আজ বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০ ইং

পুলিশ কেন ভালো হবে?

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-০৯-৩০ ১৯:৫৪:৪৪




|| মো. মইনুল ইসলাম পারভেজ ||

কিছুদিন আগের কথা। করোনার ভয়ে তখন সবাই অনেকটা চুপসে গিয়েছিলো; অফিস-আদালত স্কুল-কলেজ সবকিছুই বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো বলা চলে। সারাদেশে তখন এমন একটা পরিস্থিতি হয়েছিলো যে, মা অসুস্থ হওয়ায় ভয় পেয়ে আপন ছেলে তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে গিয়েছিল। করোনা ভাইরাস যাতে নিজের বা নিজের পরিবারের কারো ক্ষতি না করতে পারে সেজন্যে এদেশের দেশপ্রেমিকরা কয়েক মাসের বাজার-সদাইটাও একসাথে করে ফেলেছিলেন। এছাড়া দ্রব্যমূল্যের কথা তো আর নাই-বা বললাম। ঠিক সেইসময়ে যখন সবার ছুটি ছিলো, সবাই যখন ঘরে থাকুন নিরাপদ থাকুন ট্যাগ লাগাচ্ছিল, তখন কিন্তু এই পুলিশ সদস্যরাই ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক, ঘরে বসে থাকতে পারেনি। তাদের ছোট্ট সোনামনি ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা তারা তখন ভাবতে পারেনি। তারা কিন্তু অপরাধী, চোর-ডাকাত বা যে কাউকে জড়িয়ে ধরতে গেলে ভাবতে পারেনি ইনি করোনা আক্রান্ত কিনা!! পুলিশ এই ২৪ ঘন্টা সেবার জন্য কোন প্রকার প্রনোদনা পাওয়ার জন্যও বসে ছিলো না তখন। এতে জীবনও গিয়েছে অনেকেরই। ফলাফল, এটা একজন পুলিশ সদস্যের কর্তব্যমাত্র, এই প্রথম সে তার নিজের দায়িত্ব পালন করছে (জনমন্তব্য)। (অথচ, যারা এই কথাগুলো বলছিলো তারা পারলে তখন নিজে স্যানিটাইজার দিয়ে গোসল করে!)

সম্প্রতি, এমসি কলেজের একটি অপ্রীতিকর ও কলংকিত ঘটনায় যখন ছাত্রনেতাদের নাম আসলো তখন বারবার কিছু মহল বলে উঠলো এই নবাবজাদাদের ধরাই হবে না। তাদের কেউ কিছু করতে পারবে না। অথচ, দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি ও সোর্স ব্যবহার করে পুলিশ যখন আসামীদের গ্রেফতার করতে সমর্থ হলো তখন আবার কথা উঠলো যে- এদের বিচার তো হবে না!

ভাই!! বিচার করা পুলিশের দায়িত্ব না!! আপনারা আগুন ধরলে পুলিশ ডাকেন, জামাই-বউয়ের ঝগড়া ভাঙ্গাতে পুলিশ ডাকেন, হটলাইনে ফোন দিয়ে মেকআপ বক্স হারিয়ে গেছে এইরকম অভিযোগ করেন। আপনারা কি আদৌ জানেন পুলিশের ডিউটি বা তার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে? আর আপনারা যে সবকিছু রেডিমেড চান, আপনারা নিজে একবার দায়িত্ব নিয়ে দেখুন না, তাহলেই বুঝবেন।

আজ থেকে ১২-১৫ বছর আগে আপনি কয়জন পুলিশের কাছে গিয়ে বুক ফুলিয়ে কথা বলতে পারতেন? বন্ধুর মতো হতে পারতেন? আর এখন আপনি কয়জনের সাথে পারছেন?   আপনি বিশ্বাস করেন আর নাইবা করেন এটাই সত্য যে এই দেশের মূল্যবোধ, শিষ্টাচার ও মানবিকতায় পঁচন যতোটা বেড়ে চলেছে সেই হিসেবে বর্তমানে পুলিশিং ব্যবস্থায় আগের চেয়ে অনেক অনেক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু আপনারা তো আজ বিরিয়ানি দিলে সেজন্য ধন্যবাদ না দিয়ে ১০ মাস আগে পান্তাভাত খেয়েছিলেন সেই খোটাই দিবেন! মানে ভালো যে কোন কাজকে অন্য কোন ইস্যু দিয়ে ঢেকে দিবেন। যেন ভালো কাজের প্রশংসা করলে আপনার এইডস হয়ে যাবে!!

পুলিশকে গালি দিতে পছন্দ করেন না এমন লোকের সংখ্যা খুব কমই পাওয়া যাবে; কিন্তু, পুলিশ কোন ভালো কাজ করলে তাকে ভালো কাজের জন্য অনুপ্রাণিত করার লোক কয়জন পাওয়া যাবে বলুন? মানুষ থেকে যেহেতু পুলিশের সৃষ্টি তাই এই বাঙালীরা যেখানে এতো এতো পাপাচার রোগে আক্রান্ত সেখানে সকল পুলিশকে সৎ পেতে আপনারওতো একটু এগিয়ে আসতে হবে, ধৈর্য্য ধরতে হবে।

ভালো করলে ভালো বলুন, খারাপ করলে খারাপ বলুন কিন্তু ভালোকে খারাপ দিয়ে ঢেকে দিবেন না। পুলিশ আপনার মতোই মানুষ, তাই তার ভালোতেও আপনি খারাপ খুঁজলে সে কিভাবে ভালো করার প্রেষণা পাবে বলুন। আর এদেশের পুলিশের সংখ্যা জনসংখ্যা অনুসারে কম হওয়ায় এমনিই চাপ অনেক বেশি।

আরেকটা কথা, পুলিশকে পকেটে রাখার চর্চাটা বাদ দিন। আমাদের দেশের অধিকাংশ জনগণ পুলিশকে পকেটে রাখতে বড্ড পছন্দ করেন। ব্যাপারটা এমন যে কথা শুনলে আপন ভাই, আর না শুনলে সৎ ভাই।

পুলিশকে জনতার হতে দিন, আপনার পকেটের নয়।

লেখক: কর্মকর্তা, ক্রাইম এনালাইসিস এন্ড ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (সিআইএইউ), সিআইডি, ঢাকা
(মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব)

@

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন