আজ শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০ ইং

সুনামগঞ্জে হাওরের ফসল রক্ষাবাঁধ নির্মাণ

১১ কিলোমিটারে টাকা বেড়েছে ৬ কোটি

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-০১-২২ ০৯:৫১:২২

শহীদনূর আহমেদ, সুনামগঞ্জ ::  দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে গত অর্থ বছরের চেয়ে এবার  ১১ কিলোমিটার দৈঘ্যের বেড়িবাঁধ বাড়লেও এর নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে ৬ কোটি টাকা। যা কাজ অনুপাতে অধিক বলে দাবি সংশ্লিষ্ট হাওর পারের কৃষক ও হাওর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের । বিগত বছরের অক্ষত বাঁধে পুনরায় প্রকল্প গ্রহণ ও অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকার অপচয়সহ নামকাওয়াস্তে কাজের মাধ্যমে ব্যপক দুর্নীতির আশঙ্কা করেছেন তারা। তাই নতুন করে মাঠ জরিপের মাধ্যমে প্রকল্পে বরাদ্দ প্রদান ও অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাতিলের দাবী জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত বছর দক্ষিণ সুনামগঞ্জের দেখার হাওর, খাই হাওর, জামখলার হাওরসহ বিভিন্ন হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় ৪২টি পিআইসির মাধ্যমে ৩৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের জন্য ৩ কোটি ৪০ টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। যার ফলে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই নিরাপদে বোরো ধান ঘরে তুলতে পেরেছিলের সংশ্লিষ্ট হাওরের কৃষকরা। কিন্তু এবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নানা অজুহাত দেখিয়ে গত বারের চেয়ে ৮টি পিআইসি বাড়িয়ে অধিক বরাদ্দ বাগিয়ে নিয়েছেন জনপ্রতিনিধিসহ পিআইসির দায়িত্বশীলরা। এবার ৫০ টি প্রকল্পে ৪৯ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। যার নির্মাণ ব্যয় গত বছরের চেয়ে তিনগুন। মাত্র ১১ কিলোমিটার বাঁধ বাড়িয়ে গত বছরের চেয়ে ৬ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা অযৌক্তিক ও বাস্তব সম্মত নয় বলে দাবি হাওর বিশ্লেষকদের।

সড়ে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের মহাসিং নদীর দুই পাশে জয়কলস, পশ্চিম পাগলা, পূর্ব পাগলা, পূর্ব বীরগাঁও ও পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নে ৩টি হাওরে প্রায় ৩০টির মতো  পিআইসি গঠন প্রায় ৫  কোটি টাকার বেড়িবাঁধের কাজ চলমান রয়েছে। এসব অধিকাংশ পিআইসির বরাদ্দকৃত কাজে গত বছর পিআইসি গঠন করে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। যা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত নয় অক্ষত রয়ছে। পুন সংস্কারের জন্য নামমাত্র বরাদ্দ হলেই হাওরের ফসল সুরক্ষা পাবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট হাওরের কৃষকরা। অথচ এই সকল পিআইসিতে গত বছরের সমান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। গড়ে ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পূর্ব পাগলা ডাবর ব্রীজের কাছে মহাসিং নদীর ১১ নং প্রকল্পে ২০ লাখ ৮২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে । গতবছর এই স্থানে প্রকল্প ছিল। যার নির্মাণ ব্যয় ছিল ২০ লক্ষ টাকার অধিক। গত বছরের নির্মাণকৃত বাঁধ এখনও দৃশ্যমান রয়েছে । কেবল একটি ভাঙ্গাবন্ধকরণ ও বাঁধ পুন সংস্কারের জন্য কয়েক লাখ টাকা বরাদ্দ দিলেই  চলত। ঠিক একই ভাবে ১২ ও ১৩ নং প্রকল্পের স্থলে গত বছর বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। এবছর কিছুটা সংস্কারের প্রয়োজন বলে জানান কৃষকরা। অতচ ১২ নং ১৬ লাখ, ১৩ নং পিআইসিতে সাড়ে ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা অতিরিক্ত বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। এর বিপরীত পাশে পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নে বাঁধ পুরোপরি অক্ষত থাকলেও কোনো কারণ ছাড়াই ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জয়কলস ইউনিয়নে মহাসিং নদীর দুপাশে দেখার হার সুরক্ষায় গত বছর যে যে বাঁধে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল এবছর  প্রায় সকল স্থানেই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এসব অক্ষত বাঁধে সংস্কার কাজের প্রয়োজন হলেও বরাদ্দ দেয়া হয়েছে লাগামহীন। ১৪ নং পিআসিতে ২৪ লাখ ৫৭ হাজার, ১৬ নং পিআসিতে ২৩ লাখ ৩২ হাজার, ১৭ নং পিআইসিতে ২৪ লাখ ৬৭ হাজার, ১৯ নং পিআইসিতে ২৩ লাখ ৮৯ হাজার, ২০ নং পিআইসি ২৩ লাখ ১৬ হাজার, ২১ নং পিআইসিতে ২২ লাখ ৮১ হাজার, ২২ নং পিআইসিতে ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা অতিরিক্ত বলে দাবি সংশ্লিষ্ট হাওর পারের কৃষকদের। একই ভাবে দরগাপাশা, পূর্ব বীরগাঁও ও পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নে অনুমোদিত প্রকল্পে অধিক বরাদ্দ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। রয়েছে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের অভিযোগও। এইভাবে পরুনো কাজে পুনরায় পিআইসি গঠন ও অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করে গত বছরের চেয়ে তিনগুন টাকা বরাদ্দ দেয়ায় বিপুল পরিমাণ সরকারি টাকার অপচয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, ২০১৭ সালের কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ি বিগত বছরগুলোতে দক্ষিণ সুনামগঞ্জে অসংখ্য বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। যা এখনও অক্ষত রয়েছে। গত বছরের বাঁধগুলোতে সংস্কারের জন্য দুইতিন কোটি টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন। অতচ এবার ৫০টি প্রকল্প গ্রহণ করে ৯কোটি ৪৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে তিনগুন। এইভাবে সরকারের বিপুল পরিমাণ টাকা অপচয় করার শঙ্কা দেখছি আমরা। তাই মাঠ জরিপ করে পুনরায় বরাদ্দ দেয়ার দাবি তার।

এ ব্যাপারে উপজেলা বাঁধ নির্মাণ কমিটির সভাপতি দক্ষিণ সুনামগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেবুন্নাহার শাম্মী বলেন, হাওরের ফসলের সুরক্ষা টেকসই বাঁধ নির্মাণের স্বার্থে এসব প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। শেষবারের মতো এই বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/২২ জানুয়ারি ২০২০/শহীদনূর/মিআচৌ 

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন

সাম্প্রতিক সুনামগঞ্জ খবর

  •   ছাতকে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে জগেশ কারাগারে
  •   সুনামগঞ্জে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা, বখাটে রবিন গ্রেফতার
  •   ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ প্রতিবাদ সমাবেশ
  •   ম্যালেরিয়া নির্মূলে অবদান রাখায় ছাতক-দোয়ারা স্বাস্থ্য বিভাগকে সম্মাননা
  •   দক্ষিণ সুনামগঞ্জে নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত
  •   দক্ষিণ সুনামগঞ্জে দুর্গাপূজা উপলক্ষে পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুদান প্রদান
  •   ছাতকের ৩৬ মন্ডপে শুরু হয়েছে শারদীয় দূর্গোৎসব
  •   দোয়ারাবাজার সরকারি টেকনিক্যাল কলেজের কাজের অগ্রগতি নেই
  •   জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান বিএনপি প্রার্থীর
  •   দোয়ারাবাজারে জমি নিয়ে সংঘর্ষে আহত ২