আজ বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০ ইং

দোয়ারাবাজার উপজেলা চেয়ারম্যানকে নি:শর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-১০-২০ ১৭:১৪:০৮

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি :: নিজ দলীয় সরকার, প্রশাসন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বারদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত বক্তব্য প্রদানে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুর রহিমকে নি:শর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি অব্যাহত রয়েছে সভা সমাবেশ।

ফুঁসে উঠেছেন এমপি সমর্থকসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার বিকালে উপজেলার ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান নুর উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক ও ছাত্রনেতা শাহাদাত হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এ দাবি জানানো হয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন, ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক মনোয়ার আলী মনর, মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দেক আলী, আ’লীগের ওয়ার্ড সভাপতি সানুর আলী, আ’লীগ নেতা আব্দুল করিম, মরম আলী প্রমুখ। এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় নরসিংপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি নুর উদ্দিনের উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় চেয়ারম্যান নুর উদ্দিনসহ বক্তারা নিজদলীয় এমপি, সরকার, প্রশাসন ও তিনিসহ সকল চেয়ারম্যান-মেম্বারদের নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ডা. আব্দুর রহিমের বিতর্কিত বক্তব্য প্রদানের জন্য দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে নি:শর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।

এদিকে ১৫ অক্টোবর উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক ফরিদ আহমদ তারেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান ডা. আব্দুর রহিমের বিতর্কিত বক্তব্যে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ায় তার কঠোর সমালোচনা করেন। সভায় ক্ষমতাসীন দলের হাই কমান্ডসহ সকলের প্রতি উপজেলা চেয়ারম্যানকে প্রকাশ্যে নি:শর্ত ক্ষমা চাইতে জোর দাবি জানান বক্তারা। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে ‘টক অব ছাতক-দোয়ারাবাজার’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ উপজেলা চেয়ারম্যানের বিতর্কিত বক্তব্য প্রদানের পর গত ১৪ অক্টোবর বুধবার উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে আকস্মিক উপজেলা চেয়ারম্যান ডা. আব্দুর রহিম উপস্থিত হয়ে তুমুল হট্টগোলের মধ্য দিয়ে তার দেয়া বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য দূ:খ প্রকাশ করেন। এসময় উত্তেজিত পরিস্থিতি আপাতত কিছুটা শান্ত হলেও পরবর্তীতে তা আবার চাঙ্গা হয়ে উঠে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের টেংরাটিলায় বয়স্কভাতা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে নিজ দলীয় সংসদ সদস্য, সরকার, প্রশাসন ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের বিরুদ্ধে বিতর্কের জন্ম দেন ক্ষমতাসীন দলের উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ডা: আব্দুর রহিম। তার ওই বক্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ ফেসবুকে ভাইরাল হলে ছাতক-দোয়ারাবাজার দুই উপজেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, ‘আপনারা রাস্তাঘাটের কথা বলছেন, আমার নাতি সাক্ষি, প্রত্যেকটা উপজেলা মিটিংয়ে আমি স্পষ্ট বলছি, আপনি এমপি মানিক, অন্তত আমরার দুটি রাস্তা ঠিক করে ৬ ইউনিয়নকে উপজেলা পরিষদে আনার ব্যবস্থা করে দিন, উনি কোনো কথা রেসপন্স করেননি। সম্প্রতি ২০ কোটি টাকার থোক বরাদ্দ আসলে স্থানীয় এমপি মহোদয়ের কাছে ছদকায়ে জারিয়া হিসাবে আমার উপজেলার উন্নয়নকাজে কিছুটা বরাদ্দের দাবি জানালে তিনি নিশ্চুপ থাকেন। যদি ভোটের এমপি হতেন তাহলে জনগনের কাছে দ্বায়াবদ্ধ থাকতেন। তাই আ’লীগ সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন ভোট দিলেও এমপি, না দিলেও এমপি থাকবেন মুহিবুর রহমান মানিক। এসময় নরসিংপুর ইউনিয়নকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ফকিন্নীর পুতরা চেয়ারম্যান মেম্বারিতে কেনো আসবে।’ এসময় বিতর্কিক অনেক কিছুই বলে ফেলেন তিনি। তার ওই বক্তব্যের ফুটেজ ভাইরাল হলে বিরোধী দলীয়রা তাকে ধন্যবাদ জানালেও ছাতক-দোয়ারাবাজারসহ সমগ্র জেলাজড়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী, সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা ও বিদ্রোহের ঝড় বইছে।

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুর রহিম জানান, ‘আমার বক্তব্যে আমাদের নিজেদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। তা নিস্পত্তি হয়েছে। এর বাইরে আমার আর কোনো বক্তব্য নেই।’


সিলেটভিউ২৪ডটকম/২০ অক্টোবর ২০২০/টিআই/এসডি

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন