আজ বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০ ইং

করোনাভাইরাস: দক্ষিণ সুনামগঞ্জে অতিরিক্ত দামে চাল বিক্রি

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-০৩-২৬ ২০:৫৫:০১

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: করোনাভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে অতিরিক্ত মূল্যে চাল বিক্রি করা হচ্ছে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের  বিভিন্ন বাজারে।

বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরী করে বস্তা প্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা অতিরিক্ত মূল্যে খাবার চাল কিনতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের। অসাধু ব্যবসায়িদের সিন্ডিকেটে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।

লকডাউন অবস্থায় একদিকে যেমন কাজ পাচ্ছেন না নিম্ন আয়ের মানুষরা অপরদিকে চালের অতিরিক্ত মূল্য মরার উপরে খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা যায়, ভাইরাস আতঙ্কের সুযোগে প্রকাশ্যে দিবালোকে অতিরিক্ত মূল্য চাল বিক্রি হলেও বাজার নিয়ন্ত্রণে বিহীত ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি সংশ্লিষ্টদের। চালের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে উপজেলা প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সাধারণ ভোক্তারা।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা যায় চালের দাম বৃদ্ধি হালচিত্র। দুপুরে উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের বীরগাঁও বাজারে গিয়ে ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মিল ও খুচরা বিক্রেতারা বস্তা প্রতি ২৮ জাতের চাল বিক্রি করছেন ২২০০ থেকে ২৪০০ টাকায়। বস্তা প্রতি ১৯০০ থেকে ২১০০ টাকায় বিক্রি করছেন মোটা জাতের চাল।
সিন্ডিকেট তৈরী করে এইভাবে অতিরিক্ত মূল্যে চাল বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন ক্রেতা।

লিটন নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, করোনাভাইরাসের সুযোগে কোনো কারন ছাড়াই অতিরিক্ত দামে চাল বিক্রি করছেন ব্যবসায়িরা। দাম বৃদ্ধির ফলে আমরা সাধারণ মানুষরা বিপাকে আছি। অনেকেই বেকার অবস্থায় বাড়িতে আছেন। চালের মূল্য বৃদ্ধি রাখায় সমস্যায় পড়েছেন তারা। বিকালে উপজেলার সর্ববৃহৎ বাজার পাগালা বাজারে গিয়ে কয়েকটি চালের দোকান ঘুরে ও সাধারণ ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায় ৫০ কেজি ২৮ জাতের চাল ২১০০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। কোনো কোনো সময় ২৪০০ টাকা মূল্য রাখতেও দ্বিধা করছেন না কিছু কতিপয় ব্যবসায়িরা। চালের অতিরিক্ত মূল্য সাধ্যের বাহিরে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন। বেকার অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করা এসব মানুষদের জন্যে ১ কেজি চাল কেনা হয়ে পড়েছে সোনার হরিণ কেনার মতো।

দ্রুত সময়ের মধ্যে বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে না আসলে দুর্ভোগের মাত্রা বাড়তে থাকবে বলে জানান স্থানীয়রা।

জাহিদুল নামে স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, করোনাভাইরাসের সময় ব্যবসায়িরা মানবিক না হয়ে চালের দাম বৃদ্ধি করে অতিরিক্ত মুনাফা লাভ করছেন। যা অন্তত দুঃখজনক।

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে জরুরী ভিত্তিতে বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা জরুরী বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেবুন নাহার শাম্মী বলেন, ব্যবসায়িরা যাতে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি না করেন সেই ব্যাপারে ব্যবসায়ি নেতৃবৃন্দের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যারা অতিরিক্ত মূল্য রাখছেন তাদের ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে জরিমান করা হচ্ছে। বাজার তদারকি করতে পুলিশকে বলা হয়েছে।  অসাধু ব্যবসায়িদের আইনের আওতায় আনা হবে। 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/২৬ মার্চ ২০২০/এসএনএ/এসডি

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন