানী।সফল ব্যাক্তিবলে ঘষোণা দিলেন পবিত্র কুরআনে। আরো দিলেন তাদের  আনুগত্য ও কর্তব্য পরায়ণতার পুরস্কার স্বরূপ মোটা তাজা জান্নাতী  পশু (দুম্বা)।যেই দুম্মাটাই পুত্রের পরিবর্তে জবাই করার হুকুম প্রদান করলেন।সম্পূর্ণ হলো পিতা-মাতা ও পুত্রের ঈমানি পরিক্ষা ও পশুর করবানি।

তাই সে প্রাচীনতম সময় থেকেই  ইবরাহীম (আঃ) ও তার পুত্র ইসমাঈল আ. এর কুরবানি দেয়ার এ অবিস্মরণীয় ঘটনাকে  প্রাণবন্ত ও চিরস্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্যেই উম্মতে মোহাম্মদীর উপর প্রত্যেক মুকিম,আকেল,বালেগ,ও মৌলিক প্রয়োজন এবং ঋণ ব্যতিত নেছাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারী মুসলমানের উপর এই গুরুত্ববহ ও তাৎপর্যপূর্ণ ইবাদত কুরবানীকে  ওয়াজিব করেছেন। সেই থেকে সারা বিশ্বে ঈদুল আযহা বা কুরবানির ঈদ উদ্যাপিত হয়ে আসছে। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতিতে ঈদুল আযহা তথা কুরবানি এক ঐতিহ্যময় স্থান দখল করে ছিল,আছে, থাকবে ইনশা আল্লাহ।

কুরবানির ঐতিহ্য বা ইতিহাসের বাস্তব ও সত্য ঘটনাপ্রবাহ এটাই।যা পবিত্র কুরআনুল করিমে ও হাদীছে পাকের মধ্যে সুস্পষ্ট বর্ণণা পাওয়া যায়। আল্লাহ রব্বুল আলামীন আমাদের সকলকে স্বীয় জান-মাল,ইজ্জত-সম্মান,জীবন-মরণ, তার হুকুমের সামনে সমার্পন করার তৈফিক দান করুন।আমিন।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ৩০ জুলাই, ২০২০ / ডালিম

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন